Story
সর্ষের তেল যদি তরল সোনা হয় তবে প্রকৃতির মধ্যে থেকে প্রাকৃতিক রসদকে কাজে লাগিয়েও পাওয়া যায় বিকল্প পথের খোঁজ। জঙ্গলমহল বলতেই প্রথমে ভেসে ওঠে ত্রাসের ছবি। একইসঙ্গে ধরা পড়ে সেইসকল প্রান্তিক, আদিবাসী মানুষগুলোর কথা যারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া তো দূর, প্রতিদিনের দু’বেলা খাবার জোটানোর মত সামর্থ্যটুকুই থাকে না। কিন্তু তাঁরাই যেন সন্ধান দিলেন বিকল্প একটি পথের।
পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম জেলায় জঙ্গলমহল নামেই পরিচিত। আর এই জঙ্গলের মধ্যেই বাস করেন আদিবাসী সম্প্রদায়। যাদের দিন চলে জঙ্গলের শুকনো ডাল, পাতা কুড়িয়ে। এমন যাদের অবস্থা, তাঁরা সর্ষের তেলে রান্না করবেন কিভাবে? যখন মূল্যবৃদ্ধির কোপে দফারফা হয়ে গিয়েছে মধ্যবিত্তের হেঁসেল। কিন্তু ভরাতে হবে পেট। চালাতে হবে দিন। আর তাই সর্ষের তেলের বিকল্প পথের সন্ধান পেলেন তাঁরা। যা এক্সক্লুসিভলি ধরা পড়ল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
জঙ্গল থেকে মহুয়া বীজ নিয়ে এসে তাঁরা তৈরি করছেন তেল। যার কাজ কোন অংশেই সর্ষের তেলের থেকে কম নয়। একদিকে যেমন করা যাচ্ছে রান্না, তেমনই অন্যদিকে ব্যবহার করা হচ্ছে গায়ে মাখার জন্যও। কিন্তু কিভাবে তৈরি হচ্ছে এই তেল? আসুন শুনে নেওয়া যাক, তাঁদের মুখ থেকেই।
কিন্তু সারা বছর এই মহুয়ার বীজ পাওয়া যায়না। একমাত্র বর্ষাকালেই সংগ্রহ করার জন্য এই আদিবাসী মানুষগুলোকে ঘুরতে হয় জঙ্গলের ভেতরে গিয়ে। আর যেহেতু এলাকায় তেল তৈরির মত কোন পরিকাঠামো নেই, তাই ইলামবাজার থেকে শুকনো বীজ পিষে তেল বার করে নিয়ে আসতে হয়। যা এমনি সময়ে দেখতে হয় সর্ষের তেলের মত কিন্তু ঠান্ডা নামলেই নারকেল তেলের মত জমাট বেঁধে যায়। সুতরাং এই তেল যে একেবারে আলাদা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
কেউ আসেনা তাঁদের কাছ থেকে এই তেল কিনে নেওয়ার জন্য। তাই নিজেরাই তৈরি করে সেই তেল ব্যবহার করেন নিজেদের জন্যই। কিন্তু একদিকে যখন সর্ষের তেল তরল সোনার মত মহার্ঘ্য হয়ে উঠছে তখন মহুয়া বীজের তেল সঠিকভাবে প্রশাসনিক নজরদারি পেলে তা ব্যবসার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারবে। স্বাবলম্বী হতে পারবেন তাঁরাও। অন্তত এমনটাই বললেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু।
প্রশাসনের নজর পড়লে এই তেল কর্মসংস্থানের দিশা দেখাবে। একদিকে যখন সর্ষের তেলের দাম আকাশছোঁয়া তখন জঙ্গলমহলের প্রান্তিক মানুষগুলো প্রকৃতির রসদ থেকেই পেয়ে যেতে পারেন আয়ের দিশা। যা একইসঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে জঙ্গলমহলের বাইরে, গোটা রাজ্যে। বিকল্প পথের সন্ধান দেখিয়ে দিয়েছেন এই আদিবাসী মানুষগুলো। এখন দেখার, প্রশাসনিক তৎপরতা তাঁদের কতটা স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।
পত্রলেখা বসু চন্দ্র
বর্ধমান