Daily
শুরু হয়ে গেল বাঙালির বই পার্বণ। ফ্র্যাঙ্কফুট বইমেলার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭৬ সালে বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের সামনের মাঠে কয়েকটা মাত্র স্টল আর প্রদর্শনী দিয়ে শুরু হওয়া এই মেলা এখন আন্তর্জাতিক। আর এবার ৪৬ বছরে পা দিল কোলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। আন্তর্জাতিক বইমেলার এবারের থিম কান্ট্রি স্পেন। আর তাই স্পেনের টলেডো গেটের আদলে একটি গেট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববাংলা গেটের আদলেও তৈরি করা হয়েছে একটি গেট। গত ৩১ সে জানুয়ারি থেকেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বইমেলা প্রাঙ্গনের দ্বার। চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বইমেলাকে কেন্দ্র করে কোলকাতাবাসী তথা গোটা দেশের মানুষের উৎসাহতে কোনকালেই ভাটা পড়েনি। আর আজ ডিজিটাল যুগেও সেই ধারা অব্যাহত। উদ্বোধনের দিনই বইমেলা প্রাঙ্গনে উপচে পড়ে হাজার হাজার বইপ্রেমীদের ভিড়। পাঠক, লেখক, প্রকাশক- সবমিলিয়ে বইমেলা প্রাঙ্গন জমজমাট। আর কোভিডের পর বইমেলা প্রাঙ্গনে যে বাড়তি ভিড় হবে এইবছর সেই ব্যাপারে আগে থেকেই আঁচ করেছিল উদ্যোক্তা সংস্থা গিল্ড। আর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাপনাতেও কোনরকম ত্রুটি রাখা হয়নি। আর শিয়ালদা মেট্রো চালু হয়ে যাওয়ায় বইমেলার স্থায়ী ঠিকানা মানে সল্টলেক সেন্ট্রাল পার্কে যাতায়াত আরও সহজ হয়ে উঠেছে। যে কারণে প্রচুর মানুষ এখন বইমেলাতে ভিড় জমাচ্ছেন।
তবে সমস্ত প্রস্তুতির পরেও ই-বুকের যুগে বইয়ের চাহিদা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কিন্তু, সে প্রশ্নের উত্তর পেতে খুব বেশি সময় ব্যয় করতে হয়নি।
সত্যিই তো। যতই ই-বুকের জামানা আসুক না কেন। বইয়ের বিকল্প হয় না। আসলে সেই বিকল্প তৈরি হওয়ার জায়াগাই নেই। তাই যতই ই-বুকের বাড়বাড়ন্ত হোক আর যতই চ্যাটবটের ইনভেনশন হোক- বইয়ের জায়গা কেউ নিতে পারবে না।
এ বছর বই মেলাতে অনেক ছোট মাঝারি পাবলিশার্সকেও স্টল করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে গিল্ডের তরফে। এ বছর মোট ৪০০ টি স্টল এবং ২০০ টি লিটল ম্যাগাজিন কর্নার থাকছে বইমেলা প্রাঙ্গণে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর কলকাতা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাষ্ট্রদূতরাও।
বিক্রম লাহা
কোলকাতা