Story
খামার তো অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু ভাসমান খামার দেখেছেন কি? এমন খামার দেখেছেন কি যেখানে যেতে গেলে নৌকো লাগে? খালি পায়ে বা গাড়ি করে পৌঁছতে পারবেন না মলয়বাবুর এই খামারে। এই খামারে আপনাকে পৌঁছতে হলে যেতে হবে ডিঙ্গি নৌকোয় চড়ে। হাঁস, মুরগি অনেক সময়েই লোকালয়ে পরিবেশ দূষণ করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তাই একেবারে খড়ের বিছানায় লোকালয় থেকে বহুদূরে ভাসমান খামার করে স্বনির্ভরতার পাশাপাশি পড়শিদেরও রোষের আঁচ থেকে বাঁচিয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন মধ্য চল্লিশের এই প্রাণী পালক। ছিলেন রাজমিস্ত্রী কিন্তু অসাধ্য সাধন করে আজ তিনি একজন সফল হাঁস ফার্মের মালিক। আর সেই গল্পই ধরা পড়ল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পুরন্দরপুর গ্রামের যুবক মলয় আচারিয়া। বছর পাঁচেক আগে মাত্র ১৫টি হাঁসের বাচ্চা দিয়ে শুরু করেছিলেন হাঁস পালন। সেই ১৫টি হাঁসের জায়গায় বর্তমানে প্রায় ৪ টি প্রজাতির ৪০০ হাঁস পালন করছেন তিনি । আর এর ফলে খরচ বাদে তার মাসিক আয় হচ্ছে প্রায় ২৫,000 টাকা।
রাজমিস্ত্রী থেকে পশু পালক মলয়বাবু জীবনে আজ প্রতিষ্ঠিত। কিভাবে শুরু করলেন তাঁর এই যাত্রা পথ শুনে নেব।
বর্তমানে প্রায় ৪টি প্রজাতির হাঁস পালন করছেন মলয় বাবু।হোয়াইট পিকন, ঝিনুক কুচি,ক্যাম্বেল এবং রাজহাঁস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে প্রাণী পালনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু। এই হাঁস প্রতিপালন করতে তিনি জেলা কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রচুর মানুষের সাহায্য পেয়েছেন বলে জানালেন।
আমাদের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় মলয় আচারিয়া জানান সাধারণ ভাবে হাঁস পালন করতে গেলে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয় মলয় বাবুর এখানে হাঁস পালন করতে সেরকম খরচ লাগছে না। ইচ্ছে শক্তির জোরে তাঁর এই অভিনব পদ্ধতিতে পশুপালন এলাকার বেকার যুবকদের কাছেও এখন দৃষ্টান্ত।
অভিনব পদ্ধতিতে পশুপালন করে এবং নিজের চেষ্টায় কিভাবে আজ জীবনে আজ প্রতিষ্ঠিত মলয় বাবু। তাই আপনারাও যদি এই অভিনব পশু পালন দেখতে চান তাহলে তো একবার ঘুরে যেতেই হবে মলয় আচারিয়ার ভাসমান ফার্মে।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা