Market
টাকার দামে ভালোরকম পতন দেখেছে দেশবাসী। যা কার্যত চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে দেশের অর্থনীতিবিদদের কপালে। ফলে টাকার দামে পতন রুখতে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ভরসা রেখেছে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণের উপরে। কিন্তু সেটাও যে খুব একটা স্বস্তিতে রাখছে না। জানা গিয়েছে, টাকার দামে পতন আটকাতে বিদেশি মুদ্রাকেই ব্যবহার করছে আরবিআই। এর ফলে, গত এক মাসে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ কমেছে প্রায় ২৬০০ কোটি ডলার। যে কারণে বর্তমানে দেশে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪,৫০০ কোটি ডলারে। আর সেটাই চিন্তার আসল কারণ বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
আমদানি খরচের পাশাপাশি অর্থনীতিতে টালবাহানা তৈরি হলে তখন বিদেশি মুদ্রার উপরেই ভরসা রাখতে হয় দেশবাসীকে। কিন্তু আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যদি এভাবে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ একনাগাড়ে কমতে থাকে সেক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেল সহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতে ভালোরকম সমস্যা তৈরি হতে পারে। আর এভাবে বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী দলগুলি। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, ডলারের নিরিখে অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রা রয়েছে অনেকটাই মজবুত জায়গায়। এদিকে মূল্যবৃদ্ধির কোপে পড়ে হাঁসফাঁস করছে দেশবাসী। মূল্যবৃদ্ধির মোকাবিলা করার জন্য শীর্ষ ব্যাঙ্ক মাসিক কিস্তির খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রভাব যে ভালোরকম পড়তে চলেছে, সেটাও অজানা নয়।
তাই বহু অর্থনীতিবিদ বর্তমানে এই বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাঁরা মনে করছেন, আদৌ বিদেশি মুদ্রা বিক্রি করে টাকার দামের পতন আটকানো সম্ভব কিনা, রয়েছে সেই নিয়েও সংশয়। তাই প্রবাসী ভারতীয়দের দেশে ডলার পাঠানোর জন্য লাগাতার উৎসাহ দিয়ে আসছে। তাঁরা মনে করছেন, দেশে ডলার আসার ফ্লো সুস্থির রাখাটাই এখন কেন্দ্রের কাছে এবং অবশ্যই দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক আরবিআইয়ের কাছে সেটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন কিভাবে বিদেশি মুদ্রা আসার রাস্তা মসৃণ রাখা যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ