Story
উচ্ছিষ্ট খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে শকুন। গত ১০ জানুয়ারির রিপোর্ট বলছে আমাদের রাজ্যে শকুনের সংখ্যা মেরেকেটে ১৪০। তার অন্যতম প্রধান কারণ সাধারণ মানুষের চরম উদাসীনতা। যা শকুনের জীবন শুধু বিপন্ন করেই তোলেনি একইসাথে তাদের অস্তিত্বকেও একেবারে খাদের ধারে এনে দাঁড় করিয়েছে।
নজিরবিহীনভাবে শকুনের সংখ্যা কমে আসার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক প্রয়োগ। যা ব্যবহার করা হচ্ছে মৃত পশুদের শরীরে। যা শকুনের জন্য হয়ে উঠেছে প্রাণঘাতী। দিনের পর দিন এই কীটনাশকের ব্যবহার শকুনের অস্তিত্বকে কার্যত সংকটে ফেলে দিয়েছে। আর তাই অত্যন্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে শকুনের সংরক্ষণ।
শকুনের ওপর ক্ষতিকারক ওষুধ এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে দিতে সম্প্রতি জলপাইগুড়ির কদমতলা মোড়ের একটি হোটেলে আয়োজিত হল শকুন সংরক্ষণ নিয়ে একটি আলোচনা সভার। যেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল রাজেন্দ্র জাখের, বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের এডিএফও, স্ন্যাপ ফাউন্ডেশন, ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি সহ জলপাইগুড়ি চা ক্ষুদ্র চাষী সমিতির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন কীটনাশক ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। সেখানে উপস্থিত হয়ে শকুনের সংরক্ষণ কতটা জরুরি সেই নিয়ে কথা বলেন রাজেন্দ্র জাখের।
একইসঙ্গে তাঁর কথাতেও উঠে এসেছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রসঙ্গও। তিনি বলেছেন, কোথাও কোন ধরনের অনৈতিক নিষিদ্ধ ড্রাগ বা কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে এমন খবর পেলে বনদফতরের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাজ্যের বনদপ্তর, স্ন্যাপ ফাউন্ডেশন ও ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার সম্মিলিত উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশে যেমন প্রয়োজন রয়েছে ময়ূরের, তেমনই রয়েছে শকুনের। পরিবেশের সামঞ্জস্যতা রক্ষার জন্য প্রতিটি প্রাণের প্রয়োজন গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা উচিৎ। সকলেই যদি টিকে থাকতে পারে তবেই রক্ষা করা যাবে পরিবেশের ভারসাম্য।
নবেন্দু বাড়ৈ, জলপাইগুড়ি