Story
বাজারে গিয়ে অনেকসময় সাধের মাছটির দেখা না পেলে মনখারাপ হয় ক্রেতার। বিক্রেতারাও অপারগ থাকেন মাছ বিক্রি না করতে পারার কারণে। তাই, বাজারে মাছের জোগানে মসৃণতা থাকা প্রয়োজন। কারণ মাছ বাজার অর্থনীতিতে বড় রকমের জায়গায় রয়েছে। কিন্তু মাছের জোগান দেওয়ার জন্য প্রয়োজন আরও অধিক সংখ্যক মাছ চাষ। সেক্ষেত্রে মৎস্যচাষিরা কিভাবে আরো বেশি মাছ চাষ করে লাভবান হতে পারেন তারই একটা ছবি ধরা পড়ল কোচবিহার জেলায়।
কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জের ঘোগারকুটি এলাকায় আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করে নজির গড়েছেন সমীর কুমার দত্ত। চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ময়না মডেলে মাছ চাষ করে লাভের অঙ্কটা একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিলেন। রুই, কাতলা, মৃগেলের মত মাছ চাষ করে কিভাবে বেকার যুবকরা স্বনির্ভর হতে পারেন, দেখালেন সেই দিশাও।
কিন্তু কী এই ময়না মডেল? আর কেনই বা ময়না মডেল সাফল্যের অঙ্কটা এত তাড়াতাড়ি কষে দিচ্ছে? জানালেন মৎস্য আধিকারিক রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মাছ চাষ করছেন সমীরবাবু। একইসঙ্গে গ্রহণ করেছেন উন্নত, আধুনিক প্রযুক্তি। যা দেখে যথেষ্ট আশাবাদী হয়েছেন কোচবিহার জেলার সহ মৎস্য অধিকর্তা সম্পদ মাঝি। তাঁর কথাতেই উঠে এলো মাছ চাষে কতটা সাহায্য করছে রাজ্য সরকার। আর ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে আর কতগুণ মাছচাষ বাড়ানো যায়।
শুধু রুই, কাতলা, মৃগেল নয়। বিভিন্ন ধরণের রঙিন মাছ চাষ করেও আজ সাফল্য লাভ করেছেন সমীর বাবু। তাই অন্যান্য মৎস্যচাষিদের তিনিও উৎসাহ জোগাচ্ছেন মৎস্য দফতরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। যাতে অন্যান্য মৎস্যচাষিরাও এই ময়না মডেল চাষ করে যথেষ্ট লাভবান হতে পারেন।
একদিকে ঘুচবে বেকারত্ব। অন্যদিকে মাছের হাহাকারও থাকবেনা। শুধু প্রয়োজন উদ্যোগ আর বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানটুকু। এমনিতেই ময়না মডেল ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে গোটা কোচবিহার জেলাতে। সমীর বাবুর এই অভিনব উদ্যোগে যথেষ্ট খুশি মৎস্যচাষিরা।
শম্পা সাহা
কোচবিহার