Story
বাঙালি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু দেশবাসীর আবেগ জড়িয়ে থাকে বাইশ গজের সঙ্গে। শুধু ব্যাটে-বলের যুদ্ধ দেখার জন্য কোটি কোটি ভারতবাসীর চোখ আটকে থাকে টিভি থেকে হালফিলে মোবাইলের পর্দায়। প্রথমে টেস্ট, সেখান থেকে ওয়ান-ডে। তারপর টি-২০। সময় যত পেরিয়েছে বদল এসেছে ক্রিকেটের ধরণে। সেই বদলের সঙ্গী থেকেছে গোটা ভারতবাসী। তাকে নিজের মতন করে আপনও করে নিয়েছে। ভারতবাসীর এই আবেগ ক্রিকেটকে বসিয়ে দিয়েছে পপুলারিটির সিংহাসনে। ফলে ভারতীয় ক্রিকেট একদিক থেকে যেমন হয়ে উঠেছে দেশবাসীর আত্মমর্যাদার একটি স্তম্ভ, তেমনই এই ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এক সুবিশাল ব্যবসা। যার সঙ্গে প্রতি সেকেন্ড জড়িয়ে থাকছে কোটি কোটি টাকা। তবে বাইশ গজের অর্থনীতির এই প্রসার ঘটেছে আইপিএল আসার পর।
২০০৮ সালে যখন প্রথম আইপিএল টিমের নিলাম বসে, তখন সবথেকে দামি টিম ছিল মুকেশ অম্বানির মুম্বই ইন্ডিয়ানস। সেই সময় এই দলের মোট ভ্যালু ছিল ৪৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এবারের সিজনে লখনউ সুপার জায়ান্ট কিনেছেন আরপিজি গ্রুপের ক্যাপ্টেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। খরচ হয়েছে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, আইপিএলের সিজন এলে যে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, সেই টাকা রিকভারি করা কতটা সহজ? এই গণিত খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু আমরা সেটাই বোঝার চেষ্টা করব, আইপিএলের ব্যবসা ঠিক কোন জায়গায় পৌঁছয়।
আইপিএলে টিম কেনার জন্য প্রথম ক্রাইটেরিয়া হল, যিনি টিম কিনতে চাইছেন, তার পার্সোনাল সম্পত্তির পরিমাণ থাকতে হবে ২৫০০ কোটি টাকা। এখানেই শেষ নয়। তাঁর কোম্পানির বার্ষিক ইনকাম থাকতে হবে ৩ হাজার কোটি টাকার উপরে। তবেই আইপিএলে দল কেনার জন্য ছাড়পত্র মিলবে। এই যে টাকার অঙ্কের কথা বললাম সেটার অধিকাংশটাই চলে যাবে ধরুন বিসিসিআইয়ের কাছে। এছাড়া প্লেয়ার কেনার খরচ আলাদা। ম্যানেজমেন্টের খরচ আলাদা। এছাড়াও হোটেল খরচা, প্লেয়ারদের থাকা, ফিল্ড স্টাফের মত আরও অনেক বিষয় রয়েছে যেখানে প্রতি বছর বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এতো টাকা খরচ করে যদি টিম কিনতে হয় তারপর সেই টাকা কি আদৌ রিকভারি করা সম্ভব? আলবাত হয়। কিভাবে সেটাই জানা যাক।
সবার প্রথমে মিডিয়া রাইটস। মানে কোন চ্যানেলে দেখানো হবে আইপিএল? সেটার ওপরেই নির্ভর করে অনেককিছু। যেমন স্টার ইন্ডিয়া গেল পাঁচ বছরে আইপিএলের মিডিয়া রাইটসের জন্য খরচ করেছে ১৬,২০০ কোটি টাকারও বেশি। এটা ছিল এই বছর পর্যন্ত। তবে এখন ২০২২-২০২৭ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জয় শাহ জানিয়ে দিয়েছেন, মিডিয়া রাইটসের বেস প্রাইস রাখা হবে ৩২ হাজার কোটি টাকার মতন। যা পাঁচ বছরের জন্য। তার মানে বছরে ৬ হাজার কোটি টাকার মতন। এর অর্ধেক টাকা যাবে বিসিসিআইয়ের কাছে। বাকি টাকা প্রত্যেকটি দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এরপর আসা যাক ফিল্ড গ্রাউন্ডে। সেখানে যত বিজ্ঞাপন দেখা যায়, তা সে একেবারে মাঠের মধ্যিখানে হোক বা বাউন্দারি লাইনে, সেখান থেকে যত টাকা আসে তার অর্ধেক চলে যায় বিসিসিআইয়ের কাছে। বাকি অর্ধেক ভাগ হয়ে যায় দলের মধ্যে। গেল সিজনে প্রতিটা দল এই ফিল্ড থেকেই আয় করেছিল ২১৫ কোটি টাকার মতন। এরপর রয়েছে ব্র্যান্ডিং। যেমন চেন্নাই সুপার কিংস। এই টিমের সঙ্গে ১৮টা ব্র্যান্ড যুক্ত থাকে। জার্সির কোন জায়গা ফাঁকা পাওয়া যায় না। এখান থেকেও আসে টাকা। যেটা সরাসরি পৌঁছে যায় টিমের মালিকের কাছে। এছাড়া তো টিমের তরফ থেকে লোগো লাগানো বিভিন্ন ধরণের পণ্য বিক্রি করা হয়। সেখান থেকেও উঠে আসে বড় রকমের টাকা। এছাড়াও যেখানে খেলা হবে, সেখানের টিকিট বিক্রির থেকেও একটা পারসেন্টেজ পৌঁছে যায় টিমের মালিকের কাছে। তার মানে দাঁড়াল, প্রতিটা টিম একেকটা সিজন থেকে আয় করে প্রায় ৬০০-৬৫০ কোটি টাকার মতন।
এটাই হল আইপিএলের সোজাসাপটা ম্যাথামেটিকস। যা বছর বছর শুধু বেড়েই চলবে, কমবে না। যত এই অঙ্কটা বাড়বে ততই টিমের মালিকদের ঘরেও পয়সাটা ঢুকবে সেভাবে। বর্তমানে আইপিএলের পপুলারিটি ফুটবলের ইউরো কাপের থেকে কোন অংশে কম নয়। ভবিষ্যতে সেটা আরও বাড়বে। সমানতালে বাড়বে আইপিএলের ব্যবসা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ