Story
কথায় বলে, রঙ দিয়ে যায় চেনা। আমাদের গ্রামবাংলায় এমন অনেক ফুল আছে যার রূপরঙে মজেন না এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যায়। কিন্তু অর্কিড যেন সবদিক থেকে আলাদা। রংবাহারী বিভিন্ন অর্কিড যেন সকল ভৌগলিক সীমা, এমনকি জলবায়ুকে টেক্কা দিয়ে দারুণভাবে ঢুকে এসেছে বাঙালির ঘরে ঘরে। তাই বেড়েছে জনপ্রিয়তাও। ফলে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্যেও অর্কিডের চাহিদা বেশ ভালোই। তাই ঠিকঠাক পদ্ধতিতে অর্কিড চাষ করলে লাভবান তো হবেনই, সঙ্গে লাখপতি হওয়া আটকায় কে?
এই যেমন নদিয়া জেলার পারুলিয়া গ্রামের কৃষক অসীম মন্ডল যিনি ১৫ কাঠা জমিতে অর্কিড ফুল চাষ করে বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আয় করছেন।
তবে অসীমবাবু অর্কিডের একটিও কিন্তু মাটিতে চাষ করেননি। কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শ নিয়ে তৈরি করেছেন পলি হাউজ। সেখানেই মাটি ছাড়া ৩ ফুট উঁচু মাচায় চাষ করা হচ্ছে অর্কিড । কিভাবে, শুনে নেওয়া যাক।
পলি হাউজে চাষ করার সবথেকে সুবিধা হল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত তাপমাত্রা অর্কিড যেমন সহ্য করতে পারে না, তেমনই বৃষ্টির জল জমে গেলে পচন ধরার সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই একবার বিজ্ঞানসম্মতভাবে চাষ করতে পারলে ১৫ বছর পর্যন্ত এর ফলন পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এই পলি হাউজ তৈরি করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে একটা খরচ আছে। যদিও কৃষিবিজ্ঞান দফতর পাশে থাকলে আর্থিক দিক থেকে অনেকটা সুবিধে পাবেন কৃষকবন্ধুরা।
কৃষক বন্ধুদের পলি হাউজ ফার্মিংয়ে উৎসাহিত করতে সবসময় প্রস্তুত কৃষি দফতর। তার জন্য সেমিনারের আয়োজনও করা হয়ে থাকে। কয়েক বছর আগে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যানপালন দপ্তরের একটা সেমিনারে গিয়ে হর্টিকালচার বিভাগে ফুল চাষ দেখে উৎসাহিত হয়ে ছিলেন অসীম বাবু। তারপরেই পলি হাউজ তৈরির ভাবনা। আর শুধু অর্কিড নয়। বিভিন্ন জাতের ফুল যেমন ডালিয়া জারবেরা পাতাবাহারের মত বহু গাছ এই পলি হাউজে করা সম্ভব। একইসঙ্গে দেখা সম্ভব লাভের মুখও। বলছেন কৃষি বিজ্ঞানী সোমা গিরি।
বর্তমানে ১৫ কাঠা জমিতে অসীম বাবু চারা লাগিয়েছেন ৯ হাজার। এক বছর পর থেকে গড়ে ফুল পাওয়া যাবে ৪০ হাজার মত। প্রতি পিস ফুলের দাম যদি ১৫-২০ টাকা করে হয়, তাহলে বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।
বাঙালির শুভ অনুষ্ঠানে অর্কিডের ব্যবহার রয়েছে সবসময়। বিয়েতে ফুলের বোকে, কনে সাজানো থেকে ডেকরেশনের জন্য ব্যপক চাহিদা রয়েছে অর্কিডের। গাছ থেকে তোলার পরেও অন্তত এক মাস পর্যন্ত অর্কিড ফুল ভালোই থাকে। তাছাড়া পলিহাউজে অর্কিড চাষে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তেমন কোন ঝামেলাও নেই।
১ হাজার স্কোয়ার মিটার জমিতে পলি হাউস তৈরি করে ফুল চাষ করতে খরচ হয় ২১ লক্ষ টাকা আর সরকারি অনুদান পাওয়া যায় ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। অসীম বাবু তো এই অনুদান পাওয়ার পরেই নেমে পড়েন অর্কিড চাষে। কারণ বর্তমানে অর্কিডের ব্যবহার পৌঁছেছে তুঙ্গে। বাজারজাত করারও কোন সমস্যা নেই। তাই রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে অর্কিড। ফলে অর্কিডে লাভবান খানিকটা নিশ্চিত হওয়া যায়।
দেবস্মিতা মন্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা