Story
দশমীতে যেচে প্রনাম থেকে লক্ষ্মীপুজো- প্রনামের সে কী ঢল। প্রনামের থেকে মুড়ি, মুরকি আর নারকেল নাড়ুর দিকে টান থাকত বেশি। নাড়ুর মিষ্টি গন্ধে ম ম করত সারা পাড়া। বাচ্চা থেকে বুড়ো- নাড়ুর প্রতি ঝোঁকটা আসলে সার্বজনীন।
এখন তো হাতে একটুও সময় নেই। গুড় জ্বাল দাও রে, এটা ওটা মেশাও রে, পাক ঠিকঠিক হল কী না সেটা দেখ রে- এত হ্যাপা সামলাবে কে? ঠাকুরকে নাড়ু দেওয়া নিয়ে কথা। আর তাছাড়া দোকানের তৈরি রেডিমেড নাড়ুগুলো তো বেশ ভালোই। নিজের বাড়ি হোক বা পাড়া প্রতিবেশিদের মুখে আজকাল এধরণের কথা অহরহ শোনা যায়। আসলে সময় বাঁচানোর চর্চা চিরাচরিতভাবেই চলে আসছে। বদলাচ্ছে জীবন যাপনের সংজ্ঞা। আর ধীরে ধীরে হোমমেড থেকে বঙ্গ পার্বণের অঙ্গ হয়ে উঠছে রেডিমেড নাড়ু।
বাড়িতে নাড়ু বানানোর হ্যাপা এড়াতে বাজারে দেদার বিকোচ্ছে রেডিমেড নাড়ু। স্বাদেও মন্দ নয়। নাড়ু তৈরি এখন তো আবার পেশায় পরিণত হয়েছে। রেডিমেড নাড়ুর ক্রেজ ইদানিং এতটাই বেড়েছে যে বাজার দোকানে শুধু এই নাড়ু বিক্রি করতেই ছাওনি খাটিয়ে অস্থায়ী পসরা সাজিয়ে বসছেন খুচরো ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীদেরও সুবিধা, আবার ক্রেতাদেরও।
তবে যাই বলুন, বাড়ির স্বাদ কী আর মেলে? কিন্তু, হাপিত্যেশ করে আর কী লাভ! এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি। মানুষের সংখ্যা কম। কাজ বেশি, সময় কম। সুতরাং আয়োজন সীমিত। স্বাভাবিকভাবেই রেডিমেড নাড়ুর ওপর একচেটিয়া নির্ভরশীল হচ্ছে মানুষজন।
অনুপ জয়সয়াল (উত্তর দিনাজপুর)
কাঞ্চন দাস (পশ্চিম বর্ধমান)