Daily
মাছ চাষ একটি লাভজনক চাষ তো বটেই। আর যদি এই চাষকে আরও বেশি মন দিয়ে মৎস্য বিভাগ এবং কৃষি দফতরের সহায়তায় করা হয় তাহলে মাছ চাষ করে লাভবান হতে পারবেন অনেকেই। অন্যান্য মাছ চাষ করার থেকে যদি শিঙি মাছকে চাষ করা হয়, তাহলে লাভের অঙ্ক আরও কিছুটা বাড়তে পারে। তাই শিঙি মাছ চাষ করানোর ব্যপারে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য দফতর। সেই ছবিটাই ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়।
সম্প্রতি ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কোলাঘাট ব্লক কৃষি দফতরের সহায়তায় এবং কোলাঘাট ব্লক মৎস্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দশটি প্রদর্শনী ক্ষেত্র করা হয়। প্রথমে ছোট শিঙি মাছের চারা তুলে দেওয়া হয় চাষিদের হাতে। চাষিরা আঁতুড় পুকুরে দেড় মাস ধরে শিঙি মাছ লালন পালন করেন। তারপর মাছগুলিকে স্থানান্তরিত করেন পালন পুকুরে। চাষিরা লক্ষ্য করেছেন, কোলাঘাট ব্লকের কৃষি দফতরের সহায়তায় আজ এই শিঙি মাছের চারাগুলি যথেষ্ট ভালোহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই পুরো কর্মকাণ্ডটি হচ্ছে কোলাঘাট ব্লকের সাহাপুর গ্রামের কৃষকবন্ধু পুকুরে। আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই গ্রামের ফটিক মান্না ১২০০ শিঙি মাছের চারা পেয়েছিলেন কয়েক মাস আগে। সেই চারাগুলিকে লালনপালন করেছেন তিনি। ঠিকঠাক পরিচর্যা করার কারণে মাছের সাইজ ভালোরকম বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন স্থানীয় কোলাঘাট বাজার এবং দেউলিয়া মাছের আড়তে এই মাছগুলি বিক্রি করা শুরু করেছেন। বলাই বাহুল্য লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন তিনিও। এই বিষয়ে ফটিক মান্না নিজে কী বললেন শুনে নেওয়া যাক, তিনি বলেছেন সহযোগিতা বলতে তিনি শুধু মাছ গুলো পেয়েছেন মাছের খাবার গুলো পেলে আর ভাল হত। মাছের সংখ্যা মোট ১২০০। তিনি আর বলেছেন শিঙি মাছকে চাষ করা খুবই লাভজনক । শিঙি মাছকে সন্ধ্যে বেলায় খেতে দেওয়া হয় তারপর পরিচর্যা করতে হয়।
মাছের চাষ কেমন কী হচ্ছে, সেটা পর্যবেক্ষণ করতে আসেন কোলাঘাট ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা সমীরণ ধাড়া। তিনি রীতিমত খুশি ফটিক মান্নার এই মাছ চাষ দেখে। তিনি মনে করেন, প্রগতিশীল কৃষকরা যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসেন এভাবে, তাহলে কৃষি দফতরের সহায়তা পেয়ে তাঁরাও লাভের অঙ্ক অনেকটাই বাড়াতে পারবেন। ফটিক বাবুর এই মাছ চাষ দেখে তিনি কি বললেন, সেটা শুনে নেওয়া যাক।
তবে ফটিক মান্না বলেই নয়। শিঙি মাছ চাষে আগ্রহ দেখিয়ে নজির তৈরি করেছেন পথিক পাল নামের আরেক মাছ চাষি। তিনিও মৎস্য বিভাগ এবং কোলাঘাট ব্লক কৃষি দফতরের সহায়তায় এই মাছ চাষ করছেন। শিঙি মাছ চাষের যে ভালোই লাভজনক, সে-কথা জানালেন পথিক পাল নিজেও। কী বললেন তিনি শুনে নেওয়া যাক।
শুধু মাছ চাষ করলেই হল না। নতুন নতুন পদ্ধতি এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে যদি মাছ চাষ করা যায়, তাহলে শিঙি মাছের চাষ করেই একেকজন মৎস্যচাষি ভালোরকম আয়ের পথ খুঁজে নিতে পারবেন। আর কৃষকদের কোন সমস্যার মুখোমুখি পড়তে হলে সেক্ষেত্রে মৎস্যবিভাগ তো রয়েছেই। যাদের পরামর্শ মেনে চললে, একজন মৎস্যচাষি দিনের শেষে ভালো টাকা লাভ করতে পারবেন। আর সেটাই আপাতত করে দেখাচ্ছেন কোলাঘাট ব্লকের সাহাপুর গ্রামের কৃষকবন্ধুরা।
প্রসূন ব্যানার্জী
পূর্ব মেদিনীপুর