Story
দিল্লির আছে সিমলা, মুসৌরি। বোম্বের মহাবালেশ্বর। মাদ্রাসের উটি, নীলগিরি। কিন্তু কলকাতার? ১৮০০ সাল নাগাদ তো কলকাতার হাতে কিছুই ছিল না। তাই কলকাতার পচা গরম সহ্য করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবরা কাজ করতেন বছরভর। হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে ধনী ব্রিটিশরা মাঝেমধ্যেই পালাতেন ইংল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেই সময় এভাবে যাতায়াত করার মত ট্যাঁকের জোর সব সাহেবদের মোটেই ছিল না। তাই হাওয়া বদলের জন্য অধিকাংশ সাহেবদের প্রয়োজন ছিল সস্তার একটি ভ্রমণের জায়গা। আর যে কারণে সাহেবসুবোদের বুদ্ধির দৌড়ে বাংলার মানচিত্রে ঠাঁই হয়েছে দার্জিলিংয়ের। আজ আমরা দার্জিলিংয়ের ইতিহাস নিয়ে কিছু বলব না। সেটা আরেকটা ভিডিওতে বলা যাবে। বরং আজ বলা যাক দার্জিলিংয়ের ব্যবসা নিয়ে। এটা অনেক বেশি ইন্টারেস্টিং হবে। কারণ দার্জিলিং মানেই তো শুধু ট্যুরিজম আর চা। কিন্তু দার্জিলিংয়ের বিজনেস নিয়ে বাংলায় প্রতিবেদন আর কটা? অগত্যা…বিজনেস প্রাইম নিউজ নিজের হাতে তুলে নিল সেই দায়িত্ব। শুনতে হলে ধৈর্য লাগবে। দেখতে হবে পুরোটা।
দার্জিলিংয়ে যান নি, এমন বাঙালি কিন্তু রেয়ার। আর যারা দার্জিলিং গেছেন তাঁদের অধিকাংশই দার্জিলিং বলতে চেনেন ম্যাল আর মহাকাল মন্দির। যেটা হেঁটে ঘুরে আসা যায়। বাকি দার্জিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে যা আশেপাশের জায়গা রয়েছে, সব ঐ চারচাকার দৌলতে। তাই দার্জিলিং শহরটা নিয়ে মানুষের খুব বেশি আইডিয়া নেই। অন্তত যারা একেবারেই যাননি, তাঁদের কাছে দার্জিলিংয়ের সিম্বল বলতে শুধু চা, ম্যাল, টাইগার হিল আর আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা। কিন্তু বিজনেস প্রাইম নিউজ দার্জিলিং ঘুরেছে একেবারে পায়ে হেঁটে। শহরের একেবারে ভেতরে ঢুকে দেখেছে মানুষের ভির। জামা, জুতোর পসরা সাজিয়ে বসেছেন বহু বিক্রেতা। রয়েছে কিউরিও শপ। রয়েছে কত ছোট ছোট দোকান। মাঝেমধ্যে এমন ভির যে পা ফেলাই দায়। কিন্তু শহরটা যে ভীষণ প্রাণবন্ত। সূর্য উঠলে ঘড়ির কাঁটা ধরে ব্যস্ততা শুরু হয়। আর যত সন্ধ্যে ঘনিয়ে আসে ততই ঝিমিয়ে পড়ে এই শহর। ২০২০ সালে দার্জিলিংয়ের জনসংখ্যা ছিল ২০ লক্ষের মতন। যাদের মধ্যে ৭ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ বসবাস করেন শহরে। এবং ১১ লক্ষের বেশি মানুষ বসবাস করেন দার্জিলিংয়ের ভেতরে – শহর ছেড়ে। কিন্তু অর্থ রোজগারের আশায় তাঁদের পা ফেলতে হয় একেবারে শহরের প্রাণকেন্দ্রেই। কারণ পর্যটকদের ভির তো সবচেয়ে বেশি এখানেই। পর্যটক আসা মানে এখানকার ব্যবসা এক লাফে উঠে পড়ে অনেকটা উপরে। কারণ যত পর্যটক তত গাড়ি, ঘোড়া, কেনাকাটা সবই। পুরোটাই চেন সিস্টেমের মতন। ম্যালকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে জোয়ার আসলে সেই প্রভাব পড়বে এনজেপি স্টেশনে পর্যটকদের আশায় দাঁড়িয়ে থাকা ড্রাইভারগুলোর সংসার থেকে ম্যালে মোমোর দোকান দেওয়া বিক্রেতার জীবনেও। করোনার কারণে করুণ হাল তৈরি হয় দার্জিলিংয়ের। এখানে মেজর শিল্প বলতে ট্যুরিজম এবং চা। চায়ের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে যদি শুধু ট্যুরিজমকে ধরা যায় তাহলে বলা যেতে পারে এর উপর নির্ভর করছে দার্জিলিংবাসীর রুজিরোজগার। তাই পর্যটক শূন্য দার্জিলিং মানে তাঁদের অবস্থাও যে কিছুটা ভাঁড়ে মা ভবানি হবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এখন করোনার দাপট নেই। বরং সমতলে রোদের দাপট বেড়েছে। ওদিকে বৃষ্টি আর ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে দার্জিলিং শহর জুড়ে। সুতরাং, দক্ষিণবঙ্গের মানুষের মনে ফের জেগেছে পালাই পালাই মনোভাব। আর তাতেই হাসি চওড়া হচ্ছে সেখানকার সাধারণ মানুষের। ভির যেভাবে বাড়ছে তাতে গাড়ি চালিয়ে আর পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বুক চিনচিন করছে না। বরং ব্যবসা যে ভালোই হচ্ছে, সেটাই শোনা যাচ্ছে আমাদের ক্যামেরায়।
ম্যাল পর্যন্ত গিয়ে গাড়ির প্রবেশ প্রহিবিটেড। হেঁটে ওঠো। একদিকে কেভেন্টার্স, গ্লেনারিজ। অন্যদিকে এটা-ওটার দোকান। তার মধ্যে যেমন রয়েছে কিউরিও শপ, তেমনি বিভিন্ন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসছে দোকানগুলো। করোনার আগে গমগম করত গোটা জায়গাটা। ভির লেগেই থাকত। এখন সেই ভির কিছুটা হাল্কা হয়ে এলেও ব্যবসা যে আবার মুখ ঘোরাচ্ছে, সেই বিষয়ে ব্যবসায়ীরা সরাসরি বললেন আমাদের ক্যামেরাতেই।
দার্জিলিং বাঙালির আবেগ। তাই দার্জিলিংয়ের পাশে দিপুদা ট্যাগ বসিয়ে দিলেই দার্জিলিংকে তুলে ধরা হয় না। দার্জিলিং জুড়ে যে কি চরম ব্যস্ততা কাজ করছে সেটা ধরা পড়বে যদি শহরের ভেতরে যাওয়া যায়। আর ব্যস্ততা কখন হয়? যখন সেখানকার অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। অর্থনীতি চাঙ্গা তখনই হবে যখন দিনের শেষে উপার্জনের অঙ্কটা প্রতিটি মানুষের হাতে থাকবে। তাই বলা যায়, করোনার ক্ষত সারিয়ে পর্যটকরা আসছেন। পর্যটকদের ভির যত বাড়ছে ততই চওড়া হচ্ছে পাহাড়ের হাসি। হোটেল থেকে গাড়ি প্রতিটা ক্ষেত্রে যদি বিজনেস বিজনেস আর বিজনেস- শুধু এটাই প্রাধান্য পায় তবে দিনের শেষে তাঁদের হাঁড়িও চরবে আগুনে। ভালো থাকবে দার্জিলিং। ব্যস্ত থাকবে দার্জিলিং। প্রতিবেদনটা যদি ভালো লেগে থাকে তবে শেয়ার করুন। সঙ্গে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেল বিজনেস প্রাইম নিউজ। আর হ্যাঁ, এবার ঘুরতে গেলে শুধু ম্যাল নয়। বরং পায়ে হেঁটে ঘুরে নিন শহরটা। ভালোই লাগবে পাহাড়ের এই ব্যস্ততা দেখতে পেলে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ