Story
‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল’। সুকুমার রায়ের হযবরল-র এই জনপ্রিয় লাইনটির সঙ্গে খানিকটা মিল পাওয়া যাবে শান্তিরাম রাভার প্রথম শিল্পকর্মের। হাতে ছিল কাঠের টুকরো। বানাতে চেয়েছিলেন গরু, আর তৈরি করলেন গন্ডার। সেই কাজ এতটাই জনপ্রিয়তা পেল যে কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নিয়েও ফুরসত পাচ্ছেন না তিনি। শিল্পসৃষ্টির ব্যস্ততাই এখন তাঁকে ঘিরে রেখেছে।
আলিপুরদুয়ারের এক প্রত্যন্ত গ্রাম পূর্ব শালবাড়ি। পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে সংকোশ নদী নিজের মত। জল জঙ্গলে ঘেরা এই গ্রামটিতে বসবাস করেন রাভা জনজাতির মানুষ। তাঁদেরই এক কৃতী সন্তান শান্তিরাম রাভা। যিনি একসময় ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালে অবসর নেওয়ার পর শুরু হল তাঁর শিল্পকর্ম। খানিকটা হঠাৎ করেই। যা নিজেও হয়তো কোনদিন তিনি ভাবতে পারেননি।
২০০৫ এ তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছর। নিরন্তর পরিশ্রম এবং অফুরন্ত উৎসাহ আজ রাভা জনগোষ্ঠীর এই মানুষটিকে হস্তশিল্পে প্রশংসা এনে দিয়েছে। কিন্তু শুরুর পথ এতটা মসৃণ ছিলনা। কারণ রাভা জনজাতির মানুষের জীবনের অধিকাংশটাই কেটে যায় নেশার কবলে পড়ে। তবে শান্তিরামবাবু কিভাবে নিজেকে বের করে আনলেন, সেই কথা জানালেন আমাদের ক্যামেরায়।
শান্তিরামবাবু আপাতত একাই শিল্পসৃষ্টিতে মগ্ন রয়েছেন। প্রয়োজন পড়লে তাঁকে সাহায্য করে একমাত্র ছেলে হৃষিকেশ রাভা।
আজ শান্তিরামবাবুর কাঠের কাজ রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এমনকি তাঁর কাজ দেশের বাউন্ডারি ছাড়িয়ে চলে গিয়েছে বাংলাদেশ, জাপানেও।
শান্তিরাম বাবু আজ সচরাচর অবসর জীবনের আঙ্গিক থেকে বেরিয়ে নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করেছেন তা যে কোন বেকার মানুষের আয়ের পথ তৈরি করে দেবে। তাই বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায় বলেই দিয়েছেন, বেকার মানুষ এই কাঠের তৈরি শিল্প বিক্রি করে ভালো আয় করতে পারবেন। এমনকি ইচ্ছুক কেউ শান্তিরামবাবুর কাছে শিখতে এলেও বিনাপয়সায় শিখিয়ে দেবেন সেই কাজ।
অভিজিৎ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার