Story
বি পি এন ডেস্ক : সেই যে শুরু আর পিছনে তাকাতে হয় নি মণীশকে। এখন ওর দু’হাতে আয়। একে যন্ত্র আর দুয়ে ছানা আনছে ঘরে লক্ষ্মী। এই ডিম ফুটনোর যন্ত্র তৈরি করতে কি কি প্রয়োজন? জবাব দিলেন ক্যামেরার সামনে। কিভাবে কাজ করবে এই যন্ত্র তার ব্যাখ্যাও দিলেন জলের মত। মাত্র দশ-বারো হাজার থেকে শুরু করে মেরেকেটে পনেরো হাজার পুঁজি এই ব্যবসার জন্য যথেষ্ট। যারা অল্প পুঁজিতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান, সেইসব বেকারদের কাছে আজ রোল মডেল গাইঘাটার আটপৌরে মণীশ। মণীশের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষি দফতরের এই আধিকারিক নিজেই জানালেন যন্ত্র তৈরির আনুমানিক খরচ।
গাছগাছালিতে ঘেরা মণীশের বাড়িটাই যেন এখন সরকারি এই প্রকল্পের শোকেস। বাড়ির দেওয়ালেই টাঙান রয়েছে সরকারি ব্যানার। একই যন্ত্রে হাঁস, মুরগি দু’ধরণের ডিমই রাখা যায়। তাও দেড়শো থেকে দুশো ডিম ধরে একেকবারে। মুরগির ক্ষেত্রে সময় লাগে মাত্র ২০ দিন। আর হাঁসের ক্ষেত্রে একটু বেশি। মাত্র ২৪ দিন। সেক্ষেত্রে আলাদা করে পেন দিয়ে ডিমগুলিকে চিহ্নিত করে রাখা হয়। সফলতার খতিয়ানটাও ধরা পড়ল মণীশেরই গলায়।
প্রতি বাইশ দিন অন্তর আয় নেহাতই মন্দ হয় না। এদিকে দম নেবার ফুরসৎ নেই কৃষি দফতরের এই তরুণ আধিকারিক সুবীরলাল বাবুর। একটা মণীশ হলেই চলবে না। তৈরি করতে হবে হাজারো মণীশ। মণীশের সাফল্যের রাজকে ছড়িয়ে দিতে চান ব্লকের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মধ্যে।
বাড়ির উঠোনে মায়ার বাঁধনে মুরগির ছানাগুলোকে দানা খাওয়ানোর সাথে সাথে কোলে তুলে নিয়ে আদরও করেন ওদেরকে। আসলে এরাই তো ওর লক্ষ্মী। তবে কেউ কাজে উৎসাহ দেখালেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন জিনিসপত্র দেখাতে। হাতে কলমে। আর স্বনির্ভর হতে চাইলে তো কোন কথাই নেই। দরাজ গলায় বলে দেন নিজের ফোন নম্বরটাই। গাইঘাটা ব্লকের কৃষি দফতর আর সুবীরবাবুর পরামর্শেই সামান্য পুঁজিতে বেকারদের আত্মনির্ভরতার নতুন দিশা দেখালেন রামচন্দ্রপুরের এই তরুণ।