Trending
যেন ছুঁলেই সোনা। দেশ তথা এশিয়ার সবচেয়ে রেইজ ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির ব্যবসায়িক কারবার কোন সেক্টরে নেই বলুন দেখি? হাত গুনেও সেই লিস্ট আপনি বের করতে পারবেন বলে তো মনে হয় না। আর যেই ক্ষেত্রেই তিনি নজর রেখেছেন, সেই ক্ষেত্রেই লক্ষ্মী তাঁর ঝাঁপি একেবারে উজার করে দিয়েছে তাঁকে। এবার তাই আরও এক ক্ষেত্রে নিজের বিজনেস এক্সপানশন করর পথে মুকেশ আম্বানি। স্পোর্টস ব্র্যান্ড ডেকাথলনকে ওপেন চ্যালেঞ্জ আম্বানির। নিজস্ব স্পোর্টস ব্র্যান্ড নিয়ে ময়দানে নামছে রিলায়েন্স। তো কেমন হবে ডেকাথলোণ ভার্সেস রিলায়েন্সের ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা? কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে চলেছে এই ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড? কেনই বা স্পোর্টস সেক্টরকে পাখির চোখ করল রিলায়েন্স? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
ব্যাপারটা অনেকটা ঐ আগ লাগে বস্তি মে, হাম রাহে মস্তি মে ধরণের। মোবাইল রিচার্জের দাম বৃদ্ধি নিয়ে গোটা দেশ যখন তোলপাড়। তখন নিজের ছেলের বিয়ের তোড়জোড়ে ব্যস্ত মহান এই ব্যবসায়ী। আর এবার নাকি ডেকাথলনের মতো নামজাদা ব্র্যান্ডের সঙ্গে টেক্কা দিতে নিজস্ব স্পোর্টস ব্র্যান্ড লঞ্চ করার পথে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি। ইকোনমিক টাইমস-এর একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে এই খবর। জানানো হচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রি করার জন্য ময়দানে নামছে রিলায়েন্স রিটেল। আর সেটা যদি সত্যি হয়, তাহলে ফ্রান্সের স্পোর্টস চেইন ডেকাথলনের সঙ্গে ধামাকাদার টক্কর দেবে মুকেশ সংস্থা রিলায়েন্স।
ফিরে যাওয়া যাক ২০০৯ সালে। যে বছর ভারতের মার্কেটে পা রেখেছিল বিখ্যাত স্পোর্টস চেইন সংস্থা ডেকাথলন। এরপর যদি আপনারা ডেকাথলনের ব্যবসায়িক গ্রাফে নজর রাখেন, তাহলে দেখবেন সবসময়ই তা উপরের দিকেই। খেলাপাগল এই দেশে নজরকাড়া ছাপ ফেলতে সক্ষম হয়েছে ডেকাথলন। দেখুন খেলাধুলার জিনিসের ডিম্যান্ড ভারতের বাজারে সবসময়ই বেশি ছিল। আর সত্যি বলতে কী কোভিডের পর একটা দুর্দান্ত বদল এসেছে সেই ছবিটায়। ডেভেলপমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, বিগত কিছু বছরে ব্যাপক এক্সপানশন করেছে রিলায়েন্স। তবে স্পোর্টস ক্যাটেগরিতে তাদের কোন ছাপ নেই। আর তাছাড়া, দেশের বাজারে একটা দেশীয় স্পোর্টস ব্র্যান্ড থাকবে না? তা কি করে হয়!
যেখানে স্পোর্টস ক্যাটেগরির বিজনেস ফিউচার এতটা ব্রাইট, সেখানে এই ব্রাইটস্পট আম্বানির নজর এড়িয়ে যাবে, সেটা তো হতে পারে না। ২০২১ সালে ডেকাথলনের মতো ব্রায়ন্দের আয় ছিল ৪ হাজার কোটি টাকা। ২০২২ সালে সেই অঙ্কটা কিছুটা কমলেও লোকসান দেখেনি দেকাথলন। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আয় ছিল ফ্রান্সের স্পোর্টস চেন সংস্থার কোষাগারে,। অন্যদিকে পুমা, অ্যাডিদাসের মতো ব্র্যান্ডের লাভও একেবারে লাফিয়ে বেড়েছে। কাজেই যে সেক্টরকে এত এত টাকা আয়ের সুযোগ, সেই সেক্টরে আম্বানিও প্রকট। তাই বিজনেস নতুন হলেও বিজনেস প্লায়নিং কিন্তু একেবারে ডেকাথলনের ধাঁচেই সাজিয়ে ফেলেছেন মিঃ আম্বানি। কীরকম?
ঠিক যেভাবে ডেকাথলনের আউটলেট গুলো রয়েছে, সেইরকম আউটলেটের সন্ধান জারি রেখেছেন মুকেশ আম্বানি। মানে শুধু মল, বা বড়ো কোন রিটেল আউটলেট নয়। জায়গা হতে হবে তাঁর চেয়েও বেশি। যেখানে উপরি পাওনা হিসেবে থাকবে একটা প্লে এরিয়াও। আর সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে দেশের মেট্রোশহরগুলোতে চোখ রেখেছেন তিনি। দিল্লি, মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো শহরের হটস্পটে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার স্কয়ারফুটের জায়গা খুঁজছেন তিনি। তাহলে সেই আউটলেট কতটা খোলামেলা আর আকর্ষণীয় হবে, ভেবে দেখুন।
একদিকে রিলায়েন্সের বিশাল পুঁজি। অন্যদিকে আম্বানির তীক্ষ্ণ ব্যবসায়িক বুদ্ধি। আর এই দুটোর সঙ্গে যদি মেড ইন ইন্ডিয়া ট্যাগ লেগে যায়- তাহলে একটা ম্যাজিক হতে পারে। আর সেই ম্যাজিক ডেকাথলনের জন্য যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে জিও-র ট্যারিফ বৃদ্ধি করা নিয়ে আম্বানির উপর দেশবাসী যে রকম রেগে লাল হয় আছে, তাঁর প্রভাব সেই নতুন ব্যবসায় পড়বে কি না- তা কিন্তু স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে, রিলায়েন্স গোষ্ঠী ভারতের বাজারের নাড়ি বোঝে- একথা সত্যি।
দামে কম মানে ভালো স্ট্র্যটেজি- ইন্ডিয়ান মার্কেটের জন্য একটা গেম চেঞ্জার। যেটা আম্বানি বা তাঁর সংস্থা রিলায়েন্স- এতদিনে ভালোই বুঝতে পেরেছে। জিও-র ক্ষেত্রে দেখুন। প্রথমে ফ্রি সার্ভিস প্রোভাইড করা। তারপর আসতে আসতে মূল্যবৃদ্ধি। আর মানুষ ততদিনে ইন্টারনেটে বুঁদ। তাই অভ্যাসের বশবর্তী হয়ে রিচার্জ করাতেও বাধ্য। এছাড়া অনান্য ব্যবসার ক্ষেত্রেও অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে তুলনায় দাম কম রাখে রিলায়েন্স। এখন স্পোর্টস ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও সেই একই স্ট্র্যাটেজি কার্যকর হয় কি না সেটাই দেখার। তবে স্পোর্টস মার্কেটে রিলায়েন্স ভার্সেস ডেকাথলনের যুদ্ধে আপনি কাকে সাপোর্ট করবেন? সেটা জানাতে ভুলবেন না আমাদের কমেন্টবক্সে।
সঙ্গে থাকুন, দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ। জীবন হোক অর্থবহ।