Story
ছোটবেলার সেই ফেরিওয়ালার কথা মনে পড়ে? অলস দুপুরের সেই ফেরিওয়ালা, যার ঝুলি ভর্তি বাউল, মাঝি, কৃষক, সব্জিওয়ালা দেখে হামলে পড়তে ইচ্ছে করত? মনে হত, এ যেন এক নতুন পৃথিবী। কষ্টেসৃষ্টে ঝুলির থেকে একটা বাউল বা একটা মাঝি আদায় করার পর সযত্নে তাকে শো-কেসে তুলে রাখা ছাড়া বিশেষ কিছুই করনীয় ছিল না। কিন্তু ওটুকুতেই যেন শান্তি। পরবর্তীকালে, সেই নিখুঁত মাটির পুতুলগুলোর দিকে তাকিয়ে কখন মনে হয়েছে, কী নিখুঁত শিল্প। কখনও জানতে ইচ্ছে করেছে, কারা এর শিল্পী?
মাটির শিল্প আর মৃৎশিল্পী মানেই কৃষ্ণনগর। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এসব নিয়ে খুব বেশি কথাবার্তা না হলেও, দেশে বিদেশে কৃষ্ণনগরের এই শিল্পের কদর কারোরই অজানা নয়। বিদেশের ল্যাবরেটরিতে রীতিমত রিসার্চ হয় বাংলার এই শিল্প এবং শিল্পীদের নিয়ে। অথচ বাংলায় এই মৃৎশিল্প আজ মৃতপ্রায় বলতে পারেন। তবু নিভতে থাকা এই শিল্পের টিমটিমে আলো জ্বলছে হাতেগোনা কিছু শিল্পীর হাত ধরে। এই যেমন রাজীব পাল।
(ভিজ্যুয়াল রাজীব পাল উইথ মিউজিক অনলি/ নো ভিও।)
কৃষ্ণনগরের কুমোরপাড়ায় এখন পুজোর ব্যস্ততা। দক্ষিণ কৃষ্ণনগরের নতুন বাজারের পাল পাড়াড় এই ছবিটাই যার প্রমাণ। যে পাড়ায় বাণিজ্যিকভাবে দুর্গা প্রতিমা তৈরীর সূচনা করেন সুবল চন্দ্র পাল। আজ সেই ব্যবসাই সামলাচ্ছেন সুবল বাবুর ছেলে রাজীব পাল।
তার স্টুডিওতে কাজ করছেন বেশ কিছু দক্ষ কারিগরও। যাদের গুণ আর ধৈর্যকে কুরনিশ জানাতেই হয়। নিপুণ তাদের হাত। একচালা হোক বা পাঁচচালা অথবা থিমের সঙ্গে মানানসই মূর্তি, জত্ন করে তৈরি করে যাচ্ছেন, অথচ মুখে ক্লান্তির ছোঁয়াটুকু নেই।
করোনার প্রভাবে গতবছর খুব একটা ভাল আয় করেননি সেখানকার মৃৎশিল্পীরা। তবে, এইবছর সেই প্রভাব অনেকটাই ম্লান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বেঁকে বসেছে প্রকৃতি। মাটি না থাকলে মাটির শিল্প হবেই বা কীভাবে?
যে শিল্প মায়ের মূর্তিতে সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠা করতে জানে, তাকে কোন প্রতিকূলতাই হারাতে পারে না। আর সামনে পুজো। সময়ের মধ্যে মূর্তি তৈরি করাই এখন শিল্পীদের লক্ষ্য। প্রকৃতি হোক বা সময়- কোন প্রতিকূলতাই তাদের ইচ্ছাশক্তির কাছে বড় হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। তাই হাজারও একটা বাধা সত্ত্বেও কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প জিতছে। জিতে যাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা।
সুব্রত সরকার
নদীয়া