Story
আমের কৌলিন্য আঁটি বহন করেনা। তাই গড়াগড়ি খেতে হয় আঁটিকেই। কিন্তু বিফলে যে কিছুই যায়না । কারণ ফেলে দেওয়া এই আমের আঁটিই আজ কিছু মানুষের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দিশা দেখাচ্ছে আয়ের।
নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাজদিয়াতে এবারে প্রচুর ফলন হয়েছে আমের। কিন্তু করোনার থাবা পড়েছে ব্যবসায়। তাই বিক্রি কম হবার জন্য প্রচুর আম বাজারে পৌঁছবার আগেই মাটিতে পড়ে গিয়েছে। আর মাটির সঙ্গে মিশে বের হচ্ছে চারাগাছ। ঘুরেঘুরে যা সংগ্রহ করে সরাসরি নার্সারিতে পাঠিয়ে কিছুটা হলেও আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষক বা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো।
এই যেমন উজ্জ্বল বিশ্বাস। বছরের অন্যান্য সময় ভিন্ন পেশার কাজ করলেও আমের সিজনে তিনি আঁটি সংগ্রহ থেকে উপার্জনের রাস্তাকেই বেছে নিয়েছেন তা সে বাগান থেকে হোক অথবা গৃহস্থের কাছ থেকে।
আমের আঁটি থেকে আয়ের পথ খুঁজে নেওয়া এই মানুষগুলোর পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কৃষি দপ্তর। তারাও এই বিষয়ে চুক্তি ভিত্তিক রোজগারের ব্যবস্থা করে দেবার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন নদিয়া জেলা প্রশাসনের সহ-কৃষিঅধিকর্তা ডা: অনীশ দাস।
প্রান্তিক কৃষক বা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো এই অতিমারি পরিস্থিতিতেও যে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছে অনেকের কাছেই বিষয়টা বেশ প্রশংসা পেয়েছে।
একজনের কাছে যা অবহেলার, আরেকজনের কাছে তার গুরুত্ব অনেক। আর এই ছবিটাই যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সবার অবহেলার আমের আঁটি। যার জন্য কিছু মানুষ সাময়িক হলেও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
রনি চ্যাটার্জী, নদিয়া