Daily
আসছে দোল, হোলি। রঙের উৎসবে মেতে উঠবে বাংলা সহ গোটা দেশ। তারপরেই চর্ম রোগ, এই রোগ, ঐ রোগ। আসলে উৎসব উপলক্ষ্যে রং বা আবিরে আমি-আপনি তো মেতে উঠলাম। তারপরেই সামলাতে হবে খরচের বহর। একবার রং কেনার খরচ। তারপর ডাক্তার, ওষুধের পেছনে খরচ। কারণ একটাই। এই ধরণের আবির কোথায় বা কিভাবে তৈরি হয়, যারা ছোট ছোট এলাকায় নিজেরা তৈরি করেন, সেগুলো শরীরের জন্য কতটা ভালো তার মাপকাঠি কে দেখবে? কিন্তু তাই বলে কি আবির খেলায় মেতে উঠব না আমরা? বসন্ত উৎসবের কৌলীন্য তাহলে কোথায় যাবে? না, না নিশ্চয়ই খেলব। সকলেই মাতব। কিন্তু ঐ সব আবির দিয়ে নয়। বরং ভেষজ আবির দিয়েই এবারের খেলা হবে। এতে করে চোখে, পেটে যেখানেই আবির চলে যাক না-কেন, তাতে আর যাই হোক শরীর খারাপ হবে না। সেই ভেষজ আবির তৈরিতে এখন দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। উৎসবের দিনে তাঁদের আয়ের পথ তৈরি হবে। অন্যান্য ক্রেতারাও ভেষজ আবির মেখে হইহই করে পালন করতে পারবেন দোল উৎসব। বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরা পৌঁছে গেছিল সেই সকল মহিলাদের কাছে। যারা আসন্ন দোল উৎসব উপলক্ষ্যে এখন ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত।
উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপরা ব্লকের ধন্দুগছ শক্তি ও সোনার তরী দলের মহিলারা যৌথভাবে ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ চার বছর ধরে এই ভেষজ আবির তৈরি করছেন তাঁরা। সঙ্গে বিক্রিও করছেন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। আর এই সকল মহিলাদের সম্পূর্ণভাবে সাহায্য করছে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। আর নয় রাসায়নিক উপকরণ। বরং এবারের আবির খেলায় মেতে ওঠা যাক ফল, ফুল পাতা ব্যবহার করে। চামড়ার ক্ষতি তো হবেই না, এমনকি চোখে-মুখে চলে গেলেও শারীরিক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা নেই। অঞ্জলি বোস দাস বা সোমা মণ্ডল দাসের মতন গৃহবধূরা সকলেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। তাঁরাই প্রশিক্ষন নিয়েছেন। এবং প্রশিক্ষণের পর তৈরি করছেন ভেষজ আবির। আয় বাড়ছে। সংসারের চাকা আরেকটু মসৃণ গতিতে ঘুরছে। ফলে তাঁদের মধ্যে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা। বিজনেস প্রাইম নিউজকে কী বললেন এঁরা, আসুন শুনে নেওয়া যাক।
সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, শিলিগুড়ির অরগানিক হাট, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্রি করা হয় এই আবির। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে তাঁদের দুটি ঘর দেওয়া হয়েছে। এখানেই আবির তৈরি করে প্যাকেটিং করা হবে। আপাতত দুটি রঙের আবির তাঁরা তৈরি করছেন। একটি হলুদ এবং অন্যটি গোলাপি। যা তৈরি করা হচ্ছে হলুদ এবং বিট দিয়ে। স্বনির্ভর মহিলাদের এই কর্মযজ্ঞকে স্বাগত জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, বাজারে যে রাসায়নিক আবির পাওয়া যায়, তাতে অনেকটাই শারীরিক ক্ষতি হয় মূলত শিশুদের। কিন্তু এই ধরণের ভেষজ আবির ব্যবহার করার জন্য এখন গ্রামবাসীরাও আর কেমিক্যাল আবির ব্যবহার করছেন না। বরং তাঁরাও চাইছেন স্বনির্ভর মহিলাদের হাতে তৈরি এই ভেষজ আবির।
এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ভেষজ আবির ব্যবহারের দিকে ক্রমশ ঝুঁকছে। আর শুধু ধন্দুগছেই নয়। আজ যত দিন যাচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় ভেষজ আবির তাঁরা পাঠাচ্ছেন। ফলে বছর বছর চাহিদা বাড়ছে ভেষজ আবিরের। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা যেভাবে কাজ করছেন, সেটা অন্যান্য মহিলাদের ভালোরকম ইনস্পায়ারড করছে। তাঁরাও এখন এই ভেষজ আবির তৈরির ব্যপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আর দুর্মূল্যের বাজারে, যদি উৎসবের আনন্দ কোনরকম ক্ষতি ছাড়া হয়, তার চেয়ে আর বড় কী? অতএব, ভেষজ আবিরের ব্যবহার যত বাড়বে ততই বসন্ত উৎসব মেতে উঠবে রঙের খেলায়।
অনুপ জয়সোয়াল
উত্তর দিনাজপুর