Story
ইলিশ যদি রূপোলী শস্য হয় পাট তবে সোনালি। দুজনেই বর্ষার ফসল। একজন জলে তো একজন স্থলে। সকালে রোদ আর রাতে বৃষ্টি পেলে পাট বেড়ে ওঠে নিজের মনে। ঠিক সেই ছবিটাই ধরা পড়ল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকে। যেখানে জমির পর জমি জুড়ে হাওয়ার সঙ্গে মাথা দুলিয়ে চলেছে পাট গাছ। যে কারণে অতিমারির মত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তি পেয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের পাট চাষিরা।
এই বছর প্রথম থেকেই বর্ষা তার ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করে দিয়েছে। যা পাট চাষের জন্য আদর্শ। কারণ বায়ুর আর্দ্রতা ৬০-৯০% পাট চাষের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। আর বর্ষা উত্তর দিনাজপুরে প্রবেশ করার পর থেকেই আবহাওয়াকে পাটের ফলনের জন্য অনুকূল করে তুলেছে। ফলে এখন আর চাষিদের তেমন একটা চিন্তা নেই।
তবে পাট চাষিদের লাভের মুখ দেখাতে কালিয়াগঞ্জ কৃষি দফতরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাট চাষ করার জন্য কৃষকদের সবরকম সাহায্য করা হয়। যাতে পাটচাষিদের কোন রকম সমস্যার মুখে না পড়তে হয়। তবে এটা ঠিক যে অতিমারির প্রভাবে সব জায়গাতেই পড়েছে। পাট চাষের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবারে চাষিদের একটু কম ফলনই হয়েছে।
এই নতুন প্রযুক্তিতে চাষ করার অন্যতম কারণ কম বীজ। নির্দিষ্ট দূরত্বে পাট গাছের চাষ হবে এবং তার সঙ্গে কম বীজে চাষাবাদ করে পাওয়া যাবে ভালো ফলন। আর পাট গাছের সবচেয়ে বড় খরচ হচ্ছে আগাছা নিয়ন্ত্রণ। যা কৃষি দফতরের সহায়তায় এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সম্ভব হবে।
প্রতিদিনের জীবনে পাটের ব্যবহার ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালিয়াগঞ্জের পাট চাষিরা তাদের ফসল যেমন হাটে বিক্রি করে, তেমনই জুট কর্পোরেশন এই পাট চাষিদের থেকে কিনে নেয়। ফলে ঠকে যাবার কোন ভয় নেই। শুধু উপযুক্ত আবহাওয়ায় পাটের ফলন ভালো হওয়া প্রয়োজন। আর এবারে যে ফলন ভালো হয়েছে তা পাট গাছের বেড়ে ওঠা দেখলেই বোঝা যায় |
অনুপ জয়সোয়াল, উত্তর দিনাজপুর