Market

আমেরিকার মূল্যবৃদ্ধি পরিস্থিতি বেরিয়ে গেছে হাতের বাইরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সুদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত ছিল গত সপ্তাহেই। আমেরিকার ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিকে ঠেকনা দিতে চড়া হারে সুদ চড়িয়ে তা বেঁধে রাখার কথা বলেন আমেরিকার শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারাল রিজার্ভের কর্তা জেরোম পাওয়েল। আর এখানেই শুরু হয় গণ্ডগোল। আমেরিকার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যে বিশ্ববাজারে পড়বে, সেই সন্দেহ ছিল আগে থেকেই। ফলে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হবে শেয়ার বাজারে। আর হয়েছেও এমনটাই।
আমেরিকার ফেডারাল রিজার্ভের কর্তা পাওয়েলের বক্তব্যের পরেই ভালোরকম প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে। মুখ থুবড়ে পড়েছে সেনসেক্স এবং নিফটি। ভারতের বাজারে সেনসেক্স পড়েছে ১৪৬০ পয়েন্ট। যদিও বাজার বন্ধের সময় কিছুটা উঠে সূচক থামে ৫৭,৯৭২.৬২ অঙ্কে। কিন্তু গত শুক্রবারের তুলনায় অঙ্কটা প্রায় ৮৬১.২৫ পয়েন্ট কম। এদিকে ২৪৬ পয়েন্ট নেমে নিফটি থামে ১৭৩১২.৯০ পয়েন্টে। এক লহমায় ডুবে গেল লগ্নিকারীদের ২.৩৯ লক্ষ কোটি টাকা। পাওরেলের এই বক্তব্যের প্রভাব যে শুধু শেয়ার মার্কেটেই পড়েছে, এমনটাই নয়। প্রভাব পড়েছে টাকার দামেও। রেকর্ড পতন হয় টাকার। ডলারের দাম পৌঁছয় ৮০.১৫ টাকায়। যদিও মার্কেট বন্ধের সময় ক্ষতির অঙ্কটা কিছুটা সামাল দেওয়া যায়।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, পাওয়েল নাকি সুদ বাড়ানোর কথা বলেননি। তিনি বলেছেন আমেরিকার আর্থিক বৃদ্ধি থমকে গেলেও হলেও তারা বিচলিত হবেন না। আর এই কথাতেই হুরমুড়িয়ে পড়তে থাকে শেয়ার বাজার। কারণ আমেরিকার আর্থিক বৃদ্ধি টালমাটাল হলে তার প্রভাব পড়বে ইউরোপেও। প্রভাব পড়বে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য সহ আইটি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে।
একদিকে আমেরিকার সুদ বাড়ায় কদর বাড়ছে সেদেশের বন্ডের। অন্যদিকে ভারতের শীর্ষ ব্যাঙ্কও আগামী অক্টোবরে সুদ বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে। ফলে, ভারতের মার্কেট থেকে টাকা তুলে নিয়ে গিয়ে আমেরিকায় ইনভেস্ট করার প্রবণতা বাড়ছে। আর এর ফলে চরম ক্ষতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভারতের আবাসন এবং গাড়ি শিল্প। বাজার বিশেষজ্ঞরা অন্তত এটাই বলছেন। যদিও, ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি পজিটিভ। তাই বাজার ঘুরে দাঁড় করাতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না বলেই অভিমত একাংশের।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ