Story
এতদিন হাঁস বা মুরগী প্রতিপালনের কথা আপনারা নিশ্চয়ই শুনেছেন? আমরা বিজনেস প্রাইম নিউজের পর্দায় অনেকবারই দেখিয়েছি হাঁস বা মুরগী প্রতিপালনের নানারকম খবর। এবার আজ আমরা দেখাব কোয়েল পাখি বা তিতির পাখি প্রতিপালন। হাঁস বা মুরগির থেকেও এই পাখির মাংস বেশি সুস্বাদু ও ডিম ও খাদ্যগুনে ভরপুর। তাই হাঁস, মুরগির সঙ্গে সঙ্গে এই কোয়েল পাখি প্রতিপালনের চাহিদাও এখন পুরুলিয়ায় তুঙ্গে।
পুরুলিয়ার রুক্ষ মাটিতে চাষাবাদের পাশাপাশি জাপানি কোয়েল প্রতিপালনে বেকার যুবকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত এই কয়েকবছরে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হল পুরুলিয়ার মত পিছিয়ে পড়া জেলাতে প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের সহযোগিতায় আজ বহু মানুষ স্বনির্ভর হতে পেরেছেন জাপানি কোয়েল বা তিতির পাখি প্রতিপালনের মধ্যে দিয়ে। অবলা হেমব্রম, সুরজমনি হাঁসদাদের জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিত্যসঙ্গী এই তিতির পাখি।
দেখতে ছোটখাটো হলেও এই পাখি খাদ্যগুনে সাধারণ হাঁস বা মুরগির তুলনায় অনেক বেশি পুষ্টিকর। অপরদিকে কোয়েলের মাংস ও ডিমে ফ্যাটের পরিমান অনেক কম ও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের জন্য এর মাংস খুবই উপকারী। তাই বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাকে এই তিতির পাখি পরিচর্যার জন্য রাখা হয়েছে।
এই তিতির পাখি পরিচর্যা করতে বিশেষ কিছু খরচা পড়েনা এবং বাজারে এর চাহিদাও বেশি থাকায় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই তিতির পাখি প্রতিপালন করেই লাভের মুখ দেখতে ছাইছে।
জাপানি কোয়েল বা চলতি কথায় তিতির নাম পরিচিত এই পাখির মাংস ও ডিম, পরিণত অবস্থায় ১৫০-২০০গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। ৬ সপ্তাহ বয়স থেকেই ডিম দিতে শুরু করে এরা। আর এই ডিমকে দুরকম ভাবে কাজে লাগাতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের।
প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের উদ্যোগে আত্মার আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় আদিবাসী মহিলা স্বনির্ভর দলের সদস্যরা সফলতার সঙ্গে জাপানি কোয়েল পাখি পালন করছেন। পাখিপালন শুরুর আগে দপ্তরের পক্ষ থেকে মহিলাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। আগামী দিনে এই পাখি পালন করে বিকল্প আয়ের একটা নুতন দিশা খুঁজে পাবেন বলে তারা আশাবাদী।
হাঁস, মুরগি প্রতিপালনের সঙ্গে সঙ্গে এবার জাপানি কোয়েল বা তিতির পাখিও স্বনির্ভরতার লক্ষে পাখি প্রতিপালনে নতুন দিশা দেখাচ্ছে বলাই যায়।
সন্দীপ সরকার, পুরুলিয়া