Story

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদল এসেছে চাহিদায়। আর চাহিদা বদলের খেলায় হারিয়ে যেতে বসে অতীতের ঐতিহ্য। এই যেমন মাটির তৈরি পণ্য। একটা সময় ছিল যখন মাটির তৈরি কাপ এবং গ্লাসের চাহিদা ছিল বেশ ভালোরকম। সেই সময় মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততাও ছিল চোখে পড়ার মত। কিন্তু মাটির সামগ্রীর বাজার কার্যত গ্রাস করে নেয় প্লাস্টিক। সঙ্গ দেয় থার্মোকল। আর প্লাস্টিক এবং থার্মোকলের সর্বগ্রাসী বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে মাটির তৈরি কাপ, গ্লাসের বাজার। তবে এখন সেই ছবিতেও আসছে বদল। মানুষের চাহিদা আবারো বাড়ছে মাটির তৈরি কাপ, গ্লাসে। ফলে ব্যস্ততা বেড়েছে মৃৎশিল্পীদের।
উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের হাট পাড়া। এখানকার মৃৎশিল্পীরা সারা বছর ধরে মাটির সামগ্রী তৈরি করে থাকেন। তবে নতুন করে মাটির চায়ের কাপ এবং গ্লাস তৈরির বরাত পাচ্ছেন তাঁরা। স্বাভাবিকভাবেই, মৃৎশিল্পীদের একদিকে যেমন বেড়েছে ব্যস্ততা। তেমনি হাসিও অনেকটা চওড়া হয়েছে মাটির সামগ্রী নতুন করে ফিরে আসায়। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ মাটির কাপের বরাত তাঁরা পেয়েছেন। হাট পাড়ার মৃৎশিল্পীরা এখন নাওয়া খাওয়া ভুলে সেই কাজেই রয়েছেন মগ্ন। বাড়ছে আয়।
দিনে কেউ তৈরি করছেন ৫০০। কেউ বা আবার তৈরি করছেন হাজার। ব্যস্ততা অনেকটাই। প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার পর যাতে মৃৎশিল্পীদের অবস্থা না বেহাল হয়ে পড়ে তার জন্য ২৪ ঘণ্টা নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের। প্রয়োজনে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। সব মিলিয়ে মৃৎশিল্পে প্রাণ ফেরাতে কোনরকম কসুর করছে না রাজ্য সরকার। শিল্পীরা যাতে সবদিক থেকে লাভবান হতে পারেন। মাটির সামগ্রী বিক্রি করে যাতে তাঁরা দুটো বাড়তি পয়সার মুখ দেখতে পারেন সেদিকেই খেয়াল রেখেছে সরকার।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্লাস্টিক। একইসঙ্গে থার্মোকল। তাই প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন পরিবেশপ্রেমী থেকে রাজ্য সরকার সকলেই। স্বাভাবিকভাবেই থার্মোকলের তৈরি গ্লাস এবং কাপ থেকে মানুষ মুখ ফেরাচ্ছে। যে কারণে চাহিদা বাড়ছে মাটির তৈরি কাপ, গ্লাসের। আর চাহিদা বাড়তে শুরু করায় মৃৎশিল্পীদের নতুন করে কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাচ্ছে। এখন তাঁরা বরাত পাচ্ছেন কালিয়াগঞ্জ সহ আশেপাশের এলাকা থেকেও। ফলে খুশির হাওয়া হাট পাড়ার মৃৎশিল্পীদের মধ্যে।
পিটিসি
অনুপ জয়সোয়াল
উত্তর দিনাজপুর