Story
ব্রুস লি, জ্যাকি চ্যান বা মাও-ৎসে ডং। এই দেশটা থেকেই উত্থান হয়েছে এমনই একেকজন মানুষের। যারা গোটা বিশ্বে চীনের দাপট কতটা সেটা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন প্রত্যেকেই। সিনেমা থেকে রাজনীতি সর্বত্র প্রভাব ছড়িয়েছে চীন। আজ যাদের দৌলতে বিশ্বের বৃহত্তম গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে সামনের সারিতে। কিন্তু যে দেশটা একটা সময় দারিদ্র্যের কবলে পড়েছিল, আজ সেই দেশটার এই অলৌকিক উত্থানের কারণ কি? চীনের ‘অলৌকিক অর্থনীতি’ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য এবং ইতিহাস রইলো আপনাদের জন্য।
পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না। ভারতের উত্তর পূর্বে অবস্থিত এই দেশটি আজ বিশ্বমঞ্চ কাঁপাচ্ছে বললেও কম বলা হয়। পৃথিবীর মেগা কারখানা যদি বলতেই হয় তবে সবার আগে উঠে আসে চীনের নাম। কারণ এর জনসংখ্যা এবং শ্রম। আজ গোটা পৃথিবীতে যেভাবে চীন রফতানি বাণিজ্যে নিজের পেশাদারি একচেটিয়া মনোভাব ধরে রেখেছে তা কার্যত গ্লোবালি চীনকে পৌঁছে দিয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে। পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি অনুযায়ী চীনের ক্ষমতা এখন সবার প্রথমে। কিন্তু যে দেশটা একটা সময় কৃষি ছাড়া আর কিছুই সেভাবে বুঝত না। গরিবিয়ানা যে দেশটার প্রতিটা কোণে লেগে থাকত আজ সেই দেশটার এমন নাটকীয় উত্থান? কিভাবে? তার জন্য চলুন ঘুরে আসা যাক বেশ কয়েক বছর পেছন থেকে।
১৯৪৯ সালে চীনে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত যে ছিলেন চীনের দায়িত্বে, তিনি মাও-ৎসে ডং। মার্ক্সীয় তত্ত্ব, লেনিনবাদ থেকে তাঁর নীতি আজ মাওবাদ নামে গোটা বিশ্বের কাছেই সুপরিচিত। তিনিই চীনে কম্যুনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সময়কাল থেকেই কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে থাকে। আর এই দুটি ক্ষেত্রকে নিয়ে আসা হয় রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার আন্ডারে। চীন মাওয়ের হাতে চলে আসার পরেই তাঁর মধ্যে রবিনহুড সত্ত্বা কাজ করতে শুরু করে। ধনী জমিদারদের হত্যা করে সেই জমিগুলো দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে ভাগ করে দিতে থাকেন। তারপর ১৯৫৩-৫৮ সালে তিনি প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। যেখানে তিনি চেয়েছিলেন চীন শুধু আর কৃষিকাজের উপরেই ভরসা করবে না। বরং শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি আরো একটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেন। যা গোটা বিশ্বে গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড নামে পরিচিত। মাও নির্দেশ দেন, কৃষকদের জমিতে ফসল নয় বরং লোহার আকরিক গলাতে হবে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের উপরে। দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। মারা যায় চীনের ৪ কোটি মানুষ।
১৯৭৬ সালে মৃত্যু হয় মাওয়ের। কিন্তু ১৯৭০ সালের শেষ দিক থেকেই চীন তার অর্থনীতির উদারীকরণ শুরু করে দেয়। শুরু হয় সংস্কার। বিভিন্ন আর্টিকল থেকে জানা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চীনে চালু ছিল হুকো পদ্ধতি। এই হুকো পদ্ধতি হল যেখানে চীনের সাধারণ মানুষ একটি জায়গা থেকে আরেকটি জায়গায় যেতে পারবে না। কিন্তু ৮০-র দশকের শেষ থেকে বদলাতে শুরু করে চীনের এই ছবিটা। হুকোর বিধিনিষেধ ক্রমশ কমে আসতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ পেটের টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কলকারখানার সংখ্যা। অর্থনীতিতে আসে জোয়ার। এরপরেই চীনের অর্থনীতির ছবি বদলাতে শুরু করে দেয়। মাওয়ের পরে লিউ শাওকি, ইয়াং শাংকুন, জিয়াং জেমিং থেকে অবশেষে বর্তমানে শিংপিং চীনের উত্থানকে একচেটিয়া ধরে রাখতে পেরেছে। চীন বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শ্রমশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। একটি তথ্য বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের সর্ববৃহৎ মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি হবে এখান থেকেই। চীন যেভাবে উন্নত-অনুন্নত, ধনী-গরীবের বৈষম্য দূর করতে উঠেপড়ে লাগে তা একদিক থেকে অকল্পনীয়। আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চীন গোটা এশিয়া মহাদেশে নিজের রফতানি বাণিজ্যকে ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।
তবে এখন ভারতকে চাপে রাখতে চীন চাইছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিতে ঢালাও বিনিয়োগ করতে। তার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটানের মত একাধিক দেশগুলি। কারণ চীন বুঝতে পেরেছে, আজ ভারত যেভাবে নিজের ক্ষমতা ছড়াতে শুরু করেছে তাতে ভারতকে টক্কর দেওয়া কিন্তু বেশ কঠিন। যে কারণে লাদাখ বা অরুণাচলের মত সেনসিটিভ এরিয়ায় চীন এবং ভারতের সঙ্গে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধ লেগেই থাকে। তবে যত যাই হোক। চীনের অর্থনীতি আজ গোটা পৃথিবীর কাছেই অলৌকিকতারই সামিল। তবে, চীনের অর্থনীতির এই উত্থান নিয়ে এখানেই কনক্লুশন টানাটা আসলে অসম্ভব। তাই পরবর্তীতে চীনের অর্থনীতির এই নাটকীয় উত্থান নিয়ে আরো বেশ কিছু তথ্য থাকবে আপনাদের জন্য।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ