Trending

বড়লোকের ঢাক তৈরি গরীব লোকের চামড়ায়! কবির লেখনী যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে মোদী জামানায়। কেন বলছি? কারণ, সম্প্রতি সামনে এসেছে এমনই এক তথ্য যা শুনলে সহমত হতে পারেন আপনিও।
কর্পোরেটদের থেকে বেশি ট্যাক্স দেন দেশের মধ্যবিত্তরা। কর্পোরেট আয়করকে ছাপিয়ে গিয়েছে ব্যক্তিগত আয়কর। এইভাবেই নাকি মধ্যবিত্তের টাকায় পুঁজিপতিদের পকেট ভরিয়ে তুলছেন মোদী সরকার। একথা আমরা বলছি না। বলছেন, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। অর্থনৈতিক বৈষম্যের নির্মম ছবি সামনে তুলে ধরে এবার মোদী সরকারকে দুষলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। কীসের পরিপ্রক্ষিতে তিনি ঠিক কী বলেছেন? আর এই দাবির ভিত্তিটাই বা কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
আগামী ২৩ জুলাই ২০২৪-২৫ সালের জন্য ৫০ লক্ষ কোটি টাকা খরচের এক বাজেট সামনে আনতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। আর সেই বাজেট সামনে আসার আগেই সামনে এল এমন এক তথ্য যা কিনা কার্যত মাথা হেঁট করল মোদী সরকারের। সম্প্রতি পর্ষদের তরফে জানা গিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত নিট কর সংগ্রহ হয়েছে ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে ব্যক্তিগত আয়করের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৪৬ হজার ৩৬ কোটি টাকা। আর কর্পোরেট কর? ২লক্ষ ১০ হজার ২৭৮ কোটি টাকা।
এই পার্থক্যকে পাখির চোখ করে এবার কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মনমোহন সিং যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কুর্সিতে ছিলেন, তখন ব্যক্তিগত কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৩৫% আর কর্পোরেট কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ২১%। এখন নরেন্দ্র মোদীর জামানায় ব্যক্তিগত কর আদায় হচ্ছে ২৬% পরিমাণে। আর কর্পোরেট কর আদায়ের পরিমাণ কমে পৌঁছেছে ২৮%। কেন কমল কর্পোরেট কর? সটান প্রশ্ন বিরোধীদের। মোদীকে জোড়াল আক্রমণ শানতে দেরী করেনি বিরোধী শিবির। সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে সামনে এনেছেন সরকারী পরিসংখ্যান।
আব কি বার ৪০০ পারের স্লোগান গেয়ে, গলা ফাটিয়ে বিশেষ কিছু লাভের লাভ না হলেও, তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে তিনিই বসেছেন। আর কুর্সি যখন এখন মোদীর দখলেই তখন মোদী ৩.০ নিয়ে অনেক আশা দেশের মানুষের। আসছে বাজেটের দিকে তাকিয়ে বসে আছেন দেশের মধ্যবিত্তরা। আয়করে কী কোনরকম ছাড় আসবে? নাকি মধ্যবিত্তদের থেকে বেশি কর আদায় করে কর্পোরেটদের পকেট ভরানোর এই ট্রেন্ডই বজায় থাকবে? ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে কর্পোরেট করের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাটছাঁট করা হয় এই আশায় যে, এর ফলে ব্যক্তিগত বিনিয়োগে একটা বড়ো মাপের জোয়ার আসবে। কিন্তু বাস্তবে অন্তত সেটা হয়নি।
বিরোধীদের দাবি, বরং উল্টোটাই ঘটেছে। আর সেই একই সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ আগুনে ঘি ধালার কাজটি সেরেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেছেন যে, কর্পোরেট কর কমানোর সুফল ভোগ করেছেন দেশের বিত্তশালীরা। যার ফলে তাদের ২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। আর বিনিময়ে মোটা টাকা কর দিতে হয়েছে রোজগেরে সাধারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রীতিমত পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, সরকারী রিপোর্টেই স্পষ্ট, সাধারণ রোজগেরে মানুষ যেকোনো বড়ো শিল্প প্রতিষ্ঠানের থেকে বেশি অঙ্কের কর গুনছে। বোঝা বাড়ছে মধ্যবিত্তের।
ভারতের গরীবদের হাতে সম্পদের মাত্র ৩ শতাংশ রয়েছে। আর জিএসটি আদায়ের ৬৪ শতাংশ এল তাদের থেকেই। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই নাকি সত্যি। দাবি বিরোধী শিবিরের। সবটা মিলিয়ে এখন আসছে বাজেট নিয়ে জোরদার চর্চা। সরগরম রাজনীতি। দুই পক্ষের বাদানুবাদ অব্যাহত। কিন্তু আগামী ২৩ জুলাই অর্থমন্ত্রীর লাল ঝুলি থেকে কী সারপ্রাইজ বের হয়, আর সেটা কতটা সাধারণ মানুষের কাঁধের বোঝা হালকা করতে পারে- এখন সেটাই দেখার।
সঙ্গে থাকুন, দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ। জীবন হোক অর্থবহ।