Story
পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র হিসেবে ভ্যাটিকান সিটির পরেই এর অবস্থান। এখানে প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন মিলিয়নেয়ার। সামগ্রিক দিক থেকে দেখলে, এই দেশটিতেই বসবাস করেন কয়েক হাজার কোটিপতি মানুষ। এই রাষ্ট্রের নাম মোনাকো। আজ আমরা কথা বলব, পৃথিবীর এই দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র মোনাকো নিয়ে। যেখানকার প্রায় প্রতিটি মানুষই কোটিপতি।
মোনাকোর ল্যান্ড বর্ডার হচ্ছে মাত্র সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মতন। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম কোস্টলাইন অবস্থিত এখানেই। যার দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটারের কিছু কম। এই দেশটির তিনটে দিকেই রয়েছে ফ্রান্সের সীমানা। আর অন্যদিকে ভূমধ্যসাগর। মোনাকোর আয়তন ২ বর্গ কিলোমিটারের কিছু বেশি। আয়তনে এতো ছোট হলেও দেশটি কিন্তু বিশ্বের অন্যতম জন ঘনবসতিপূর্ণ একটি দেশ। এই দেশের জনসংখ্যা ৪০ হাজারের কাছাকাছি। আর এদের অধিকাংশই মিলিয়নেয়ার। জানা গিয়েছে, মোনাকোয় প্রায় ১২ হাজার কোটিপতি বসবাস করেন। মোনাকোর বাসিন্দাদের আয় প্রায় মাথাপিছু দেড় কোটি টাকার মতন। স্বাভাবিকভাবেই, এই দেশটি একেবারেই দারিদ্র্য মুক্ত দেশ। মূলত ফ্রেঞ্চ এখানকার অফিশিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজ হলেও ইংলিশ বা ইতালি ভাষাও ব্যপকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন বড়লোকেরা ঠাঁই নিয়ে থাকেন মোনাকোতে? তার অন্যতম প্রধান কারণ এই দেশটি একেবারেই ট্যাক্স ফ্রি। এমনকি কোন ব্যবসায়ীকেও তার সংস্থার জন্য কোনরকম ট্যাক্স দিতে হয় না। আর তাই দেশটি এখন ট্যাক্স হেভেন হয়ে গিয়েছে। ট্যাক্স হেভেনের অর্থ হল, পৃথিবীর শীর্ষ ধনীরা কোনরকম ট্যাক্স না দিয়েই নিজেদের সম্পত্তি রেখে দিতে পারেন। ফলে মিলিয়নেয়ারের পছন্দের তালিকায় মোনাকো উঠে এসেছে একেবারে শীর্ষে।
বলাই বাহুল্য, এই দেশের প্রতিটি পণ্যের মূল্যই আকাশছোঁয়া। এমনকি এখানকার একেকটা আবাসনের দাম পিছনে ফেলে দেয় টোকিও, নিউ ইয়র্ক বা ম্যানহাটানকেও। এখানে ওয়ান বেডরুম ফ্ল্যাটের দাম ১২ কোটি টাকা মতন। আর যদি সাধারণ টু বা থ্রি-রুম ফ্ল্যাট নিয়ে থাকতে হয়, সেক্ষেত্রে দাম পড়তে পারে প্রায় ২০ কোটি থেকে ১৫০ কোটি টাকার মতন। আর অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে খরচ পড়তে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতন। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ ক্যাসিনো। যেখানে বিদেশি এবং পর্যটকদের ভির সবসময় লেগে থাকে। তবে হ্যাঁ। এই সকল ক্যাসিনোতে কিন্তু মোনাকোর বাসিন্দাদের প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ। এতে বাসিন্দাদের টাকা জুয়ায় নষ্ট হওয়ার কোন ভয় থাকছে না। মোনাকোর সবথেকে নাম করা ক্যাসিনো হচ্ছে মন্টে কার্লো। এর সুসজ্জিত অন্দরমহল আপনার মাথা ঘুরিয়ে দেবে। জেমস বন্ডের শুটিং হয়েছে এখানে। প্রায় ৭০০ বছর ধরে মোনাকো শাসন করছে একটি রাজপরিবার। যা গোটা বিশ্বে হাউজ অফ গ্রিমাল্ডি নামে পরিচিত। পৃথিবীর অন্যতম বিত্তশালী রাজপরিবার হচ্ছে মোনাকোর রাজপরিবার।
তবে সবচেয়ে মজার বিষয় হল, মোনাকোর বাসিন্দাদের অধিকাংশেরই জন্ম কিন্তু বাইরে। মোনাকো দুই দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেনা। তাই মোনাকোর বাসিন্দা হতে গেলে কাঠখড় পোড়াতে হয় অনেক। প্রথম, নাগরিকত্ব পেতে হলে এই দেশে থাকতে হবে টানা দশ বছর। দ্বিতীয়, মোনাকোয় থাকতে হলে পর্যাপ্ত টাকা থাকতে হবে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। এছাড়াও এক বছরের বাড়ি ভাড়া দেওয়ার মতন টাকা রাখতে হবে সঙ্গে। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য শর্ত। সেগুলো পূরণ করতে পারলে তবেই মিলবে মোনাকোয় থাকার অধিকার। এই দেশের অন্যতম আকর্ষণ লাগজারিয়াস ইয়টসের প্রদর্শনী। হারকিউলিস বন্দরে অনুষ্ঠিত ইয়টসের এই প্রদর্শনী বিশ্বের সবচেয়ে বড়। পৃথিবীর শীর্ষ কোটিপতিরা অংশ নেন এই প্রদর্শনীতে। এছাড়াও রয়েছে মোনাকো গ্রাঁ প্রিঁ। ফর্মুলা ওয়ান মোটর রেসিংয়ের সবচেয়ে পপুলার রেস হল এই মোনাকো গ্রাঁ প্রিঁ।