Story

মধুতে মধুরেণ সমাপয়েৎ। মধু শেষ পর্যন্ত মধুই হয়। আর জীবন মধুরই হয়। তাই মধুর পথে চলাটা বেশ মধুর। অন্তত মধুচাষিদের ক্ষেত্রে। তাই মালদা থেকে দিনাজপুর। শীতের মরশুমে মধু পরিযায়ীরা ভিড় করে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন খেটে। জমে ওঠে মধুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি।
বছরের অন্যান্য সময় বিভিন্ন ধরণের কাজ করলেও বছরের কয়েকমাস বাড়তি লাভের আশায় মধু সংগ্রহকারীরা ঘুরে বেরান রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। তারই একটা ছবি ধরা পড়ল উত্তর দিনাজপুরে। শীতের মরশুমে উত্তর দিনাজপুর জেলা জুড়ে প্রচুর সর্ষে ফুলের চাষ হয়ে থাকে। মালদা থেকে মধু চাষিরা আসেন এখানে। সর্ষে ফুল থেকে কৃত্রিম পদ্ধতিতে সংগ্রহ করেন মধু। হেমতাবাদ ব্লকের দুধুন্ডা এলাকার রায়গঞ্জ-বালুরঘাট রাজ্য সড়ক। এই রাজ্য সড়কের পাশে ২৫০টি বাক্স নিয়ে অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প করে এই সর্ষের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন তাঁরা।
একটি বাক্সে থাকে হাজার খানেক মৌমাছি। তার মধ্যে রাণী মৌমাছি থাকে একটি। এই মৌমাছিগুলিকে বলে এফিক্স মেলিফেরা মৌমাছি। বছরের অন্যান্য সময় চিনির রস খাইয়ে মৌমাছিগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। আর মরশুম বিশেষে মৌমাছিগুলি নিয়ে তাঁরা ঘুরে বেরান বিভিন্ন জায়গায়। বর্তমানে পাঁচ জন মিলে এখন ২৫০টি বাক্সে মধু চাষ হচ্ছে। মধুচাষের জন্য বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। একইসঙ্গে মৌমাছি এবং মৌমাছির বাক্স দেওয়ার জন্য সবরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সঠিক প্রশিক্ষণ নিয়ে মধুচাষিরা যাতে স্বনির্ভর হতে পারেন, সেদিকেই রাখা হয়েছে ২৪ ঘণ্টা নজর। মধু সংগ্রহ করার পরে তা পাইকারিদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। মধু সংগ্রহকারীরা আর্থিকভাবে অনেকটাই লাভবান হচ্ছেন। তাই ভিন রাজ্যে গিয়ে অন্য কাজ করার থেকে মধুচাষেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন তাঁরা। তাই নির্দ্বিধায় বলাই যায়, স্বনির্ভর হওয়ার জন্য মধুচাষ হয়ে উঠতে পারে এক বিকল্প পথ।
অনুপ জয়সোয়াল
উত্তর দিনাজপুর