Market
একাত্তরের যুদ্ধে যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, তখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পাশে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের। তারপরেই বাংলাদেশের মিত্র দেশ হিসেবে তালিকায় নাম ঢুকে পড়ে রাশিয়ার। সেই মিত্রের সম্পর্ক বজায় রয়েছে এখনো। কিন্তু তারপরেও রাশিয়ার থেকে জ্বালানি তেল কিনতে গিয়ে দু’বার ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারকে। আর যে কারণে বাংলাদেশ রাশিয়ার তেল কিনতে এখন ভরসা রাখছে ভারতের ওপরেই।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তখন আমেরিকা সহ পশ্চিমি দেশগুলি রাশিয়ার ওপর জারি করে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু দেখা যায়, ভারত সেই সব নিষেধাজ্ঞাকে উড়িয়ে দিয়ে এখন কম দামে রাশিয়ার থেকে তেল কিনে চলেছে। এর কারণ অবশ্য, যখন একের পর এক দেশগুলো রাশিয়ার থেকে তেল বা জ্বালানি কিনতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছিল, তখন রাশিয়া ব্যারেল প্রতি কম দামে তেল কেনার প্রস্তাব দেয়। আর সেটাই লুফে নেয় ভারত এবং চিন। রাশিয়ার প্রস্তাব একইভাবে পৌঁছেছিল বাংলাদেশের কাছেও। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার সরাসরি রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে গড়িমসি করে। মনে করা হচ্ছে, ভারতের মাধ্যমে রাশিয়ার তেল কিনলে বাংলাদেশ বিভিন্ন রকম বাণিজ্যিক ঝুঁকি এড়াতে পারবে। সূত্রের খবর, ভারত এবং চিন বিশ্ব বাজারের দরের তুলনায় ৩৫% কম দামে রাশিয়ার থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল মজুদ করছে। তাই বাংলাদেশের কাছেও এই প্রস্তাব লোভনীয় ছিল।
মুশকিল হচ্ছে, বাংলাদেশের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কাছে এই মুহূর্তে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার মতন দক্ষতা বা প্রযুক্তি নেই। রাশিয়া অবশ্য পরিশোধিত তেল বিক্রির প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে জানায়, বাংলাদেশ পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার প্রযুক্তির সাহায্য নিতে পারে। কিন্তু সেখানেও একটা সমস্যা দেখছে হাসিনা সরকার। আমেরিকা সহ যে-সকল পশ্চিমা দেশগুলি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে, আজ বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারছে না। এদিকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম ভালোরকম। চাপে রয়েছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ রাশিয়ার তেল কিনলে দাম কমবে সেই দেশে। আখেরে লাভবান হবেন বাংলাদেশবাসীই। আর সেই সংশয় থেকেই ঘুরপথে ভারতের হাত ধরেই রাশিয়ার তেল কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ