Story

ইয়াসের দাপটে বিধ্বস্ত হয় চাষাবাদ। সাগরের নোনা জল উঠে আসায় ব্যাপক ক্ষতি হয় চাষজমির। কৃষকবন্ধুরা পড়েন চরম সংকটে। কিন্তু কৃষি দফতর যদি পাশে থাকে তবে অসাধ্য সাধনও সম্ভব। আর সেটাই কার্যত করে দেখালেন পূর্ব মেদিনীপুরের লক্ষ্মীকান্ত দিন্দা। ট্রেতে শুরু করলেন রসুন চাষ। আর চাষ করে কৃষকের আশার পারদ বাড়ছে অনেকটাই।
পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা রামনগরের ২ নং ব্লক। যেখানে নোনাজল প্রবেশ করায় বর্তমান সময়ে এই মাটি হয়েছে চাষের অনুপযুক্ত। কিন্তু কৃষক লক্ষ্মীকান্ত দিন্দা বিভিন্ন চাষের মাঝে কৃষি দপ্তরের আতমা প্রকল্পের সহযোগিতায় রসুন চাষ করছেন প্রায় ২২ টি প্লাস্টিক ট্রের উপরে। যা চাষ করে আশাবাদী কৃষক লক্ষ্মীকান্ত দিন্দা থেকে কৃষি আধিকারিক প্রত্যেকেই। এমনকি আগামি বছরেও তিনি যে রসুন চাষ করবেন সেই সিলমোহর দিয়ে দিলেন এখনই।
প্রাথমিক পর্যায়ে একটু ভয়ভীতি থাকলেও এখন গাছের গ্রোথ হয়েছে বেশ ভালো। বর্তমানে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ দিন বয়স হয়েছে রসুন গাছগুলির। আর মাসখানেকের মধ্যে ফলনও উঠে আসবে। যা স্বাভাবিকভাবেই কৃষকের আর্থিক ভিতকে অনেকটাই মজবুত করে দেবে।
পুরোপুরি জৈবিক প্রক্রিয়ায় রসুন চাষ করানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল কৃষকদের। একইসঙ্গে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বীজ, ওষুধের মত একাধিক জিনিস। যাতে কৃষক মাটির সংস্পর্শ না পেয়েও ভালোভাবে রসুন চাষ করতে পারেন। আজ সেই সাফল্য মিলেছে একেবারে হাতেনাতে।
কৃষিবিভাগ যথেষ্ট সহায়তা করায় এখন রসুন চাষে রীতিমতো খুশি কৃষক লক্ষ্মীকান্ত দিন্দা। একইসঙ্গে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন ব্লকের অন্যান্য কৃষকরাও। আগামিদিনে তাঁরাও ট্রেতে রসুন চাষে রীতিমত আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
প্রসূন ব্যানার্জী
পূর্ব মেদিনীপুর