Story
কুটিরশিল্পে বরাবরই শহরকে টেক্কা দিয়ে এসেছে গ্রাম। আর এবার গ্রামের মহিলাদের টেক্কা দিতে জোর কদমে লেগে পড়লেন কল্যাণী পুরসভার স্বয়ম্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। প্লাস্টিক দূষণ রুখতে জোর পদক্ষেপ নিয়েছে কল্যাণী পুরসভা। এবার সেই পদক্ষেপকে কার্যকরী করতে ময়দানে নামলেন কল্যাণী পুরসভার ৪৮১ টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা। করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই শুরু করলেন কাগজের ব্যাগ তৈরির কাজ।
প্রায় দু’বছর করোনা অতিমারি জন্য বেশিরভাগ গোষ্ঠী মুখ থুবড়ে পড়েছে কিন্তু তারমধ্যেও কল্যাণী পুরসভার এই হস্তশিল্পীরা পেপার ব্যাগ তৈরি করে ব্যাপকভাবে লাভের মুখ দেখছেন।
কল্যাণী পুরসভার প্রায় ৫০টি পরিবারের মহিলা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। প্লাস্টিক বর্জন কঠোর হাতে দমন করতেই কাগজের ব্যাগ তৈরিতে জোর দেয় কল্যাণী পুরসভা। আর তাই পেপার ব্যাগ তৈরিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজে যুক্ত হন এই মহিলারা। এবং যথেষ্ট লাভবানও হচ্ছেন তাঁরা।
বর্তমানে কলকাতার একটি নামী সংস্থা প্রায় ৫০০০ ব্যাগের বরাত দিয়েছে যার কারণে এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে গোষ্ঠীর মহিলাদের। ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা বা ২০ টাকা অব্দি রয়েছে ব্যাগের দাম। যা সত্যিই নিপুণ হাতে তৈরি।
করোনা পরিস্থিতিতে একটু পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বনির্ভর করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে কল্যাণী পৌরসভা। আর তাতেই দীপা ভক্ত, মিতালী মজুমদারের মত প্রায় ৫০ জনেরও বেশি মহিলা এই কাজ করে আজ তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেরা স্বনির্ভর এবং স্বাবলম্বী।
প্রায় দু’বছর করোনার সংক্রমণ রোধে চলছে লকডাউন। আর তাতেই সেভাবে হচ্ছেনা কোন মেলা। তাই আপাতত বাড়িতে বসেই নিজেরা এই কাজ করে চলেছেন গোষ্ঠীর মহিলারা। তাঁদের আশা আগামী দিনে সবকিছু স্বাভাবিক হলে এবং বিভিন্ন জেলায় জেলায় মেলার আয়োজন হলে তাঁদের এই হস্তশিল্পের ব্যাগ অনেক বেশি প্রচার হবে।
ইতিমধ্যেই আমরা জানি দেশসহ রাজ্যজুড়ে প্লাস্টিক ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাই আগামী দিনে তাদের আশা আরো চাহিদা বাড়বে এই ব্যাগের।
গ্রাম হোক বা শহর সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মহিলাদের এই অগ্রণী ভূমিকা সত্যিই আশার আলো দেখায়।
রনি চ্যাটার্জী, নদিয়া