Story
কপালে জুটে ছিল রাজতিলক বহুদিন আগেই। সেই ২০১৭ সালে। আর ২০২১ এসে জুটল ভারতীয় ডাক বিভাগের স্বীকৃতি। ঐতিহ্যবাহী কালনার লালজি মন্দিরের পর এবার ডাকবিভাগের খামে জায়গা করে নিল বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী দুই যমজ মিষ্টি সীতাভোগ ও মিহিদানা।
রসগোল্লার পর বর্ধমানের মিহিদানা, সীতাভোগ এবার জায়গা পেল ভারতীয় ডাক বিভাগের কভার খামে। বাংলা জুড়ে যার খ্যাতি, সেই খ্যাতি এবার ছড়িয়ে পড়বে আসমুদ্রহিমাচল ভারতে। ভারতের প্রতিটা ডাকঘর থেকেই এবার থেকে মিলবে বর্ধমানের মিহিদানা, সীতাভোগের ছবি সম্বলিত খাম। তাও আবার মাত্র কুড়ি টাকায়।
সম্প্রতি বর্ধমানে মুখ্য ডাকঘরের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই ট্যাগ পাওয়া মিহিদানা, সীতাভোগের খাম উদ্বোধন করলেন দক্ষিণবঙ্গের রিজিওনাল পোস্টমাস্টার জেনারেল শশী শালিনী কুজুর। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সীতাভোগ এন্ড মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রমোদ কুমার সিং সহ আরও বহু মিষ্টান্ন বিক্রেতা।
ভারতীয় পোস্টের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলায় বর্ধমানের সীতাভোগ ও মিহিদানার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বেড়ে গেল।
২০১৭ সালে জিআই ট্যাগ পাওয়ার পর এই প্রথম সরকারিভাবে গোটা দেশজুড়ে ঐতিহ্যবাহী এই দুই মিষ্টিকে ছড়িয়ে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ডাক বিভাগ নিয়েছে তাতে স্বভাবতই খুশি মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তা ধরাও পড়ল সংগঠনের সম্পাদকের কথায়।
গোটা বর্ধমান জেলা জুড়ে মিহিদানা সিতাভোগের যেমন রমরমা রয়েছে। তেমনি আজও লোকের মুখে মুখে ঘোরে এই মিহিদানা, সীতাভোগের ইতিহাস। বর্ধমানবাসীর উপহারের অন্যতম অঙ্গ এই দুই মিষ্টান্ন।
বর্ধমানের ঐতিহ্যবাহী স্মারক কার্জন গেট। লর্ড কার্জনের নামেই আজ লোকের মুখে মুখে এই শহরের ঐতিহ্যবাহী আইকন এই গেটটি। ১৯০৪ সালে লর্ড কার্জন যখন এই শহরে আসেন তখন বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মেহেতাব ভৈরব চন্দ্র নাগকে দিয়ে এই মিষ্টি বানিয়ে লর্ড কার্জনকে উপহার দেন। সেই থেকে এই মিষ্টির জগৎজোড়া খ্যাতি। আজও শহরের বাসিন্দাদের মুখে মুখে ঘোরে এই মিষ্টিকে নিয়ে একটা নস্টালজিয়া।
তবে দেশের বাজারে আমাদের এই বাংলার এই দুই মিষ্টিকে ছড়িয়ে দিতে ডাক বিভাগ যে উদ্যোগ নিয়েছে সেই উদ্যোগে রয়েছে ব্যবসার প্রশ্ন। জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রশ্নও।
ডাক বিভাগের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জেলার অন্যান্য মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। ভারতের কোনায় কোনায় খামে খামে এখন থেকে ছড়িয়ে যাবে সীতাভোগ আর মিহিদানার নাম। স্বভাবতই খুশির হাওয়া ব্যবসায়ী মহলে। বিশেষ করে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে তৈরি করেছেন মিষ্টি হাব। সেই মিষ্টি হবে এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পাওয়া গেলেও রাজ্য সরকারের কাছে আরো একটু সহযোগিতায় চেয়েছেন এখানকার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের সংগঠন।
রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বিভাগগুলি সবাই মিলে এগিয়ে এসে যদি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টিকে আরও বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরে তাহলে শুধু এই দুটো মিষ্টিকে নিয়ে উপরে উঠতে পারে একটা গোটা শিল্প।
পত্রলেখা বসু চন্দ্র, বর্ধমান