Trending
প্রায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি হলেন। এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে রাশিয়ার কাজান শহরে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে।
২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে চীন ও ভারতের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর থেকেই কার্যত তলানিতে ঠেকেছিল দিল্লি ও বেজিং এর সম্পর্ক।তবে অবশেষে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মুখোমুখি ভারত ও চীন। এই বইটাকে উঠে এলো একাধিক প্রসঙ্গ। তবে কি পুনরায় স্বাভাবিক হচ্ছে ভারত চীনের সম্পর্ক। দেখতে থাকুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।
এই বৈঠক প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মূলত দু’দেশের সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়েছেন মোদী। অপর দিকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত এবং চীন এই দুই দেশের উভয়েরই কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’ আছে।
সীমান্তে ‘ডি-এসক্যালেশন’ বা উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়ে দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতাদের একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই কারণেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যেকার সম্পর্কে ক্রমেই উন্নত হচ্ছে।
ঐদিন বৈঠকের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ভারত-চীন সম্পর্ক শুধু আমাদের দুই দেশের মানুষের জন্যই নয়, বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রগতির জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সীমান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সীমান্তে গত চার বছরে কিছু কিছু ইস্যু তৈরি হয়েছিল, সেগুলোর ব্যাপারে যে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাটা আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।“আর আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক আস্থা, পারস্পরিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সংবেদনশীলতা।”
অপরদিকে চিনা প্রেসিডেন্ট পিং বলেন, দীর্ঘদিন বাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি আরও বলেন “পাঁচ বছর পরে আমরা নিজেদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসছি। শুধু আমাদের দুই দেশের মানুষরাই নন, আন্তর্জাতিক বিশ্বও আমাদের এই বৈঠকের দিকে সতর্ক নজর রাখছে।”
শি জিনপিং আরও বলেন, “আমাদের দুই দেশের মধ্যে যাতে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ে, আমরা যাতে নিজেদের মধ্যেকার মতবিরোধ ও মতানৈক্য ঠিকমতো সামলাতে পারি এবং আমাদের পরস্পরের ‘উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা’র বিকাশে সহায়তা করতে পারি সেটা আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে এই বিপাক্ষিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করল ভারত এবং চিন। সূত্রের খবর, একটি তাঁবু এবং বেশ কিছু অস্থায়ী নির্মাণ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সীমান্ত থেকে। তবে এখনও পুরোপুরি প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়নি। আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে ডেপসাং এবং ডেমচকে শুরু হবে সেনার টহলদারি। সেনা সরানো নিয়ে সহমত হওয়ার পরে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গললো ব্রিকস সম্মেলনে।
ভারতীয় জনতা পার্টি উক্ত বিষয়টিকে নিয়ে, নরেন্দ্র মোদির কৃতিত্ব বিষয়টিকে তুলে ধরলে, বিরোধী কংগ্রেস মনে করছে ভারত চীনের সাথে সমঝোতা করেছে। । এ বিষয়ে আপনাদের কি মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ জীবন হোক অর্থবহ।