Market
একটা সময় ছিল যখন দুবাই বা সৌদি আরব বলতে চারিদিকে বালির ঢেউ ছাড়া আর কিছুই নজরে পড়ত না। কিন্তু সেই দুবাইকে তাবড় ধনকুবেরদের কাছে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা হিসেবে তৈরি করেছেন শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাক্তুম। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ দুবাই হয়ে উঠেছে বিলাস, ব্যসনের এপিসেন্টার। তৈরি হচ্ছে একের পর এক গগনচুম্বী বহুতল। সেই বহুতল আজ কিনছেন বিশ্বের নানা প্রান্তের ধনী মানুষরা। সেই তালিকা থেকে পিছিয়ে নেই ভারতীয় ধনকুবেররাও। বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান থেকে মুকেশ অম্বানি। প্রত্যেকেই আজ দুবাইয়ে নিজের ঘাঁটি গড়েছেন। শোনা যায়, বিখ্যাত ব্রিটিশ ফুটবলার ডেভিড ব্যাকহামের পড়শি নাকি শাহরুখ নিজেই। এবার হাতে এলো একটি চমকপ্রদ তথ্য। জানা গিয়েছে, দুবাইয়ের বাড়ি বাজারে কার্যত রাজত্ব করছেন ভারতীয় ধনীরা। এবং তাঁদের হাত ধরেই ফুলেফেঁপে উঠছে দুবাইয়ের হাউজিং ইন্ডাস্ট্রি।
সূত্রের খবর, মুকেশ অম্বানি দুবাইয়ে যে বিলাসবহুল বাড়িটি কিনেছেন, তার দাম প্রায় ৮ কোটি ডলার। এছাড়াও আরেক ভারতীয় ধনকুবের লক্ষ্মী মিত্তল সম্প্রতি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন দুবাইয়ে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার নতুন করে কোন তথ্য না-দিলেও জানা গিয়েছে, মার্চ মাসে নাকি একটি বিলাসবহুল বাড়ি কেনা হয়েছে। যে বাড়িতে রয়েছে ১৮টি শয়ন কক্ষ এবং ৮টি বাথরুম। মনে করা হচ্ছে, এই বাড়িটি নাকি বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বাড়ি। বাড়িটি কিনতে খরচ হয়েছে নাকি ৮ কোটি ২৪ লক্ষ ডলার। এছাড়াও আরেকটি বাড়ি কিনেছেন অন্য এক ভারতীয়। সেই বিলাসবহুল বাড়িটি কিনতে নাকি খরচ হয়েছে ১৬ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার। কিন্তু সবথেকে অবাক করা বিষয় হল, দুবাইয়ের ভূমি অধিদপ্তর এই ক্রেতাদের নাম প্রকাশ করেনি। সম্প্রতি একটি তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, দুবাইয়ের বাড়ি বাজার এভাবে চাঙ্গা রাখার পেছনে সিংহভাগ হাত রয়েছে ভারতীয় ধনকুবেরদের। ফলে, দুবাই তাঁদের বাড়ি বাজার মজবুত রাখার জন্য নিয়ে এসেছে বেশ কিছু শর্ত। তার মধ্যে অন্যতম গোল্ডেন ভিসা। বিশ্বব্যাপী অতি ধনীদের গোল্ডেন ভিসা দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ মেয়াদে। এমনকি বিদেশিদের বাড়ি কেনার জন্য বিধিনিষেধেও আনা হয়েছে শিথিলতা। এছাড়াও বাড়ি কেনার জন্য যে লেনদেন করা হচ্ছে, তার ৭০% হচ্ছে নগদে।
মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাক্তুম- ইনিই হলেন আধুনিক সৌদি আরবের অন্যতম রূপকার। তাঁকেই বলা হয়, আধুনিক বিশ্বের অন্যতম সফল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার। একইসঙ্গে তিনি বর্তমানে সৌদি আরবের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিস্টার। তাঁর হাত ধরেই আকাশ ছুঁয়েছে বুর্জ খলিফা, তৈরি হয়েছে পাম আইল্যান্ড। শুধু পর্যটন নয়। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী বহু বিলাসবহুল মানুষদের আজ টেনে আনা হচ্ছে দুবাইতে। কেউ দুবাইকেই তাঁদের স্থায়ি ঠিকানা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, ব্যবসা জমাচ্ছেন। কেউ আবার সময়-সুযোগ করেই ঘুরে চলে আসছেন এখানে। তবে শুধু ভারতীয়রাই নয়। জানা গিয়েছে, রাশিয়ার তেল ব্যবসায়ীরাও নাকি দুবাইয়ে বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা জমাচ্ছেন। একটু অতীতে নজর দিলেই দেখা যাবে, দুবাইয়ে যে এত বড় বড় আকাশচুম্বী আবাসন তৈরি হচ্ছে, তার পিছনেও রয়েছে কোটি কোটি ডলারের ঋণ। এমনকি বিশ্বের প্রথম সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠানও আজ আরব আমিরাতকে রেখে দিয়েছে ধূসর তালিকায়। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, বহু অবৈধ অর্থ নাকি বিভিন্ন জায়গা থেকে এই দেশে ঢুকছে। এছাড়াও রিয়াল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রি অন্যতম আরেকটি কারণ। জানা গিয়েছে, বেশ কিছু ক্রেতার নাম এখনও পর্যন্ত অপ্রকাশিত রেখেছে দুবাইয়ের ভূমি অধিদপ্তর। সেটাও আরব আমিরাতকে ধূসর তালিকায় রেখে দেওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ