Market
বি পি এন ডেস্কঃ আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার কারণে ধাক্কা খেতে চলেছে অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের চা শিল্প। একদিকে বেড়ে চলেছে তাপমাত্রা অন্যদিকে দেখা নেই বৃষ্টির। যে কারণে চা উৎপাদনে হতে চলেছে বড়সড় ক্ষতি।
মার্চ মাসের শেষ। অন্যান্য বছরে হিমালয়ের তরাই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের কারণে এই সময় চায়ের উৎপাদন থাকে তুঙ্গে। দেশের সবচেয়ে বেশি ব্ল্যাক টি-এর জোগান দিয়ে থাকে এই দুটি রাজ্যই। ভারত প্রতিবছর ১০০ মিলিয়ন কেজি ফার্স্ট ফ্লাশ চা উৎপাদন করে। এবং ব্ল্যাক টি উৎপাদন করে প্রায় ১৩৯০ মিলিয়ন কেজি। গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই বছরে বৃষ্টি মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় মার খেতে চলেছে চা ব্যবসা। ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ের ক্ষেত্রে সেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫-১০%-এ।
এমনিতেই অতিমারির কারণে মন্দার ছায়া চেপে বসে চা শিল্পে। কারণ অসম এবং বাংলা থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায় উৎকৃষ্ট মানের চা। কোভিডের সংক্রমণ বাড়ায় শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেনই চা ব্যবসায়ীরা। তার ওপর বৃষ্টিপাতের তীব্র অভাব যেন আতঙ্ক আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিল। ফার্স্ট ফ্লাশ চা উৎপাদনের জন্য যেখানে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন সেখানে এই বছরে বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ৫০ থেকে ৭৬ মিলিমিটার।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর থেকেও জানানো হয়েছে, দেশের বেশ কিছু জায়গায় গরম এবার দাপট দেখাতে চলেছে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলিতে লম্বা ইনিংস খেলতে পারে গরম। যে কারণে শুকনো আবহাওয়াই এখন ভিলেন হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলা-অসমের চা শিল্পে। এখন ব্যবসায়ীদের নজর এপ্রিল মাসের দিকে। আবহাওয়ার উন্নতি যদি হয় এবং তার দরুন যদি বৃষ্টিপাত হয় তবেই হয়ত ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানো যেতে পারে চা শিল্পকে।