Story
আপনার ঘরেও বসতে চলেছে স্মার্ট মিটার?
স্মার্ট মিটার থাকলে আর কেন ইলেকট্রিক বিলের ঝামেলা?
টাকা দিন, বিদ্যুৎ নিন- এটাই হচ্ছে স্মার্ট মিটারের স্মার্ট পলিসি
কিন্তু স্মার্ট মিটার কি আদৌ সর্বসাধারণের জন্য?
আদৌ কি স্মার্ট মিটার সত্যিই স্মার্ট?
স্মার্ট মিটার কবে বসবে? দেশজুড়ে এখন স্মার্ট মিটারের হাওয়া বইছে। বিভিন্ন জায়গায় চলছে স্মার্ট মিটার নিয়ে পরীক্ষা। কোথাও কোথাও তো আবার ইনস্টলেশনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু স্মার্ট মিটার কি সত্যিই দিনের শেষে ভালোরকম সুবিধে দিতে পারবে আমনাগরিকদের? সেটাই বলব আজকের প্রতিবেদনে। তবে তার আগে স্মার্ট মিটার নিয়ে বলা যাক কিছু কথা। স্মার্ট মিটার বসালে প্রথমেই যে সুবিধে হবে, সেটি হল এর ফলে ইলেকট্রিক বিল জমা দেবার আর কোন ঝামেলা থাকবে না। এমনিতে যে ধরণের হিউম্যান এরর আমরা মাঝেমধ্যে পেয়ে থাকি, স্মার্ট মিটার বসানোর ফলে সেই সংখ্যাটা নেমে আসবে একেবারে নিচে। অনেকেই বলছেন যে-সকল এলাকায় স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে, সেখান থেকে আজ পর্যন্ত কোন ধরণের অভিযোগ আসে নি। আর কী সুবিধে রয়েছে এই স্মার্ট মিটারের?
কর্মীদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ইলেকট্রিকের বিল দেবার জমানা শেষ হবে। অনেক সময় কর্মীদের তরফ থেকে কিছু ভুলভ্রান্তি আমরা দেখতে পাই। গ্রাহকদের তখন ভোগান্তির একশেষ হতে হয়। মনে করা হচ্ছে, স্মার্ট মিটার থাকলে কর্মীদের ভুল করার জায়গাটা একেবারে শূন্যে নেমে আসবে। আর গ্রাহকদের সবথেকে বড় সুবিধে কি জানেন? এখন যেমন গ্রাহকদের মাসে মাসে বিদ্যুতের বিল জমা দিতে হয়, স্মার্ট মিটারে সেসবের কোন হ্যাপা নেই। যেভাবে আপনারা মোবাইল রিচার্জ করেন প্রিপেডে, ঐ একই সিস্টেমে চলবে স্মার্ট মিটার। মানে, আপনি যত টাকার রিচার্জ করবেন, তত টাকার বিদ্যুৎ পরিষেবা আপনি পেয়ে যাবেন। টাকা শেষ, বিদ্যুৎ সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আরেকবার রিচার্জ করলেই কাজ হয়ে যাবে। ফলে পরিষেবা নিয়ে আম নাগরিকদের মধ্যে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, সেটা একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। এবার আসি আমাদের রাজ্যের কথায়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম সংস্থা স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে। হুগলির চন্দননগর এবং শ্রীরামপুর ডিভিশনে কাজ শুরু হয় পুরোদমে। জানা যাচ্ছে, চন্দননগরে ২৮০০ স্মার্ট মিটার বসানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে এখানে একটা ব্যপার। আপনাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে যে, স্মার্ট মিটার কতদিনে গ্রাহকরা পাবেন? যদি এখনই স্মার্ট মিটারের আশা করেন তাহলে আপনাকে একটু হতাশ হতেই হবে। কারণ যা জানা যাচ্ছে, স্মার্ট মিটার এখন বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা হবে সরকারি অফিস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পেসে। মানে যে সকল কমার্শিয়াল গ্রাহক ৫ কিলো ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাদের এখন স্মার্ট মিটার দেওয়া হবে। তারপর সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে স্মার্ট মিটার ইনস্টলেশন শুরু হয়ে যাবে।
কিন্তু একটা বিষয় কী জানেন! স্মার্ট মিটার নিয়ে যত কথাই না বলা হোক, এই নিয়ে একটু আধটু গ্রাহক অসন্তোষের ছবিটা কিন্তু ফুটে উঠেছে। অনেকেই বলছেন যে স্মার্ট মিটার নাকি আসলে গরিবের জন্য ফাঁদ তৈরি করে দেবে। কিরকম? স্মার্ট মিটারের কাজ কী? ঐ যে বললাম। একদিকে টাকা দাও আর অন্যদিকে বিদ্যুৎ নাও, এই যে প্রিপেড নম্বর রিচার্জ করার মত ব্যপার- এটা কিন্তু আসলে গরিবের জন্য বড় অশনি সংকেত নিয়ে আসতে পারে। এমনকি গরিবেরা বঞ্চিত থাকতে পারেন বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে। কেন বলুন তো? বিরোধীরা মনে করছেন, স্মার্ট মিটার আসলে আনস্মার্ট একটা পদক্ষেপ। এতে করে সুবিধে হবে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর। কারণ এর মাধ্যমে এখন তারা নিজেদের ইচ্ছে মত ইউনিট প্রতি দাম কমাতে বা বাড়াতে পারবে। যাদের হাতে টাকা তারা স্মার্ট মিটারের মত সুবিধে আর অন্য কোথাও পাবেন না। কিন্তু দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের জন্য এটাই গভীর সঙ্কট তৈরি করে ফেলবে। এই ইঙ্গিতে সুর চড়িয়েছেন সিপিএম সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
স্মার্ট মিটার নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যে খুব কম নয় সেটা বহু জায়গা থেকেই খবর পাওয়া গিয়েছে। শহরাঞ্চলে, কর্পোরেট জগতে হয়ত বা স্মার্ট মিটার স্মার্টলি পরিষেবা দিতে পারবে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে, গরীব মানুষের দোরে দোরে স্মার্ট মিটার কি আদৌ লাভজনক হবে? খেয়াল রাখবেন, স্মার্ট মিটার চলে এলে ইউনিট প্রতি দাম ওঠানামা করাতে পারবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তখন গরীব মানুষগুলো মাসের আদ্দেক দিন পরিষেবা পেল আর আদ্দেক দিন পেল না, সেটা যেন না হয়। স্মার্ট মিটার নিয়ে আপনাদের কি মতামত? জানান কমেন্ট বক্সে। সঙ্গে লাইক করুন, শেয়ার করুন। আর নতুন হলে ভুলবেন না সাবস্ক্রাইব করতে আমাদের চ্যানেল বিজনেস প্রাইম নিউজ।
জীবন হোক অর্থবহ