Daily
বি পি এন ডেস্ক : উজ্জ্বলা প্রকল্পের আওতায় আরও এক কোটি মানুষকে নিখরচায় গ্যাস সংযোগ দিতে মোদি সরকার যখন বদ্ধ পরিকর ঠিক তখনই গ্যাসের দামে আগুন লাগছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে। মধ্যবিত্তের হেঁশেলে এই আগুন ভোটমুখি পাঁচ রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেই কেন্দ্রের সরকারকে ভিলেনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। একে সিলিন্ডার প্রতি গ্যাসের দাম যখন আকাশছোঁয়া, তখন ভর্তুকির পরিমাণ একেবারে যৎসামান্য। ডিসেম্বর থেকে এই পর্যন্ত মোট পাঁচ দফায় গ্যাসের দাম বেড়ে হল ৮৪৫ টাকা প্রতি সিলিন্ডার। গ্যাসের এই বিপুল দাম নিয়ে কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া যায় নি। পাওয়া যায় নি কেন্দ্রের শাসক দলের পক্ষ থেকে দাম কমানোর কোন আশ্বাসও। আর ভোটমুখি পাঁচ রাজ্যের সাধারণ মধ্যবিত্তের হেঁশেলের আগুনের অসন্তোষকেই ইভিএম পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়াটাই বিরোধী দলগুলির লক্ষ্য। একদিকে যখন দেশ ও রাজ্যব্যপি বর্ধিত দাম নিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে, অন্যদিকে তখন সরকার আরও ১ কোটি লোককে নিখরচায় গ্যাস কালেকশন দিতে বদ্ধ পরিকর হয়েছে। স্বভাবতই গ্যাসের দাম যখন বাড়ন্ত, তখন মাত্র ১৬০০ টাকার সংযোগ ফি মকুব করে গরিবদের আদৌ কোন সুরাহা হবে কি? সেই প্রশ্নটাই তুললেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ। এদের বক্তব্য সিলিন্ডার কিনতে যে টাকা লাগে আর তার বিনিময়ে যে অঙ্ক ভর্তুকি পাওয়া যায় তা দিয়ে কোনমতেই দ্বিতীয়বার সিলিন্ডার কেনা সম্ভব নয় গরীব মানুষের। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম সহ ভোটমুখি পাঁচ রাজ্যে কেন্দ্রের শাসকদের বিরুদ্ধে গ্যাস ও তেলের দামই এখন বিরোধীদের প্রধান অস্ত্র। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যেমন গ্যাস ও তেলের দামের আন্দোলনকে আলাদা মাত্রা দিয়ে ই-স্কুটি পর্যন্ত চালিয়ে ফেললেন,
অতীতে পেঁয়াজের বর্ধিত দাম যেমন মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী সুষমা স্বরাজের চোখে জল ফেলে দিয়েছিল ঠিক তেমনই গ্যাস ও পেট্রোলের দাম এ রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের কোন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাবে, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ওয়াকিবহল মহল।