Tourism
কথায় বলে, লিভ লাইফ কিং সাইজ। বাঁচুন রাজার মতন। আর বাঁচতে হলে ট্র্যাভেল মাস্ট। কিন্তু এখন রাজা নেই, রাজ্যপাটও নেই। তাই বলে, ভ্রমণ রাজকীয় না-হলে কি হয়? তাই রাজার মতন ঘুরতে যদি চান, তাহলে এখনো রয়েছে একটা চান্স। যদি ঘুরতে পারেন মহারাজা এক্সপ্রেসে, তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে পারবেন, সত্যিই রাজার মতনই ঘুরলাম। সৌজন্যে ভারতীয় রেল। হ্যাঁ, তার জন্য পকেট গরম থাকাটা মাস্ট। আসুন, আজ আমাদের সঙ্গে ঘুরতে চলুন বন্ধুরা ভারতের অন্যতম বিলাসবহুল ট্রেন মহারাজা’স এক্সপ্রেসে। এই প্রতিবেদনটি হতে চলেছে একটু অন্যরকম।
বয়স মাত্র ১২। কিন্তু এই দশ বছরেই মহারাজা এক্সপ্রেস চিনিয়ে দিয়েছে কাকে বলে রাজার জাত। ২০১২ থেকে ২০১৮ – টানা ছ-সাত বছর দ্য ওয়ার্ল্ড’স লিডিং লাগজারি ট্রেন হিসেবে জায়গা পাকা করে নিয়েছে এবং কুড়িয়ে নিয়েছে দ্য ওয়ার্ল্ড ট্র্যাভেল অ্যাওয়ার্ড। মহারাজা’স এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হয় আইআরসিটিসি এবং কক্স অ্যান্ড কিং-য়ের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে। কিন্তু এক বছরের মাথায় এই উদ্যোগ টারমিনেট হয়ে যায় এবং মহারাজার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে আইআরসিটিসি। পাঁচতারা এমনকি সাততারা হোটেলের থেকে কোন অংশে কম নয় এই মহারাজা’স এক্সপ্রেস। বিলাসবহুল এই ট্রেনটি মূলত দেশের চারটি রুটে যাতায়াত করে। উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতে মহারাজার রাজকীয় যাত্রা উপভোগ করতে শুধু দেশের মানুষরাই নন, চলে আসেন বিদেশের বিভিন্ন পর্যটকরা। সব মিলিয়ে মহারাজা’স এক্সপ্রেস নিঃসন্দেহে পৃথিবীর অন্যতম বিলাসবহুল ট্রেন হিসেবে সমীহ কুড়িয়ে নিয়েছে বহু মানুষের। কিন্তু এই ট্রেনে এমন কি রয়েছে যার জন্য মহারাজা’স এক্সপ্রেসের এত জয়জয়কার?
এই ট্রেনে রয়েছে ২৩টি কোচ এবং ১৪টি স্বতন্ত্র কেবিন। এই গোটা ট্রেনটিতে মোট ৮৪ জন যাত্রী একসঙ্গে ট্র্যাভেল করতে পারবেন। এই এক্সপ্রেস ট্রেনে রয়েছে ডিলাক্স কেবিন, রয়েছে জুনিয়র স্যুইট, স্যুইট, এবং প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুইট বলতে আসলে একটা গোটা কোচ। যেখানে আলাদা করে পাবেন সিটিং কাম ডাইনিং রুম, একটি মাস্টার বেডরুম, বাথরুম যেখানে রয়েছে শাওয়ার এবং বাথটব। এছাড়া ডাইনিং কোচেও রয়েছে আলাদা বিশেষত্ব। এই ট্রেনে দুটো ডাইনিং-এর জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল রঙ মহল এবং অন্যটি হল ময়ুর মহল। ময়ুর মহলের ডেকরেশন করা হয়েছে ময়ুরকে থিম করেই। এছাড়াও রয়েছে বার এবং লাইব্রেরির সুবিধা।
যে চারটি রুটে মহারাজা’স এক্সপ্রেস যাতায়াত করে সেগুলি হলঃ
হেরিটেজ অফ ইন্ডিয়াঃ
এটি মূলত ৬ রাত সাত দিনের ট্যুর। এই আইটিনারি মেনে চললে আপনি ভ্রমণ করবেন মুম্বই-অজন্তা-উদয়পুর-যোধপুর-বিকানির-জয়পুর-রণথম্বোর-আগ্রা-নিউ দিল্লি। এই প্যাকেজের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া ৬,৫০,১৬০ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া ১৯,৯০,৮০০ টাকা। ২৭৭১ কিমি পথ অতিক্রম করবে এই ট্রেনটি।
দ্য ইন্ডিয়ান স্প্লেন্ডারঃ
২৭২৪ কিমি এর এই পথ অতিক্রম করতে মহারাজা’স এক্সপ্রেস সময় নেবে ৬ রাত ৭ দিন মতন। এই প্যাকেজ নিলে আপনি ভ্রমণ করতে পারবেন দিল্লি-আগ্রা-রণথম্বোর-জয়পুর-বিকানির-যোধপুর-উদয়পুর-বালাসিনর-মুম্বই। এই প্যাকেজের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হয়েছে ৬,১৯,৯২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া রাখা হয়েছে ১৯,৯০,৮০০ টাকা।
দ্য ইন্ডিয়ান প্যানোরামাঃ
৬ রাত এবং ৭ দিনের মধ্যে এই ট্রেনটি কভার করবে ২৩০৯ কিমি পথ। এই প্যাকেজের মাধ্যমে আপনি ঘুরে আসতে পারবেন দিল্লি-জয়পুর-যোধপুর-রণথম্বোর-ফতেহপুর সিক্রি-আগ্রা-গোয়ালিয়র-ওরছা-খাজুরাহো-বেনারস-লখনউ-দিল্লি। এই প্যাকেজটি নিলেও আপনার সর্বনিম্ন ভাড়া পড়বে ৬,১৯,৯২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৯,৯০,৮০০ টাকা।
ট্রেজার্স অফ ইন্ডিয়াঃ
চারটি প্যাকেজের মধ্যে এটিই হচ্ছে সবচেয়ে ছোট ট্যুর। ৩ রাত এবং চার দিনের। ৮৬০ কিমি পথ অতিক্রম করবে ট্রেনটি। দিল্লি-আগ্রা-রণথম্বোর-জয়পুর-দিল্লি। এই প্যাকেজের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া রাখা হল ৩,৯০,৬০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ভাড়া রাখা হয়েছে ১০,৮৩,৬০০ টাকা।
এখানেই বলে রাখি, ট্রেনটি প্রয়োজনমতন ভাড়াতে মাঝেমধ্যেই যাত্রী টানার জন্য ছাড় ঘোষণা করে থাকে। তাই ছাড়ে দাম কমল নাকি আবার মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মহারাজাও টিকিটের দাম বাড়াল সেটা অবশ্যই মহারাজা এক্সপ্রেসের ওয়েবসাইট থেকে ভালো করে যাচাই করে নেবেন। এই হচ্ছে মহারাজা এক্সপ্রেসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট https://www.the-maharajas.com/
তবে হ্যাঁ। একটাই কথা। আপনি মনে হলেই কিন্তু যখন-তখন মহারাজা’স এক্সপ্রেস বুক করতে পারবেন না। কারণ, এই ট্রেন মূলত ট্র্যাভেলারসদের ঘুরিয়ে আনে অক্টোবর থেকে এপ্রিলের মধ্যে। ভাবতে পারছেন? অবাকও হচ্ছেন নিশ্চয়ই? রাজার মত ভ্রমণ করতে হলে ট্যাঁকের জোর একটু বেশি থাকতেই হবে। সেটা কিছু করার নেই। আর যদি ট্যাঁকের জোর ভালো থাকে তাহলে ঘুরে আসবার জন্য তো এইটুকু স্যাক্রিফাইস করাই যায়।
বিজনেস প্রাইম নিউজে।
জীবন হোক অর্থবহ