Trending

ভারত চিনের যুদ্ধ কি এবার মহাসাগরে? কেন? ভারত মহাসাগরে দুই এশিয়ান জায়ান্টের রক্তচক্ষু প্রদর্শন কেন? কারণ এক মহামূল্যবান ধাতু- কোবাল্ট। আর তাকে ঘিরেই নাকি ভারত এবং চিনের মধ্যে এক অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হচ্ছে। ফলে ভারতের লক্ষ্য এখন কোবাল্টের দিকে। আর সেদিকে নজর রয়েছে চিনেরও। কারণ চিন মনে করে ভারত যদি এই কোবাল্টের পুরোটাই নিজেদের অধিকারে নিয়ে নেয়, তাহলে ভালোরকম ধাক্কা খেতে পারে চিনা অর্থনীতি। কিন্তু বিষয়টা কি এতটাই জলভাত নাকি? চলুন, তাহলে সেদিকে একটু নজর দেওয়া যাক।
বর্তমানে গোটা বিশ্বে ইলেকট্রিক কারের ডিমান্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে এই বৈদ্যুতিক গাড়িই পেট্রোল-ডিজেলে চলা গাড়ির জায়গাটা ধরে নেবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে একটা টার্গেট পূরণের চেষ্টা করছে। ভারত চাইছে কার্বন এমিশন একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য। তার জন্য প্রয়োজন প্রচুর বৈদ্যুতিক গাড়ি। আর সেই গাড়ি তৈরির জন্য অন্যতম প্রধান উপাদান হল কোবাল্ট। আর বলা হচ্ছে, ভারত মহাসাগরে নাকি কোবাল্টের কোন অভাব নেই। এই বিষয়টা যতটা ভারত জানে, ততটাই জানে চিন। ফলে চিনের নজর এখানে রয়েছে ভালোরকম। আর তাই ভারত এখন কোবাল্ট তোলার জন্য অনুমতি চেয়ে বসে রয়েছে। এদিকে সেই একই দাবি করে বসে আছে শ্রীলঙ্কা। বেশ কিছু কূটনীতিবিদ মনে করছেন, শ্রীলঙ্কার এই কোবাল্ট দাবির পিছনে রয়েছে চিনের কলকাঠি।
এই মুহূর্তে কোবাল্ট সাপ্লাই-তে এখনো নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছে চিন। ভারত মহাসাগরের নিচে যে অমূল্য খনিজ রয়েছে তা চিন খুব ভালো করেই জানে। আর যে কারণে এখন চিনা জাহাজের উপস্থিতি খুব বেশি মাত্রায় সেখানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে চিনের আধিপত্যকে ধাক্কা দেবার জন্যই এবার পাল্টা সমুদ্রে নেমেছে ভারত। তারা অনুমতি চেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথোরিটির কাছে। ভারত মধ্য ভারত মহাসাগরের আফানাসি নিকিটিন সিমাউন্টে যে কোবাল্টে পরিপূর্ণ ফেরোম্যাঙ্গানিজ ক্রাস্ট রয়েছে সেখানে অনুসন্ধান চালাতে চায়। সাগরগর্ভে থাকা এই পর্বতটি রয়েছে ভারতীয় উপকূল থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ মাইল দূরে, মলদ্বীপের পূর্বে। ভারতের বক্তব্য, ১৫ বছরের এক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে ভারত। ভূতাত্ত্বিক, জৈবিক, সামুদ্রিক এবং পরিবেশগত নানা বিষয়ে ভারত রিসার্চ করবে। তিনটি ধাপে ভারত অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে আর তাই প্রয়োজন ১৫ বছর। যদিও ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথোরিটি এই বিষয়ে ভারতকে কোন গ্রিন সিগন্যাল দেয় নি। তার কারণ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথোরিটি জানিয়েছে, আফানাসি নিকিটিন সিমাউন্ট যেখানে অবস্থিত সেখানে শুধু ভারত নয় অন্য দেশেরও দাবি থাকতে পারে। অনেক কূটনীতি বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইন্টারন্যাশনাল সিবেড অথোরিটি হয়ত শ্রীলঙ্কাকেই এখানে এগিয়ে রাখছে।
দেখুন, এই মুহূর্তে বিশ্বে সবথেকে বেশি কোবাল্ট মাইনিং করা হয় কঙ্গো থেকে। ২০২১ সালে কঙ্গোতে সবথেকে বেশি কোবাল্ট মাইন করা হয়েছে-অ্যামাউন্ট হল প্রায় ৮৩.৫%। এবার সেই কোবাল্ট নিয়েই যুদ্ধ লাগতে পারে। তবে তার আগে একটা বিষয়। কোবাল্টের দাবি একইভাবে মলদ্বীপ জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের কাছে সেই প্রযুক্তি নেই। ফলে ‘না’ হবার সম্ভাবনাই সবথেকে বেশি। আর অন্যদিকে আবার শ্রীলঙ্কা সেই একই দাবি করে বসে রয়েছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছেই বা এমন প্রযুক্তি আছে নাকি? মনে করা হচ্ছে, শ্রীলঙ্কাকে এই বিষয়ে অদৃশ্যে থেকে সাহায্য করবে চিন। মানে কলম্বো যাতে এই পুরো বিষয়টা নিজের হাতে রাখতে পারে তার জন্য এগিয়ে আসবে চিন। কিন্তু ভারত শ্রীলঙ্কাকে বহুদিক থেকে সাহায্য করেছে। যখনই সেই দেশ তীব্র অর্থকষ্টে পড়ে তখন ভারতের অর্থসাহায্য সবার আগে এসে পৌঁছয় সেখানে। ফলে চিনের কথায় হ্যাঁ হ্যাঁ না বলে তারা হয়ত ভারতকে অগ্রাধিকার দিতেই পারে। আর সমুদ্র গর্ভ থেকে কোবাল্ট উত্তোলনের ক্ষেত্রে ভারত সবথেকে বেশি যোগ্য শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপের মত দেশ থেকে। সেটা যদি হয় তাহলে ভারতের ইকোনমিক সিনারিও একেবারে বদলে যেতে পারে। কারণ শুধু ইলেকট্রিক কার বলে নয়, যে কোন বৈদ্যুতিন জিনিসের প্রাণ ভোমরা হচ্ছে এই কোবাল্ট। ফলে ভারত চিনকে অর্থনীতির যুদ্ধে টেক্কা দিতে পারে। কিন্তু চিন কি সেই কাজ এতটা সহজে করতে দেবে ভারতকে? একেবারেই না। তাহলে কি ভারত মহাসাগরে এবার কোবাল্ট নিয়েই যুদ্ধ লাগবে? আপনারা কি মনে করেন জানান কমেন্ট বক্সে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ