Story

ফুলে ফুলে, দুলে দুলে নদীর হাওয়ায়, বিশেষ করে রূপনারায়ণের গৌরাঙ্গ ঘাটে, করোনার চোখ রাঙ্গানির মধ্যেও বসেছে, বাহারি রঙের অনাবিল আনন্দের হাট।
পুষ্প প্রদর্শনী তো অনেকই দেখা যায়। কিন্তু ফুলের হাট কোলাঘাটের গৌরাঙ্গ ঘাটের এই প্রদর্শনীটা একেবারে অন্য প্রদর্শনী থেকে আলাদা। প্রায় ১৬ জন ফুল চাষি ৭০০-রও বেশি টব দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন, ১২ ঘর এক উঠোনের মিলন বার্তাকে। আর সেই মিলন ক্ষেত্র অবশই রূপনারায়ণের গৌরাঙ্গ ঘাট। নাহ আজকে আর কিছু বলব না। চলুন বিজনেস প্রাইমের ক্যামেরা চলছে।
দেখুন নদীর হাওয়ায় কেমন খিলখিল করে হাসছে মরশুমি অতিথিরা। কে নেই সেই দলে? ক্যামিলিয়া, স্নো -বল, ডালিয়া, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা। সবাই হাসছে নিজের মত করে। সচেতনতার বার্তাকে সামনে রেখে। প্রত্যেক বছর, এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান। এবার তাই উদ্যোক্তারা জাঁকজমককে দূরে সরিয়ে দিয়ে, ওদের মাথা তোলার পরিসরটাকে আরও একটু বাড়িয়ে দিয়েছে। নেই দর্শকদের হাতের অত্যাচারের ছোঁওয়াটুকু। বাড়িতে বসেই ফুলপ্রেমীরা গৌরাঙ্গ ঘাটের এই অনাবিল সাধ উপভোগ করতে পারবেন বিভিন্ন সমাজমাধ্যমের মধ্যে দিয়ে।
একদিকে শীতের আমেজ, মিঠে রোদ গায়ে মেখে নিয়ে দুপুর ২ থেক ৫ টা পর্যন্ত ফুলপ্রেমীদের জন্য খোলা থাকছে গৌরাঙ্গ ঘাট। তবে অবশ্যই মাস্ক পড়ে স্যানিটাইজার হাতে নিয়ে আসতে হবে। নদীর পাড়ের একটা ঘাটকে যে এভাবে ফুল ঘাটে পরিনত করা যায় তা বোধ হয় এখানে না আসলে টের পাওয়া যেত না। আর এই সম্ভব কে যিনি সম্ভব করলেন, কি বলছেন সেই প্রতিষ্ঠাতা, আয়োজক? আসুন শুনি তার কথাও।
এমনিতেই বাংলার ফুল অর্থনীতিতে বিশেষ করে ফুল বিকিকিনির বাজার হিসেবে কলকাতার পরেই মানুষের মখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে কোলাঘাট ফুল বাজারের কথা। কারণ এই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বেশ কয়েক হাজার ফুল চাষি বসবাস করেন যারা নিয়মিত ভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাহারি ফুলের জোগান দিয়ে নিজেদের জীবন জীবিকাকে বেশ ভালো করেই সামলান। কাজেই সেই সমস্ত ফুল চাষিদের শিল্পকলাকে আর একটু প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার লক্ষ্যে বেশ অনুঘটকের কাজ করে গৌরাঙ্গ ঘাটের এই পুষ্প প্রদর্শনী।
করোনা, সব উৎসবে থাবা বসালেও, থাবা বসাতে পারেনি ফুল ফোটার উপর। আর ফুল ফোটার উপর থাবা বসাতে পারেনি বলেই রূপনারায়ণের পারে নদীর হাওয়ায় ওরা যেন নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগীতায় নেমেছে। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায় দেখ। আজ নেই শুধু জৌলুসটুকু। জৌলুসটুকু নয় নাই বা থাকল। অন্তত ফুলগুলো তো বাঁচল।
প্রসূন ব্যানার্জি
পূর্ব মেদিনীপুর