Story
উত্তরবঙ্গের মুনমুন সরকার হোক বা হাবড়ার সুব্রত মিশ্র- এই দুজনের মধ্যেই কোথাও একটা রয়েছে মিল। অতিমারি পরিস্থিতিতে যখন পাশের মানুষ মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন, ঠিক তখনই করোনায় আক্রান্ত রোগীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। করোনা আক্রান্ত রোগী সহ পরিবার যেন এদের টোটো অ্যাম্বুলেন্সের জন্যই আজ অনেকটা নিশ্চিন্ত।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়া পুরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কামারথুবা এলাকার বাসিন্দা সুব্রত মিশ্র। যিনি পেশায় টোটো গাড়ির ডিলার। আজ তিনিই করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালেন বন্ধুর মত। একটা টোটো গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে সাধারণের সুবিধার জন্য দান করে দিলেন হাসপাতালে। এই বাহনই এখন হাবড়াবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে আপৎকালীন বন্ধু। এই অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে লেখা রয়েছে ফোন নাম্বার। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের বাড়ি থেকে হাসপাতাল কখনও বা হাসপাতাল থেকে বাড়ি, এক ফোনেই ছুটে আসছে টোটো।
কিন্তু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ভাবনা এলো কিভাবে? সুব্রতবাবু নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রীও। কিন্তু বিপদের সময় সকল মানুষ মুখ ঘুরিয়ে নেয়। হাসপাতালে পৌঁছে দেবার মত কেউ ছিল না। একরকম অসহায় হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তারপর নিজেই ঠিক করেন তিনি নিজে যে বিপদের মুখে পড়েছেন, সেই বিপদে আর কাউকে পড়তে হবে না।
যেহেতু একজন চালক ও মেনটেনেন্স এর জন্য পয়সার প্রয়োজন তাই খুবই সামান্য কিছু অর্থ দিতে হয় যাত্রীকে। তবে যেসকল করোনা আক্রান্ত পরিবারের পয়সা দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাদের বিনা পয়সায় হাসপাতালে পৌঁছতে দেবে এই টোটো অ্যাম্বুলেন্স। ড্রাইভারকে দেওয়া আছে তেমনই নির্দেশ।
তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন হাবড়া হাসপাতালের সুপার বিবেকানন্দ বিশ্বাস। তাঁর মুখেই উঠে এলো করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং তাঁর পরিবারকে যাতায়াতের জন্য কি ভয়ানক সমস্যায় পড়তে হয়।
পাহাড় থেকে সমতল কোথায় যেন বাধা পড়ল একই সুতোয়। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন উত্তরবঙ্গের মুনমুন সরকার থেকে হাবড়ার সুব্রত মিশ্র। যখন অতিমারি একে একে বন্ধু বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে তখন এরাই এগিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন, মর্যাদা রেখেছেন বন্ধুত্বের।
গৌরব দেবনাথ, হাবরা