Story

বাহারি ফুলের বাহারে তাক লেগে যাবে চোখে। যদি পা পড়ে এখানে। চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, গাঁদা, গোলাপ, জবা। কী নেই এখানে। যেন ফুলের চাঁদের হাট বসাল বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আর সেই ছবি কেন, কী কারণে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করল সেটাই তুলে ধরলেন আমাদের প্রতিনিধি। আর কোন কথা নয়। দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ডৌরি খামারে বাহারি ফুলের মেলার হাট।
ফুল চাষের সার্বিক প্রসার ও উন্নয়নে পথ দেখাচ্ছে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্ডৌরি খামারে এআইসিআরপি-ফ্লোরিকালচারের অধীনে চলছে এক মহা কর্মকাণ্ড। চলছে বিভিন্ন ফুলের জার্মপ্লাজম মেইনটেইন করার কাজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফুলের জাত নিয়ে এসে এখানে সংরক্ষণ করা হয়। চলে গবেষণা। তারপর প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং শেষে বাণিজ্যিকভাবে সফল জার্মপ্লাজম বা চারা এই সেন্টার থেকে তুলে দেওয়া হয় উদ্যানপালকদের হাতে।
এই কেন্দ্রে ২২২ ধরণের চন্দ্রমল্লিকা। ৪৫টি জাতের রজনীগন্ধা। ১৮৯টি জাতের গোলাপ। ৪৫টি গ্ল্যাডিওলাসের জাত। ২০ থেকে ২২ ধরণের গাঁদার জাত। ৬০ থেকে ৬২টি জাতের ডালিয়া এবং ৫০টি জাতের জবা এখানে মেনটেন করা হয়। বর্তমানে সারা ভারতবর্ষের মধ্যে রজনীগন্ধা এবং ডালিয়া ফুলের লিড সেন্টার হয়ে উঠেছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রকল্পটি। শুধু রাজ্যের কৃষকদের জন্যই নয়। এখানকার সংগৃহীত জার্মপ্লাজম ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশের এ আইসিআরপি ফ্লোরিকালচার সেন্টারগুলিতে। একইসঙ্গে এখানে চলে কৃষকদের প্রশিক্ষণ। সঙ্গে কিভাবে ভালো নার্সারি তৈরি করা যায় সেই বিষয়েও দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ।
নদীয়ার বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই চাষিভাইদের পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। সেই উদ্যমে ভাটা পড়েনি আজও। সেই ছবিটা স্পষ্ট হল এই ফ্লোরিকালচার প্রকল্পটির দিকে তাকালে। ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের পথচলা। তার পর থেকে সমান তালে কাজ করে চলেছে এই সেন্টার। আতমা, ন্যাশনাল হর্টিকালচার মিশনের বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত কৃষকদের এখানকার প্রদর্শনী ক্ষেত্র দেখিয়ে হাতে কলমে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। এমনকি উৎসাহী উদ্যানপালকদের জন্য সবসময় খোলা থাকে এই কেন্দ্র। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, ফুল চাষের উন্নয়নে ও প্রসারে আজ ফুল চাষীদের পথ দেখাচ্ছে এই সেন্টার।
সুব্রত সরকার
নদীয়া