Story

সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ। ছড়িয়ে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলবর্তী অঞ্চল জুড়ে। গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূলে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারের ম্যানগ্রোভের অভয়ারণ্য এই সুন্দরবন। পৃথিবীর সব অভয়ারণ্যের থেকে রূপে এবং বৈচিত্র্যে রহস্যময় এই সুন্দরবন। সুন্দরী, গরান, গেওয়া, হোগলা আর গোলের ঘন জঙ্গল এই সুন্দরবন। অনেকটাই সন্ধ্যা ভাষার মত। কিছুটা বোঝা যায়। কিছুটা বোঝা যায়না। তাই এই অরণ্য আজো দুর্গম শুধু নয়, দুর্ভেদ্যও বটে।
বাঘেদের বিচরণভূমি সুন্দরবন। তবুও মানুষ নিয়মিত যান এই সুন্দরবনে। বেঁচে থাকার তাগিদে। আগামী প্রজন্মকে বাঁচাবার তাগিদে। দুই বাংলার কয়েক কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রুটিরুজির ব্যাঙ্ক হল এই সুন্দরবন। ব্যাঙ্ক থেকে সম্পদ লুট করতে গিয়ে বহু মানুষের প্রাণ যায় যেমন বাঘের আক্রমণে। তেমনি বহু বাঘ এবং বন্যপ্রাণকেও মানুষ বলি দিয়েছেন নিজেদেরকে বাঁচাবার তাগিদে।
সুন্দরবনকে আরো সুন্দর করার দায়িত্ব যিনি নিজের কাঁধে একাই তুলে নিয়েছেন বছরের পর বছর ধরে সেই বিখ্যাত সাংবাদিক, জনপ্রিয় ইউটিউবার মোহসীন-উল হাকিম জীবনে প্রথমবার পা রাখলেন ভারতের সুন্দরবনে। ঘুরে দেখলেন এপার বাংলার রায়মঙ্গলের এপার-ওপারের সুন্দরবন। আজকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বন্যপ্রাণ বিশেষ করে সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন মধ্য পঞ্চাশের এই নির্ভীক সাংবাদিক। তিনি ঘুরে দেখলেন ভারতের সুন্দরবন। দিলেন বেশ কিছু পরামর্শ। আর সেই পরামর্শ ক্যামেরাবন্দি করলেন রায়মঙ্গলের খোলা হাওয়ায় আমাদের প্রতিনিধি বিক্রম লাহা।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কালীতলা থেকে লঞ্চে করে যাত্রা শুরু করেছিলেন কৌতূহলী চোখ নিয়ে মাসের পর মাস বর্ষা, কাদায় বনের দস্যুদের সঙ্গে কাটানো এই নির্ভীক সাংবাদিক। বহুবার দেখেছেন সুন্দরবনকে। কাঁটাতার মানুষকে বিচ্ছিন্ন করেছে। কিন্তু বনকে বিচ্ছিন্ন করেনি। তাই সীমান্তের এপারের বন কি ওপারের মতন? এই চোখেই দেখতে নামলেন রায়মঙ্গল নদীতে। কেমন দেখলেন এপারের বন? কোথায় কি কি দেখলেন সেই প্রশ্ন করতেই একেবারে খোলামেলা জবাব।
তবে বেশ কিছুক্ষণ লঞ্চে করে সফরের পর একেবারে ডেকে দাঁড়িয়ে প্রকৃত মূল্যায়নটা নিজের মুখেই করলেন। কোন প্রশ্ন করতে হয়নি।
তবে নদী যেমন সীমান্তের বেড়ারেখা মানে না। বাঘেদেরও সামনে নেই কোন সীমানার কাঁটাতার। তবে দু’দেশেই বহু মানুষ এই বনের উপর যেহেতু নির্ভরশীল। তাই বনকে রক্ষা করতে গেলে সবার আগে এখানকার মানুষদের জীবনযাত্রাকে উন্নত করতে হবে। গোটা সফরের এমনটাই অভিমত ব্যক্ত করলেন এই পোর খাওয়া সাংবাদিক। একইসঙ্গে দাবি তুললেন শুধু বন রক্ষা করলেই হবে না। দু’দেশের সরকারকে যৌথভাবে এখানকার নদীগুলিও রক্ষা করতে হবে। মোহসীন চাইলেন দু’দেশের সরকারের কাছে বেসিন বেল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
তবে সুন্দরবনে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষদের মধ্যে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন এই সাংবাদিক। সেই পরিবর্তনটা বন্যপ্রাণ রক্ষার ক্ষেত্রে বেশ ইতিবাচক। কী সেই পরিবর্তন? সেটা নিজের মুখেই জানালেন শীতের রোদ মাখতে মাখতে রায়মঙ্গলের উপর দাঁড়িয়ে বেশ সপ্রতিভভাবে।
আর সুন্দরবনের জীবন-জীবিকা বিশেষ করে মানুষদের জন্য সরকারি বরাদ্দ কিভাবে মানুষদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে সরব হলেন বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় ইউটিউবার।
একসময় বাংলাদেশের সুন্দরবন ছিল জলদস্যুদের আঁতুড়ঘর। এমনকি বাংলাদেশের জলদস্যুরা ভারতে ঢুকেও লুটপাট চালাত। এখানকার জেলে, মাঝিদের উপর। জলদস্যুমুক্ত সুন্দরবন আন্দোলনের জনক যদি আজকে কাউকে বলতেই হয়, তার নাম মোহসীন-উল হাকিম।
নদীতে চলতে চলতে দু’পাড়ের বিস্তীর্ণ সুন্দরবনকে ঠিক কেমন লাগল? সেই প্রশ্নের এতো সুন্দর বিশ্লেষণ ধরা পড়ল গলায় যা কোন প্রশ্ন করারই অবকাশ দিল না।
এদিকে বেলা গড়াতেই রায়মঙ্গলে যখন সূর্যের তেজ একটু একটু করে কমছে আর তত বিশ্লেষণ চোখা করছেন বাংলাদেশের এই প্রবাদপ্রতিম সাংবাদিক। শোনালেন গোটা সাক্ষাৎকার পর্বের বটম লাইনটা।
বিক্রম লাহা
সুন্দরবন