Story

বাংলা তথা গোটা দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ কৃষি। সাক্ষী রয়েছে ইতিহাস। তাই বাংলা তথা উপমহাদেশের এই কৃষি অর্থনীতিকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিতে গত ৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার তাজ বেঙ্গলে আয়োজিত হল রাজ্য ঋণ সেমিনার। সেমিনারের উদ্যোক্তা ছিল কৃষি ও গ্রামোন্নয়নের পথিকৃৎ নাবার্ডের ওয়েস্ট বেঙ্গল রিজিওনাল অফিস। এদিন সেমিনারের মুখ্য বিষয় অর্থাৎ পোটেনশিয়াল লিংক ক্রেডিট স্টেট ফোকাস প্ল্যান সিলমোহর পেল রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর হাত ধরে।
কৃষি ক্ষেত্রে থেকে যাওয়া ঘাটতিগুলোকে ধারাবাহিকভাবে নির্মূল করতে এবং গ্রাস রুট লেভেল থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত কৃষিক্ষেত্রে আমূল বিপ্লব আনতে কোমর বেঁধে নেমেছে নাবার্ড। আর সেই ছবি ধরা পড়ল আগামী অর্থবর্ষের ঋণ বাজেটে। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন বাবদ এবারের নাবার্ডের বাজেটে ধার্য হয়েছে ২.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। গত বছরের থেকে যে অঙ্কটা প্রায় ১২% বেশি।
রাজ্যের কোন জেলায় কত ক্রেডিট দরকার, সেই বিষয়ে যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নাবার্ড তৈরি করে এক পোটেনশিয়াল ক্রেডিট প্ল্যান। ফি বছর সেই ক্রেডিট প্ল্যানের পর্দা উন্মোচন হয় স্টেট ক্রেডিট প্ল্যান সেমিনারের মাধ্যমে। এবারেও তার অন্যথা হল না।
কৃষি ঋণ বা গ্রামোন্নয়নের ক্ষেত্রে নাবার্ড কিভাবে সাহায্য করে? নাবার্ডের তরফে রাজ্য কি ধরনের সুযোগ সুবিধা পায়? সবটাই একেবারে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বললেন পঞ্চায়েত ও রুরাল ডেভেলপমেন্টের এসিএস মিঃ এম ভি রাও।
এদিন স্টেট ফোকাস পেপার উন্মোচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কৃষি ও গ্রামোন্নয়নের বিষয়ে নাবার্ড যে গুরু দায়িত্ব পালন করছে, সেকথাও জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। রাজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন শুরুতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭-৮ লক্ষ মেট্রিক টন। এবার তা ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গিয়েছে। স্টোরের ক্যাপাসিটি ছিল ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এখন তা ১০ লক্ষ মেট্রিক টন করা হয়েছে। যেখানে নাবার্ডের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ উপভোক্তাদের সচেতন করার বিষয়েও জোর দেন। এছাড়াও কৃষিক্ষেত্রের ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে মার্কেটিং, কোল্ড চেন এবং গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপারেও জানান তিনি। এর সঙ্গে ব্যাঙ্কগুলোকে প্রতিটা কোয়ার্টারে রিভিউ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এবারের এই রাজ্য ঋণ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও রুরাল ডেভেলপমেন্টের এসিএস এম ভি রাও। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থ দফতরের পিএস মনোজ পন্ত, নাবার্ডের সি জি এম এ আর খান, নাবার্ডের জিএম কমলেশ কুমার, , , পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের কনভেনার নবীনকুমার দশ সহ অনেকে।
সুব্রত সরকার, বিক্রম লাহা
কলকাতা