Daily

Intro:
পাকিস্তান- ভাঙবে তবু মচকাবে না। হেরে গেছে সবদিক থেকে, তবু ভারতের কাছে মাথা নোয়াবে না। পাকিস্তান দিশেহারা। এনার্জি ক্রাইসিস, আটা নিয়ে মারামারি, সমস্ত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কোথায় যাবে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ?
ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে এদিকে ওদিকে। একবার আইএমএফ, একবার ইউএই, একবার চিন- মহা বিপদ। শুধু ধারের অঙ্ক বাড়ছে, পরিশোধ করবে কি করে? এই নিয়ে অবশ্য কিছুটা লজ্জিত তিনি নিজেও।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ আবার বলেছেন, তিনবার যুদ্ধ-টুদ্ধ করেছি। দেখেছি, এসব যুদ্ধ করে কোন লাভ নেই। বেকারত্বের সমস্যা বাড়ে, দেশের আর্থিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে। তাই ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বৈঠক সারতে চায় তারা।
কিন্তু বললেন কোথায়? একটি সংবাদমাধ্যমে। কাশ্মীর নিয়েও আলোচনা সারবে। ভারত সরকার প্রথম থেকেই পাকিস্তানের এসব বিষয়গুলোকে একেবারে পাত্তা দিতেই চায়নি। তার ওপর সংবাদ মাধ্যমে এভাবে বলাটা কি ঠিক? ভারত সরকার পাকিস্তানের এসব কথায় কান দিতে নারাজ। বরং ভারত সরকার মোটের ওপর জানিয়ে দিয়েছে, পাক অকুপায়েড কাশ্মীর ভারতে নিয়ে আসার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
এই বিষয়ে সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে আমেরিকার সেনেটর জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যে কাশ্মীর ইস্যু চলছে, সেটা কিভাবে সেটলড হবে? উত্তরে কী বললেন তিনি, শুনুন
দাঁড়ান, দাঁড়ান। এটা তো দুই দেশের মাথারা বলছেন। কিন্তু পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ পিওকে নিয়ে কী বক্তব্য রাখছেন সেটা শুনে নেওয়া যাক…
আর এদিকে গিলগিট, বালতিস্তান ইতিমধ্যেই পাকিস্তান সরকারের প্রতি চরম অনাস্থা দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। চলছে একের পর এক প্রোটেস্ট। তাঁদের দাবি কি? অনেক হল পাকিস্তান, এবার চাই পরিত্রাণ।
ত্রাতা হবে কে? অবশ্যই ভারত। কিন্তু যদি বলি ভারতকে সাহায্য করতে এই বিষয়ে এগিয়ে আসছে ইজরায়েল? অবাক হবেন? ইয়েস…কারণ ইজরায়েল নিজেও কিন্তু পাকিস্তানের অ্যান্টি। সুতরাং চাপ বাড়বে। আর চাপ বাড়লে সত্যিই কি পাকিস্তান অকুপায়েড কাশ্মীর চলে আসবে ভারতের হাতে? আসুন আজকের এই ইন্টারেস্টিং প্রতিবেদনের মাধ্যমে সেখানেই একটু নজর দেওয়া যাক।
History of Kashmir:
পিছিয়ে যাই একটু আগে। অমিত শাহকে হঠাৎ করে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে রেগে যেতে দেখেছিলেন অনেকে। কী বলেছিলেন মনে আছে? আচ্ছা শুনে নিন, তারপর বলছি।
বিষয়টা এই যে, কাশ্মীর হচ্ছে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ফিফথ সেঞ্চুরির সময় কাশ্মীরে হিন্দু ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্মের খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল। নবম শতাব্দীতে সেখানে শৈব মতবাদ বেশি করে ছড়াতে শুরু করে। তারপর অবশ্য থার্টিনথ সেঞ্চুরি থেকে ফিফটিনথ সেঞ্চুরি পর্যন্ত কাশ্মীর শাসন করে ইসলাম রুলার। এরপর ১৮১৯ সালে রঞ্জিত সিং-এর ক্যাপ্টেন্সিতে কাশ্মীর দখল করেন শিখরা। কিন্তু ১৮৪৬ সালে প্রথম ইঙ্গো-শিখ যুদ্ধে শিখরা পরাজিত হয়। অমৃতসর চুক্তি মতন জম্মুর রাজা গুলাব সিং ব্রিটিশ সাহেবদের কাছ থেকে কাশ্মীর কিনে নেন এবং নতুন শাসক হন। ১৯৪৭ এর পর শুরু হয় আসল সমস্যা। বর্তমানে কাশ্মীর তিনটি ভাগে বিভক্ত। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর, পাক অকুপায়েড কাশ্মীর অর্থাৎ পিওকে এবং চিন নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর যাকে আমরা বলে থাকি আকসাই চিন। পাকিস্তান কাশ্মীরের অংশ সহ গিলগিট, বাল্টিস্তানকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। যেটা আমাদের পক্ষে মানে ভারতের পক্ষে মেনে নেওয়া বেশ কঠিন। সমস্যা থাকলে তার সমাধান থাকবে। সমাধান থাকলে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পাকিস্তান তো নিজেদের গোঁ ধরেই বসে আছে। ফলে ডেভেলপমেন্টের হাল এখানে আর ওখানে কিরকম জানেন?
J-K VS POK:
ইকোনমিক টাইমসের একটি তথ্য থেকে বলা হচ্ছে, জে-কের হাতে রয়েছে চারটে এয়ারপোর্ট। পিওকে-র হাতে রয়েছে মাত্র ২টো। জম্মু-কাশ্মীরে রয়েছে ৩৫টা ইউনিভার্সিটি, পিওকে-তে রয়েছে মাত্র ৬টি। জম্মু কাশ্মীরে রয়েছে ২৮১২টি হাসপাতাল যেখানে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়। পিওকে-তে রয়েছে মাত্র ২৩টি। এশিয়ান লাইট ইন্টারন্যাশনালের একটি রিপোর্ট বলছে, বেসিক মেডিক্যাল ফেসিলিটি, অ্যান্টি ভেনম ভ্যাক্সিন না-দিতে পারার জন্য প্রতিমাসে পিওকে-তে মানুষের মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি পিওকে-র রাস্তাঘাটের অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হয় সাধারণ মানুষদের। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অঙ্ক ঘোষণা করা হয়েছে শুধুমাত্র জম্মুকাশ্মীরের ডেভেলপমেন্টের জন্য। যা হিমালয়ান রিজিয়নে কাজের বাজার তৈরি করবে, সেখানকার মানুষদের সার্বিক উন্নতি হবে। কিন্তু পাকিস্তান? তুল্যমূল্য বিচারের কোন প্রয়োজন রয়েছে? ৭৫ বছর ধরে পিওকে-তে নো ডেভেলপমেন্ট। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে জম্মু-কাশ্মীরের এক্সপেক্টেড গ্রোথ ধরা হয় ৭.৫%। একের পর এক ন্যাশনাল হাইওয়ে, টানেল, নতুন নতুন রাস্তা, বিশ্বের সবথেকে উঁচু রেলব্রিজ যা কিনা চেনার নদীর ওপর- এই সবই কেন্দ্রীয় সরকারের প্ল্যানমাফিক এগিয়েছে। জম্মুকাশ্মীরকে ডেভেলপড করার জন্য। কিন্তু আবার সেই প্রশ্ন পাকিস্তান গভর্নমেন্ট পিওকে-র জন্য কী করল? ২০২১-২২ অর্থবর্ষে পাকিস্তান পিওকে-র জন্য বরাদ্দ করল মাত্র ৭৮ মিলিয়ন ইউএস ডলারের একটু বেশি। এই টাকায় সাধারণ মানুষগুলোর কী হবে? পাকিস্তান গভর্নমেন্ট সেটা বুঝতে চায় নি, আজও চাইছে না এবং ভবিষ্যতে চাইবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত সরকার জম্মুকাশ্মীরের উন্নয়নের জন্য পাকিস্তানের থেকে ১৬ গুণ বেশি খরচা করছে। এই সেদিন, যেদিন শেহবাজ শরীফ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বসতে চাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন, সেদিনও বলেছেন, ভারত যে ৩৭০ ধারা তুলে নিল, সেটা নাকি বে-আইনি। মজার ব্যপার হচ্ছে, এসব কথায় চিঁড়ে ভেজেনি। ভারত সরকার তো সেভাবে পাত্তাও দেয়নি। উল্টোদিকে মুখ পুড়ছে শরীফ গভর্নমেন্টের। কারণ পিওকে-র সাধারণ মানুষ এবার খেপেছেন। আর তাই দাবি উঠছে NO MORE POK?
INDO-ISRAEL RELATION:
তবে ভারত পাকিস্তানের এই জবরদখল করা কাশ্মীরকে কিভাবে নিজেদের হাতে নিতে পারে? তার জন্য মোক্ষম স্ট্র্যাটেজি তৈরি করছে। আর যে-কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে ইজরায়েল। পাকিস্তানের ঘোর বিরোধী তারাও। আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, ভারতের এই মোক্ষম চাল হয়ত অদূর ভবিষ্যতে পাকিস্তানকেই চাপে ফেলে দিতে পারে। কিভাবে?
১৯৯৩ বোম্ব ব্লাস্ট, ২৬/১১ হামলা, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক – প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে ইজরায়েলের এলিট গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ, হেল্প করেছে ভারতকে। র-এর কাছে খবর পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে কন্টিনিউয়াস ওয়েতে ভারতকে বিপদে-আপদে অস্ত্র সরবরাহ করার মত যাবতীয় সাহায্য করে আসছে ইজরায়েল। এমনকি মোসাদের ওপর ভারতের ট্রাস্ট এতটাই বেশি যে ২০১৫ সালে জি-২০ সামিটে পিএম মোদীর যাবতীয় সুরক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল মোসাদ। রাশিয়া যেমন পাকিস্তান ইস্যু নিয়ে খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ভারতের স্ট্র্যাটেজির ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করছে, তেমনই ইজরায়েল পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা কোনভাবেই কাশ্মীরে টেররিজম চায় না। মানে, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে যদি আবার কোন বড়সড় ঝামেলা উপস্থিত হয়, তাহলে ভারতের পাশেই দাঁড়াবে ইজরায়েল। এমনকি পাকিস্তানকে একটানা যখন আমেরিকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেছে, তখন, ভারতের পাশে বারবার দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল। দেখুন, পাকিস্তানের প্রধান শত্রু যেমন ভারত তেমনই আরেক শত্রু হল ইজরায়েল। পাকিস্তানে পড়ানো হয়- হিন্দু হল কাফের এবং জিউস হল শত্রু। সত্যি বলতে, পাকিস্তানকে সবদিক থেকে চেপে দেবার জন্য ভারতের পাশে আগের মতন এখনো দাঁড়িয়েছে ইজরায়েল। তার মধ্যে অন্যতম, এগ্রিকালচারাল সেক্টর। ইয়েস, অনেকদিন ধরেই ইন্দো-ইজরায়েলি এগ্রিকালচার প্রোজেক্ট (আইআইএপি) চলছে এগ্রিকালচারাল সেক্টরে। এবার কাশ্মীরে ইজরায়েলের তাবড় মাথারা ফিল্ড ভিজিট পর্যন্ত করে এসেছে। ইজরায়েলের কাল্টিভেশন টেকনোলজি হরিয়ানাতে যথেষ্ট সাকসেসফুল। সেখানে ফলন বেড়েছে স্বাভাবিকের থেকে ৫ গুণ। সুতরাং, কাশ্মীরে যদি সেই একই টেকনোলজি নিয়ে ইজরায়েল হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে কাশ্মীরে আপেল, আখরোট বা স্যাফরনের ফলন কতটা ভালো হতে পারে। আর ফলন ভালো হলে বিশ্ব বাজারে এক্সপোর্ট করার দরজাটাও খুলে যাবে আরও ভালো। সার্বিকভাবে লাভবান হবেন এলাকার কৃষকরাই।
CONCLUSION:
কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। সুতরাং পাকিস্তান অকুপাই করে রাখলেই তো হবে না। ভারত খুব স্ট্র্যাটেজিকালি কাশ্মীরকে নিয়ে আসতে চাইছে গ্লোবাল সেক্টরে ফ্রন্টফুটে। তার জন্য জি-২০ নেতৃত্ব দেবার সুযোগ যখন ভারতের কাছে এসেছে, তখন ভারত কাশ্মীরে যে বেশ কয়েকটি বৈঠক রাখবে সেটা বলার প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানের জন্য সেটা দারুণ সতর্কবার্তা হতে পারে। একইসঙ্গে হাজার হাজার কোটির বিনিয়োগের জায়গা তৈরি হবে কাশ্মীরে। যেটা কাশ্মীরের সাধারণ মানুষদের জন্য ইকোনমিকে বুম করতে অনেকটা সাহায্য করবে। বিদেশমন্ত্রী গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কাশ্মীরে একের পর এক কর্মসূচি তৈরি করে পাকিস্তানকে অ্যালারট তো করেই রাখছেন একইসঙ্গে পিওকে-তে বসবাসকারি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সেই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন যে ভারত কাশ্মীর নিয়ে কতটা সিরিয়াস। একের পর এক ডেভেলপমেন্ট যদি এভাবে হতে থাকে আর অন্যদিকে যদি পাকিস্তান পিওকে নিয়ে এভাবেই মিইয়ে থাকে তাহলে পিওকে-র সাধারণ মানুষ যে নিজের সরকারের প্রতি অনাস্থা দেখাবে সেটা তো জানা কথাই। সুতরাং, মোদী সরকার সঙ্গে জয়শঙ্করের এই মোক্ষম চালেই আপাতত ফেঁসে গেছে শাহবাজ শরীফ সরকার। ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। যার পরিণতি এই চরম বিক্ষোভ। আপনার কি মনে হয়, ভারত কি খুব তাড়াতাড়ি পাকিস্তানের হাত থেকে কাশ্মীরকে নিজেদের দখলে আনতে পারবে?
বিজনেস প্রাইম নিউজ।
জীবন হোক অর্থবহ