Daily
জলের ওপর ভাসছে বাড়ি। সেই বাড়িতে কয়েকদিনের ঠাঁই, নিশ্চিন্দির। যদি ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির মাঝে, মন্দ লাগবে না। অন্তত এমনটাই মনে করছেন বাড়ির মালিক রূপেশ কুমার মল্লিক। শিলিগুড়ি শহর থেকে একটু দূরে নকশালবাড়ি ব্লকে। আপাতত এই ভাসমান বাড়িই বেশ হইচই ফেলে দিয়েছে স্থানীয় এলাকায়।
শিলিগুড়ি শহর থেকে অল্প দূরে নকশালবাড়ি ব্লকে তৈরি হয়েছে ভাসমান হোম স্টে। সত্যি বলতে গেলে, উত্তরবঙ্গে এমন বাড়ি আর কোথাও পাবেন না। খরচ হয়েছে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। রয়েছে রেস্তোরাঁ। আসলে এই ধরণের ইউনিক কনসেপ্ট মাথায় আনার জন্য রূপেশ কুমার মল্লিককে ভালো কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। ইন্টারনেটের জমানা আজকাল। নেট মাধ্যমেই তিনি জলের ওপর ভাসমান বাড়ি দেখেছিলেন। আইডিয়াটা বেশ অন্যরকম ঠেকে। তারপর সিদ্ধান্ত নেন, তিনিও এভাবেই ভাসমান বাড়ি বানাবেন। প্রকৃতির মাঝে নির্জনে এই ভাসমান হোম স্টে-তে থাকার লোভ কোন পর্যটক এড়াতে পারবেন না। আর সেই আশাতেই বাড়ি তৈরির ব্লু প্রিন্ট তিনি তৈরি করে নেন। নিজের কারিগরি বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে জলের ড্রাম দিয়ে তার ওপর প্ল্যাঙ্কিং বসিয়ে আস্ত একটা বাড়ি তৈরি করে ফেলেন রূপেশ। খরচ পড়ল প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা। আর শুধু বাড়ি হলেই তো হল না। সঙ্গে প্রয়োজন খাওয়া-দাওয়া। সেই হিসেবে অবশ্যই রয়েছে মল্লিক রেস্তোরাঁ। যেখানে পর্যটকরা পাবেন অর্গানিক খাবার। চাইলে পুকুর থেকে মাছ ধরে সেই মাছ রান্না হয়ে উঠতে পারে আপনার পাতে। এখন খুব একটা বেশি পর্যটকদের পা না-পড়লেও রূপেশ মল্লিক মনে করেন, তাঁর এই প্রচেষ্টা ভালোভাবেই সফল হবে, অদূর ভবিষ্যতে। কী বলছেন তিনি এই বিষয়ে, শুনে নেওয়া যাক।
সম্প্রতি এই ভাসমান হোম স্টে-তে থাকতে এসেছিলেন এক স্থানীয় পর্যটক রিয়া রায়। প্রকৃতির মাঝখানে এমন একটি বাড়িতে থাকার বিষয়টা তিনি বেশ উপভোগ করেন। ভাসমান হোম স্টে, তার সঙ্গে পেট ভরে খাওয়া দাওয়া। একদিনের আউটিং যেন জমে যায়।
বলাই বাহুল্য, জলের ভাসমান হোম স্টে উত্তরবঙ্গের বহু মানুষকেই বেশ অবাক করে দিয়েছেন। এখনো সেভাবে প্রচারের আলোয় না-আসলেও পর্যটকদের মুখে মুখে ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে ভাসমান হোমস্টের কথা। যারা আসছেন, তাঁরাও বেশ উপভোগ করছেন। সঙ্গে জানাচ্ছেন, যারা আগে আসেন নি, তাঁরা যেন একবার অন্তত ঘুরে যেতে পারেন এখানে। ভাসমান বাড়িতে থাকতে বেশ ভালোই লাগবে। তাই ভিড় বাড়ুক পর্যটকদের। আপাতত সেই আশাতেই বসে রয়েছেন রূপেশ কুমার মল্লিক।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি