Story
মহাকবি শেক্সপিয়র বহুদিন আগেই বলেছেন, নামে কি আসে যায়? এই উক্তিটি যে কতটা সত্যি, সেটা স্পষ্ট কেরালা সুন্দরী নামটি শুনলেই। নামের মধ্যে কেরালা থাকলেও এর সঙ্গে কেরালার কোন সম্পর্ক নেই। বরং বলা যেতে পারে, একেবারে খোদ বাংলার মাটিতেই চাষ হল এই সুন্দরী ধানের। হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। কেরালা সুন্দরী একটি ধানের নাম। যে ধান চাষ করে উত্তরবঙ্গের কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস আজ বেজায় খুশি। তাঁর সাফল্যে খুশি কৃষি দফতরের আধিকারিকরাও।
আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের কামাখ্যাগুঁড়ি ১নং গ্রাম পঞ্চয়েতের তেলিপাড়া মৌজার কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস। যিনি কৃষি আধিকারিকদের পরামর্শ মেনে পাইজাম, বিরোইয়ের মত স্থানীয় প্রজাতির ধানচাষ না করে কেরালা সুন্দরীর চাষ করেন। ফলন দেখে তো অবাক কৃষি আধিকারিক নিজেই। আর প্রাণেশ বিশ্বাসের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে তিনি কতটা লাভবান হয়েছেন।
সাধারণত স্থানীয় ধানগুলোর ফলন হয় বিঘা প্রতি সাত থেকে আট মণ। সেখানে কেরালা সুন্দরী যেন প্রথম ইনিংসেই হাঁকাল সেঞ্চুরি। ফলন দেখে অনুমান করা হচ্ছে, বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৬ মণ ফলন হয়েছে প্রাণেশ বিশ্বাসের জমিতে। খরচের ক্ষেত্রেও তেমন একটা ফারাক নেই। বরং স্থানীয় ধান চাষ করতে গেলে যে খরচ হয়, কেরালা সুন্দরী ধান চাষেও খরচ পড়ে একই। উল্টে লাভের পরিমাণ হয় দ্বিগুণ। আর এখানেই সাফল্য।
রোগপোকার আক্রমণ যথেষ্ট কম। খরচও প্রায় এক। এদিকে কৃষকের লাভ দ্বিগুণ। যা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল প্রাণেশ বিশ্বাসের জমির ফলনকে। ফলন বেশি হওয়ায় কৃষি আধিকারিকরা ভাবনা চিন্তা করছেন পরের বছর যাতে আরো বেশি জমিতে কেরালা সুন্দরীর চাষ করা যায়। প্রাণেশ বিশ্বাসের সাফল্য দেখে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ পেয়েছেন অন্যান্য কৃষকরা। তাঁরা এখন মাঝেমধ্যেই ঢুঁ মারছেন প্রাণেশ বিশ্বাসের জমিতে। নিজের চোখেই দেখছেন কেরালা সুন্দরীর ভরা ফলনের ছবিটা।
কৃষকদের উৎসাহ দেখে এখন কৃষি আধিকারিকরাও যথেষ্ট আশাবাদী কৃষকদের মধ্যে কেরালা সুন্দরীকে আরো বেশি করে ছড়িয়ে দেবার জন্য। আর জৈব পদ্ধতিতে চাষ করেও যে এতো ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাতে উচ্ছ্বসিত তাঁরাও।
ধানের কত প্রজাতি। কতই না তার বাহার। চাষের জমিতে যদি ফলন ভরাট থাকে তাহলে কৃষকের হাসি তো চওড়া হবেই। আর যেখানে ধানের স্থানীয় প্রজাতি চাষ করে তেমন একটা লাভ দেখা যাচ্ছিল না সেখানে কেরালা সুন্দরীর মত ধান যেন সত্যিই চাষের জমিতে সাফল্যের হাতছানি দিচ্ছে।
অভিজিৎ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার