Daily
শিলিগুড়ির রঙের বাজার নাকি সরগরম। রং মানে কিন্তু আবিরের কথা বলছি। ওহ…আবির মানে এমনি কেমিক্যাল মেশানো আবির নয়। একেবারে ভেষজ আবির। বাজার ঘুরে যা দেখা যাচ্ছে, কোন আবিরই নাকি পড়ে থাকছে না। আবির বিক্রেতাদের জন্য সময়টা পোয়া বারো। শিলিগুড়িতে এখন হলদে, সবুজ, কমলা রঙের ভেষজ আবিরের চাহিদা দেখার মতন। কিন্তু হঠাৎ করে ভেষজ আবিরের চাহিদা এতো বাড়ছে কেন? আর কতই বা বিক্রিবাটা হচ্ছে? এই বিষয়ে পুরোটা জানলেন বিজনেস প্রাইম নিউজের প্রতিনিধি। সঙ্গে আমাদের ক্যামেরা ঘুরল শিলিগুড়ির বিভিন্ন বাজার।
দোল মানে রঙের খেলা। কিন্তু মাঝেমধ্যে সেই খেলা আবার ভয়ে পরিণত হয়। ইয়ে…রং…রং…রঙের কথা বলছি। আপনারাও না…দেখুন রঙ বা আবিরের চাহিদা দোলের আগে গোটা বাংলা জুড়েই অনেকটা বাড়ে। কিন্তু সেই আবিরে কেমিক্যাল মেশানো আছে কি নেই, সেই বিষয়ে কি আমরা জানতে পারি? একেবারেই না। রং খেলা হবার পরেই চর্ম রোগের সম্ভাবনা গ্যারান্টি- অনেকটা বেড়ে যায়। তাই শিলিগুড়ির নন টিম্বার ফরেস্ট প্রডিউস ডিভিশন যা কিনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, তারা একটা উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগটা বেশ ভালো। কেমিক্যালের ভয়ে মানুষ রঙের উৎসবে মাতবে না সেটা তো হতে পারে না। অতএব, তারা মনযোগী হয়েছে ভেষজ আবির তৈরিতে। মূলত তিন ধরণের আবির এখানে তৈরি করা হচ্ছে। কমলা, হলুদ এবং সবুজ। এখন আপনার মনে হতেই পারে, এই আবির তৈরি হচ্ছে কি দিয়ে? তাহলে বলে রাখি, গাঁদা, বেলপাতা এসব দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে ভেষজ আবির। বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে শুনুন কী বলছেন হেড ক্লার্ক সুব্রত পাল।
শুনলেন তো? তাহলে এটাও বলে রাখি যে এই বছর প্রায় ৪ কুইন্টাল ভেষজ আবির তৈরি করা হয়েছে। সাধারণত ৫০০ গ্রাম এবং ২৫০ গ্রামের প্যাকেটে এই আবির বিক্রি করা হচ্ছে। ২৫০ গ্রামের প্যাকেটের দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা। আর ৫০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম রাখা হয়েছে ৯০ টাকা মতন। যেটুকু জানা যাচ্ছে, শিলিগুড়ির বাজারে এখন এই ভেষজ আবির- জটায়ুর কথায় সেলিং লাইক হট কচৌরিজ। পড়তে পাচ্ছে না। কত কি বিক্রিবাটা হল? পরিষ্কার করলেন সুব্রত বাবু।
ভেষজ আবির তৈরি করার জন্য প্রিপারেশন নেওয়া শুরু হয় প্রায় ৬ মাস আগে থেকে। এমনিতে ৪ জন কর্মী রয়েছেন। এছাড়াও আউটসোর্সিং করা হয়। তারপর শুরু হয় ভেষজ আবির তৈরির কাজ। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে মহামারির জন্য সেই বছর সব আবির বিক্রি হয়নি। সামান্য কিছু রয়ে গেছে। আর যে কারণে চলতি বছরে আবিরের প্রোডাকশন একটু কম করা হয়েছে। কিন্তু কম হলে কী হবে? এই বছরে যেন আবিরের বিক্রি এক ধাক্কায় বেড়েছে অনেকটাই। আসলে, মানুষ সচেতন হচ্ছেন। তাই তাঁরাও অন্যান্য আবিরের কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন না। বরং ভেষজ আবির তৈরির দিকেই নজর রাখছেন।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি