Story
ধরুন আপনি ব্যবসা করতে চান তাও আবার বিনা বিনিয়োগে! এবং সেই সঙ্গে বিনা বিনিয়োগে ব্যবসায় ডাবল মুনাফাও পেলেন। তাহলে তো বেশ হয়।ঠিক সেরকম ভাবেই চাষ করতে গেলেও এবার বিনা বিনিয়োগেই মিলবে ডাবল মুনাফা।বহরমপুরে এখন গো খাদ্য হিসাবে বিখ্যাত অ্যাজোলা চাষ। যেখানে বিনা বিনিয়োগেই অনেকটাই লাভের মুখ দেখছে চাষীরা। খুব স্বাভাবিক ভাবে আগ্রহ বাড়ছে এই চাষের প্রতি।
সবুজ গো খাদ্য হিসাবে অ্যাজোলা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চাষের ক্ষেত্রেও অন্যরকম পরিবেশ আনছে এই চাষ। কারণ অন্য সবুজ গো-খাদ্যের তুলনায় এটিতে খাদ্য গুনও ও অনেক বেশি। এই গো খাদ্যে প্রোটিন ক্যালসিয়াম আয়রন ফসফরাসও বেশি। নানা সময়ে নানা পরীক্ষার পরে দেখা গেছে অ্যাজোলা খাওয়ানোয় মাস খানেকের মধ্যেই গরু-ছাগলের দুধের পরিমাণ বেড়েছে। এমনকি গবাদিদের স্বাস্থ্যেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। সেইসঙ্গে এই খাদ্যের ব্যবহারে ব্যবহারে গবাদিদের বন্ধ্যাত্ব দূর করাও সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাজোলা চাষে আরেকটি সুবিধা হোলো অন্যান্য চাষের ক্ষেত্রেও এই গো খাদ্য যথেষ্ট উপকারী। এমনকি উন্নত মানের সার হিসাবেও কাজ করে এই অ্যাজোলা। ধান চাষের মাস খানেক আগে জলকাদা জমিতে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি অ্যাজোলা ছড়িয়ে দিলেই ১৫-২০ দিনের মধ্যে গোটা জমি সবুজে ঢেকে যায় । এর পরে এক বার চাষ দিলে ৫-৬ দিনের মধ্যেই তা পচে গিয়ে বিঘা প্রতি ১০০-১২৫ টন সবুজ সার ও ৪-৫ কেজি নাইট্রোজেন সরাসরি মাটিতে যোগ করে। গোবর সারের বিকল্প হিসাবে এটি অতুলনীয়। ধান পোঁতার দিন দশ পরে জমিতে অ্যাজোলা ছেড়ে দিলে ধানের বৃদ্ধি ভাল হয়। এছাড়াও বেশ কিছু উদ্ভিদ হরমোন ও ভিটামিন জমিতে যোগ করে ও নানা অনুখাদ্য গাছকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এমনকি অন্য আগাছার বৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য ফসলে এ সার প্রয়োগে বেশ ভালো সুফল মেলে।
শুধু চাষের ক্ষেত্রেই নয় পশু বা পাখির খাদ্য হিসেবেও এই অ্যাজোলার জুড়ি মেলা ভার। হাঁস, মুরগি থেকে শুরু করে গরু, ছাগল, শুকর সবায় এই অ্যাজোলা খায়। এবং সবথেকে বড়ো বিষয় হোলো এই অ্যাজোলা খেয়ে পশু-পাখিরা যথেষ্ট সতেজ হয় ও ভালো দুধ দেয়।
বহরমপুর খামারের ইনচার্জ নইমুদ্দিন শেখ এর কাছ থেকে অনেক চাষী এই অ্যাজোলা চাষ শিখে স্বনির্ভর হয়েছেন। অ্যাজোলা চাষ করতে বেশি জমি জায়গা যেমন খরচ হয় না ছোট একটা জায়গা থাকলেই এই চাষ সম্ভব। সেরকমই এই চাষে সাশ্রয় ও বেশি বলে জানালেন নইমুদ্দিন বাবু। তিনি আরো জানান,তাঁর কাছে অনেকেই এই চাষ পদ্ধতি শিখে আজ স্বনির্ভর।
অন্যদিকে নৈমুদ্দিন বাবুর কাছেই শেখা রাম কানাই পোদ্দার জানান, এই চাষ করে তিনি বেশ সাশ্রয় করেছেন। তিনি জানান এই অ্যাজোলা ৩ ইঞ্চি জলে লাগানো যায় এবং এটি ১০দিনেই ডবল হয়ে যায়। অ্যাজোলা চাষের কোন খরচ নেই বলেই এই চাষে ডবল মুনাফাও সম্ভব বলে জানান তিনি।
সস্তায় পুষ্টিকর খাবারের মতোই হোলো অ্যাজোলাচাষ। তাই কম খরচে এই চাষ পদ্ধতি নতুন দিশা দেখাচ্ছে চাষীদের।
মুর্শিদাবাদ থেকে ক্যামেরায় লালিম শেখের সঙ্গে কুশল শরীফ রিপোর্ট বিজনেস প্রাইম নিউজ।