Story
প্রথাগতভাবে চাষ তো অনেকেই করেন। কিন্তু প্রথার বাইরে বেরিয়ে সফল হতে পারেন ক’জন? বাস্তবে সফল হতে গেলে যে সাহস দরকার, সেই সাহস দেখানোর ক্ষমতাই বা রাখেন ক’জন? কিন্তু গাইঘাটার পরিমল হচ্ছেন ব্যতিক্রমী। স্রোতের বিপরীতে হেঁটে তিনি সাফল্যকে ছুঁলেন নিজের জমিতে মাল্টা চাষ করে কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায়।
দীর্ঘদিন ধান, পাট সহঅন্যান্য সব্জির চাষ করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষক পরিমল মণ্ডল। কিন্তু পরিশ্রম আর খরচের ঠেলা সামলাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল পরিমলবাবুর। তারপর আবার উপযুক্ত শ্রমিকের অভাব তো ছিলই। এদিকে লকডাউনের প্রভাব পুরোমাত্রায় বজায় থাকার জন্য জমির ফসল বিক্রি করেও পাচ্ছিলেন না ন্যায্য দাম। অবশেষে কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা পেয়ে তিনি শুরু করলেন অভিনব একটি ফলের চাষ। সেটি লেবু ঠিকই কিন্তু এদেশের নয়। বরং থাইল্যান্ডের। নাম মাল্টা। ন্যূনতম পরিশ্রম আর অল্প খরচ করেই দেড় বছরের মাথায় গাছে গাছে থোকা থোকা লেবুর ফলন আবারও পরিমলবাবুর মুখে ফিরিয়ে আনল হারিয়ে যাওয়া হাসি।
এই লেবু চাষের সবথেকে সুবিধা হল এই গাছ একবার চাষ করলে কম করে কুড়ি বছর ফলন পাওয়া যায়। সময়ের সাথে গাছে লেবু ধরতে পারে প্রায় ৫০০-র মতন। সুতরাং পরিমলবাবু তাঁর নিজস্ব যে ২ বিঘে জমি রয়েছে, সেখানে যদি গোটা জমিতেই মাল্টার চাষ করেন তাহলে পরিমলবাবুর আর্থিক দিকটা অনেকটাই মজবুত হবে।
সারা বছর এই গাছের পরিচর্যার খরচও কম থাকে। চাষের কাজে ঝুঁকিও অনেকটাই কম। চারা বাদে গাছ পিছু বছরে হয়ত খুব বেশি হলে খরচ ৫০ টাকা মত। রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করে জৈব সার বেশি দিতে হবে। কিন্তু চাষের পদ্ধতি কিরকম হবে? সেটাও জানালেন পরিমলবাবু।
আর চাষ করতে গিয়ে যদি কোন অসুবিধার সম্মুখীন যদি হতে হয় তবে কৃষি দপ্তর তো রয়েছেই। ঠিক যেভাবে পরিমলবাবুকে সাহায্য করেছিল গাইঘাটা ব্লকের কৃষি দপ্তর। আজ কৃষকেরা যে এই চাষ করে যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন এবং একইসঙ্গে অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও উৎসাহী হচ্ছেন, সেই কথাও জানালেন গাইঘাটা ব্লকের কৃষি দপ্তরের সহ কৃষি অধিকর্তা প্রত্যুষা বক্সী।
অন্যান্য কৃষকেরা যে উৎসাহী হচ্ছেন তা সুনীল দাস বা নিমাই সরকারের মত ইচ্ছুক চাষিদের কথা শুনলেই বোঝা যায়।
মাল্টা চাষের আরও একটি লাভজনক দিক হল, চারা লাগানোর পরে এই একই জমিতে প্রথম তিন বছর যেকোনো মিশ্র সবজি চাষও করা যায়। আজ পরিমলবাবু চাষ করছেন, তাই লাভও পাচ্ছেন। কিন্তু সব চাষে যে এমন লাভ দেখা যায় কে জানত? অতিমারির প্রভাবে এমনিতেই কৃষিক্ষেত্রে সংকোচন হয়েছে। প্রচলিত চাষের ক্ষেত্রে যা আরও প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একদিকে যখন হতাশাই চেপে ধরছিল কৃষকদের তখন কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় পরিমল মণ্ডলই দেখিয়ে দিলেন বিদেশি ফল চাষ করে কিভাবে নিজের আর্থিক দিকটাকে আরও মজবুত করা যায়। এককথায় বলা যায় মাল্টা চাষ করে নজির স্থাপন করলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের সুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষক পরিমল মণ্ডল।
দেবস্মিতা মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা