Market
বি পি এন ডেস্ক: আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ওষুধ শিল্পে কাঁচামাল আর আমদানি নয়। বরং ভারতেই কাঁচামাল তৈরি করে স্বনির্ভর হবে দেশ। কড়া জবাব দেওয়া যাবে প্রতিবেশী এবং প্রতিপক্ষ চিনকে। কোভিড পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মোদী প্রশাসন এমন একটি সিদ্ধান্তে মার খেতে পারে চিনের ব্যবসা। আর তাই, ওষুধ তৈরির যত কাঁচামাল ভারত চিন থেকে আমদানি করে সে সবের দাম বাড়াতে চলেছে চিন সরকার। অন্যদিকে, চিনে যেটুকু রপ্তানি হয় তার দামও কমাতে চলেছে তারা।
ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, অ্যান্টিবায়োটিকস, ভিটামিনের প্রায় সমস্ত কাঁচামালের জন্য ভারত চিনের ওপরেই নির্ভরশীল। ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ৮০-৯০ শতাংশ আসে চিন থেকে। বিশেষজ্ঞমহলের ধারণা, মোদী সরকারের স্বনির্ভরতার উদ্যোগের ফলে ধাক্কা খেতে পারে চিনের ব্যবসা। ওষুধ তৈরিতে দুটি উপকরণের খুব প্রয়োজন। এক, এপিআই বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিকাল ইনগ্রেডিয়েন্টস এবং দুই, সিএই বা কেমিক্যালি অ্যাক্টিভ এক্সসিপিয়েন্টস। এই মূল কাঁচামালের জন্য ভারত পরনির্ভরশীল। যার ফলে চিন রপ্তানি মূল্য বাড়ানোর কারণে, ওষুধ তৈরির খরচও অনেকটা বাড়ছে। তাই মনে করা হচ্ছে, এপ্রিল মাস থেকে হয়ত রোজকার ওষুধের দাম একটু হলেও বাড়তে পারে। ২০২০ সালে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিকাল প্রাইসিং অথোরিটি পাইকারি সূচকে ০.৫% মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেটুকু দাম বাড়ানোয় ছারপত্র দিয়েছে তাতে খুশি নয় ওষুধ শিল্প মহল। তাঁদের দাবি দাম ২০-৩০% বাড়ালে হয়ত ব্যবসায় ভাটার পালে জোয়ার লাগতে পারে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির এই শতাংশের অঙ্কে রাজি নয় কেন্দ্র।
মনে করা হচ্ছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি করে আসলে ভারতীয় ওষুধ শিল্পকে জোর টক্কর দেবার পরিকল্পনায় আছে চিন। ব্যবসায় ধাক্কা খাবার আশঙ্কা থেকেই তাদের এমন পদক্ষেপ।