Story
ঘূর্ণিঝড় ইয়াস চলে গিয়েছে দিন সাতেক। জল যখন একটু একটু করে নামছে উপকূলবর্তী গ্রামগুলো থেকে ততই চওড়া হচ্ছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ।
ব্যাপক সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে দুই মেদিনীপুর, দুই পরগনা সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সমুদ্রের জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে হাজার হাজার হেক্টর জমি। মাছের ভেরি থেকে বসতবাড়ি। সবই ছিল জলমগ্ন।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রথমে বোঝা না গেলেও দিন গড়াতেই সরকারি দপ্তরে জমা পড়তে থাকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। ইয়াসের কবলে পড়ে ২৪৩ হেক্টর মিষ্টি জলের ভেরি ও ২৫০ হেক্টর নোনা জলের ভেরি সম্পূর্ণরূপে আজ বিপর্যস্ত। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৪০০ কোটি টাকা।
দুই মেদিনীপুর সহ দুই ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন ব্লকে আজ শুধুই ভেসে উঠছে টনটন মরা মাছ। রূপনারায়ন ও গঙ্গা দিয়ে ভেসে গিয়েছে টনটন ভেনামি, বাগদা সহ বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি মাছ। হঠাৎ করে নদীতে মাছ মেলায় পৌষে ভর করা জনগণকে সামলাতে কোথাও কোথাও আসরেও নামতে হয়েছে পুলিশকে।
সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক থেকে শুরু করে দু’নম্বর ব্লক, হিঙ্গলগঞ্জ, বাসন্তী, পাথরপ্রতিমা, নামখানা, মৌসুনি দ্বীপ সব জায়গাতেই একই চিত্র। মরা মাছের গন্ধে আজ টেকা দায়।
ইয়াসের আসন্ন প্রভাব থেকে চাষীদেরকে সতর্ক করেও খুব একটা লাভ হয়নি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের। ধ্বংসের ব্যাপক প্রভাব পড়ে এখানে।
মৎস্যচাষীদের মাথায় যেভাবে লোকসানের আকাশ ভেঙে পড়েছে তার থেকে চাষীদেরকে বার করে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারি সদিচ্ছার কথা এলাকায় ঘুরে ঘুরে জানালেন রাজ্যের মৎস্য মন্ত্রী।
দুই ২৪ পরগনার চক্রবর্তী মানুষজন আইলা, আম্ফান, বুলবুল সহ বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় দেখেছো কিন্তু ইয়াসের মত রাক্ষসের ঝড় তাদের বাপ-দাদারা দেখেছেন কিনা তাছাড়াও মনে করতে পারছেন না।
দেবস্মিতা মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা