Story
ইয়াসের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে জনজীবন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। কারোর বিঘের পর বিঘে জমির ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে, কেউ বা হারিয়েছেন তাদের পোষ্যদের। যাদের ওপর নির্ভর করেই উত্তর ২৪ পরগনার কৃষক এবং প্রাণীপালকেরা সংসার চালানোর জন্য দুটো পয়সা আয় করতেন। সব হারিয়ে আজ তাদের কাছে যখন শুধু ‘নেইয়ের হাহাকার ঠিক তখনই ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীপালকদের পাশে এসে দাঁড়াল রাজ্য সরকার।
দুয়ারে রেশন, দুয়ারে ভ্যাকসিনের পর এবার দুয়ারে ত্রাণ। আর এই দুয়ারে ত্রাণ এবার চালু হল পোর্টালে। যার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য করা হবে বলে জানালেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রাণীসম্পদ বিকাশ এবং উপ-আধিকারিক কর্তা ডঃ উত্তম কুমার দে।
এছাড়াও ইয়াসের কারণে যেসকল ব্লকগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে মূলত রয়েছে বসিরহাট সাব ডিভিশনের চারটি ব্লক, সেইসকল ব্লকগুলোতে অসুস্থ হয়ে পড়া গরু, বাছুরের মত পোষ্যদের চিকিৎসা যেমন করা হচ্ছে তেমনই চলছে এই পশুগুলির টিকাকরণ প্রক্রিয়া। আর এই গোটা বিষয়টাই করা হচ্ছে হেলথ ক্যাম্পের মাধ্যমে।
শুধু ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকাই নয়, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৭৬৫৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৫০টি করে মুরগির বাচ্চা এবং ৮৮২টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৫০টি করে হাঁসের বাচ্চা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও আর কি কি ভাবে সরকার পাশে এসে দাঁড়াবে, সেটাও জানালেন উত্তমবাবু।
আবেদনের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের নাম উঠেছে দুয়ারে ত্রাণ পোর্টালে। যাচাই করে দেখা হবে ক্ষতিগ্রস্তদের কতটা ক্ষতি হয়েছে। সেই মতই দুয়ারে ত্রাণ থেকে করা হবে আর্থিক সহযোগিতা।
ইতিমধ্যেই ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে ক্যাম্প করে আবেদনপত্র নেওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা আর্থিক সহায়তার। যা ইয়াস বিধ্বস্ত মানুষগুলোকে অনেকটাই সাহায্য করবে ঘুরে দাঁড়ানোয়।
বিক্রম লাহা, উত্তর ২৪ পরগনা